রবিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / দুমাস থেকে পাঠদান বন্ধ, দিশেহারা সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা

দুমাস থেকে পাঠদান বন্ধ, দিশেহারা সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা

গোটা দেশে কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের (পূর্ব নাম রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্হান) ১২টি পরিসর রয়েছে।

দীপক রঞ্জন নাথ

আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে পরীক্ষার, কিন্তু ছাত্র ছাত্রীদের দ্বিতীয় সেশনের দশ শতাংশ পাঠদান এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই অচলাবস্থা আগরতলা কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের একলব্য পরিসরের। ইউজিসির নির্দেশ অনুসারে ৩১ আগষ্টের মধ্যে দ্বিতীয় সেশনের যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু অতিথি ও চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষকদের পুনর্নিযুক্তি না হওয়ায় প্রায় দুই মাস থেকে ঘরে বসে রয়েছেন শিক্ষকরা, এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাও লাটে উঠেছে। পরিসরের কুলপতি নাথাকায় তথাকথিত শিক্ষকদের ফাইল আটকে রয়েছে, যার ফল ভোগ করছে ছাত্র ছাত্রীরা। গোটা দেশে কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের (পূর্ব নাম রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্হান) ১২টি পরিসর রয়েছে। প্রতিটি পরিসরেই ব্যাকরণ, জ্যোতিষ, বেদান্ত, সাহিত্য, বৌদ্ধদর্শন, শিক্ষা শাস্ত্রের পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা, কম্পিউটার, রাজনীতি শাস্ত্র ইত্যাদি শিক্ষা দান করা হয়। আগরতলার শাখা বা পরিসরটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। ২০১৩ সনে আগরতলার রাধানগরে একলব্য পরিসরটি যাত্রা আরম্ভ করে। ত্রিপুরা ছাড়াও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য থেকে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী শুদ্ধ সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণের জন্য এই পরিসরে এসে ভর্তি হয়। এখানে ৬০ শতাংশ প্রভাষকই অতিথি অথবা চুক্তি ভিত্তিক পাঠদান করে থাকেন। তাঁদেরকে প্রতি শিক্ষা বর্ষ শেষে একমাসের জন্য রেহাই দেওয়া হয়, কিন্তু বর্তমান শিক্ষা বর্ষের মাঝখানে তাদেরকে রদ করার প্রায় দুই মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও পুনর্নিযুক্তি না দেওয়ায় বিরাট অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুলপতি না থাকার জন্য এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, মাস দেড়েক আগে কুলপতির কার্যকাল সমাপ্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পদটি খালি রয়েছে। নতুন কুলপতি যোগদান না করায় এবং ভারপ্রাপ্ত কুলপতি না থাকায় প্রয়োজনীয় ফাইলের কোনো কাজ এগোচ্ছেনা। এই অচলাবস্থা ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এক ঘোর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে তাদের অবিভাবকরাও উদ্বিগ্ন।

এই অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিসরের নির্দেশকও। তিনি ছাত্রছাত্রী ও প্রভাষকদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠালেও এপর্যন্ত কেবল আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। অপরদিকে অস্থায়ী প্রভাবকরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কুলপতি নিযুক্তির আগে প্রভাষকদের পুনর্নিযুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিলে শিক্ষানুরাগী ছাত্রছাত্রীরা সহ তাদের অবিভাবক ও অস্থায়ী প্রভাষকরা যে দুশ্চিন্তা মুক্ত হবেন একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।