রবিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / অসম-মিজোরাম সীমান্তে কমান্ডো বাহিনীর পাহারা থাকবে : হিমন্ত বিশ্ব

অসম-মিজোরাম সীমান্তে কমান্ডো বাহিনীর পাহারা থাকবে : হিমন্ত বিশ্ব

বুধবার ভোর পাঁচটা থেকে ১২ ঘণ্টার বরাক উপত্যকা বন্ধের ডাক দিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

শতানন্দ ভট্টাচার্য

অসম মিজোরাম সীমান্ত বিবাদ সমাধান করতে সুপ্রিম কোর্টের সাহায্য চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা । গতকাল অসমের কাছাড় জেলার অসম মিজোরাম সীমান্তের লায়লাপুরে মিজোদের ছোঁড়া গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার পর শর্মা আজ শিলচর এসে সাংবাদিকদের জানান যে অসমের এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেওয়া হবে না মিজোরাম কে। শর্মা হুংকার দিয়ে ঘোষণা করেন অসমের কাছাড়, করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দির সাথে থাকা ১৬৪.৬ কিলোমিটার মিজোরাম সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্যে অসম সরকার প্রায় ৪০০০ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে আরো প্রান দিতে প্রস্তুত অসম। তবু ভারতীয় কারো বিরুদ্ধে গুলি চালানো হবে না। পাশাপাশি সতর্ক করে দেন এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। সীমান্ত সুরক্ষার জন্যে তিনটি কমান্ডো ব্যাটেলিয়ান পাঠানো হবে।প্রতিটি ব্যাটেলিয়ানে ১২০০ কমান্ডো জওয়ান সর্বক্ষণ সীমান্ত প্রহরায় থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন নিহত পাঁচ জওয়ানদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকা করে এককালীন সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রতিটি পরিবারের নিকটাত্মীয়দের একজনকে সরকারি চাকরিতে নিযুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া যে ৪২ জন জওয়ান জখম হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হবে। মিজোরামের সীমান্ত সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মীদের এক মাসের বেতন অতিরিক্ত প্রদানের জন্য তিনি এদিন ঘোষণা করেছেন।

এদিনই বিমান বাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আহত পুলিশ সুপার বৈভব নিম্বালকর চন্দ্রকান্তকে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধলাই থানার ওসি সাহাবুদ্দিন সহ তিনজনকে পৃথক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী শিলচর এসে পৌঁছেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। এরপর সীমান্তের লায়লাপুরে মিজো দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত পাঁচ পুলিশ কর্মী ও জওয়ানকে মঙ্গলবার শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন দুপুরে কাছাড়ের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গান স্যালুটে প্রয়াত জওয়ানদের অভিবাদন জানানোর পর তাদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শহীদ পুলিশ কর্মী ও জওয়ানদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলার অভিভাবক মন্ত্রী অশোক সিংহল, রাজ্যের জল সম্পদ ও জনসংযোগ মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা, রাজ্য পুলিশের বিশেষ সঞ্চালক জিপি সিং, রাজ্যের পুলিশ প্রধান ভাস্করজ্যোতি মহন্ত, দক্ষিণ অসমের ডিআইজি দেবজ্যোতি মুখার্জি, জেলাশাসক কীর্তি জল্লি সহ অন্যান্যরা। এরা প্রত্যেকেই প্রয়াত জওয়ানদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় তিন বিধায়ক কৌশিক রাই, দ্বীপায়ন চক্রবর্তী এবং করিম উদ্দিন বড়ভূঁইয়া।

এর আগে সকালেই হাফলং থেকে হেলিকপ্টারে এসে শিলচরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নেমে সোজা চলে যান শিলচর মেডিকেল কলেজে। সঙ্গে ছিলেন জেলার অভিভাবক মন্ত্রী অশোক সিংহল, ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি মহন্ত, বিধায়ক দ্বীপায়ন চক্রবর্তী, কৌশিক রায়,বিধায়ক করিম উদ্দিন বড়ভুইয়া, আইজিপি, ডিআইজি, ডিসি। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপার বৈভব নিম্বালকর সহ গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন সকলের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। পরে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার এবং বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র ত্রুটি যেন না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী সীমান্ত বিবাদের ঘটনায় শহীদ হওয়া পুলিশ কর্মী ও জওয়ানদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মিলিত হন। হঠাৎ করে তাদের পরিবারে এই মারাত্মক সংকট নেমে আসায় মৃত পুলিশের পরিবারের লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দিয়ে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।এদিকে মিজোরামের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর জন্যে অসম পুলিশ দায়ি বলে দাবি করেছে। মিজোরামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বয়ানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে অসম পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার সকালেই উচ্ছেদ অভিযানের নামে সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে ভাংচুর করেছে এবং গুলি চালিয়েছে।

কাছাড় জেলার ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা লায়লাপুরে মিজোরাম সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার জন্যে স্থানীয় ক্ষুব্ধ মানুষ বরাকের জন প্রতিনিধিদের দায়ি করেছেন। বিশেষ করে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক তথা দুবারের মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্যকেই দায়ি করেছেন। মানুষের অভিযোগ বরাক উপত্যকার আসল সমস্যা সম্পর্কে এই নেতা অবগত নন এবং সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ।

এদিকে ক্ষুব্ধ মানুষ আজ বিভিন্ন স্থানে পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। হাইলাকান্দির অসম মিজোরাম আন্ত রাজ্য জাতিয় সড়কের কৃষ্ণপুর এলাকায় মিজোরামের সাথে সংযোগকারী রেল ও সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ মানুষ প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইনের ট্র্যাক উপড়ে ফেলেন মোহাম্মদপুর স্টেশনে, ফলে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে।

একইভাবে কাছাড় জেলার কাবুগঞ্জেও ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তা অবরোধ করেন।গুলি চালানোর প্রতিবাদে বুধবার ভোর পাঁচটা থেকে ১২ ঘণ্টার বরাক উপত্যকা বন্ধের ডাক দিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।