বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / হিমন্তবিশ্ব সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ, বরাক বঞ্চিত, ক্ষুব্ধ বিডিএফ

হিমন্তবিশ্ব সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ, বরাক বঞ্চিত, ক্ষুব্ধ বিডিএফ

বাজেট প্রস্তাবে বরাক উপত্যকা বঞ্চিত হওয়ায় প্রতিবাদে সরব হল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

মিঠুলাল চৌধুরী

অসমের ইতিহাসে প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে অজন্তা নেওগ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন। কারণ এর আগে অসমে কোন মহিলা এই দফতরের দায়িত্ব পালন করেননি। এবারের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলও যথেষ্ট ছিল। অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতায় মধ্যবিত্তের খুশি হওয়ার মতো তেমন কোন প্রস্তাব ছিল না । আর যেভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে কল্পতরুর মতো বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেই বৃহৎ পরিমাণ টাকা কোথা থেকে আসবে তাও নির্দিষ্টভাবে বলেননি অর্থমন্ত্রী। উল্লেখ্য, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর থেকেই হিমন্তবিশ্ব শর্মা সরকার পরিচালনার নিয়ম পাল্টে ফেলতে চাইছেন। এবং এটা গত দু’মাসে তিনি বুঝিয়েও দিয়েছেন।

শুক্রবার অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগের বাজেটেও, মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ম পরিবর্তনের প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে করোনা মহামারীর এই আবহে অর্থনীতি যখন বেহাল সেসময় সাধারণ মানুষের ওপর এক টাকাও অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ১.০৭ লক্ষ কোটি টাকার যে বৈপ্লবিক বাজেট পেশ করা হয়েছে এর জন্য এদিন অর্থমন্ত্রীকে বাজেট ভাষণ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবং একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী একথাও জানিয়েছেন , যে গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের ইস্তাহারে যেসব প্রতিশ্রুতি পালনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল , প্রথম বাজেটে সেই লক্ষ্যপূরণের দিকেই এক পা এগিয়ে রাখল তাঁর সরকার। বাজেটের কয়েকটি বিশেষ বড় ঘোষণা হল – করোনায় পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে ১ লক্ষ টাকার অর্থ সাহায্য । অনলাইন শিক্ষার জন্য সরকারি স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের স্মার্টফোন। শিলচর ও ডিব্রুগড়ে নতুন চিড়িয়াখানা নির্মাণ। নিম্ন আয়ের পরিবারের স্বামীহারা মহিলাদের এককালীন ২.৫০ লক্ষ টাকার অর্থ সাহায্য। মাইক্রো ফিনান্সে ঋণগ্রহিতাদের অসম ইনসেন্টিভ অ্যান্ড রিলিফ স্কিম । ১০টি কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠন। তামুলপুরকে নতুন জেলা হিসেবে গঠনের প্রস্তাব। ২০২১ – ২২ সনের মধ্যে ৪টি বড় সড়কপথের কাজ সম্পুর্ণ করা। ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর তীর বরাবর ১ হাজার কিলোমিটার বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ। অসম ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন গঠন। করোনায় ১৫ বছরের নিচে অনাথদের প্রতিমাসে ৩.৫০০ টাকার অর্থ সাহায্য। নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ।

বাজেট প্রস্তাবে বরাক উপত্যকা বঞ্চিত হওয়ায় প্রতিবাদে সরব হল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। বাজেট পরিকল্পনা ও অন্তর্ভুক্তির জন্য রাজ্যের জনগনের তরফে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী এবং সেই অনুযায়ী বরাকের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ২০ টি দাবি অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছিল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। কিন্তু তার একটিও ২০২১-২২ বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। বিডিএফ এর মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে এই বাজেট আমাদের সর্বার্থে আশাহত করেছে কারণ একমাত্র মিনি সচিবালয় ছাড়া এই বাজেটে আর কোন প্রকল্পের উল্লেখ নেই যা বরাকের বাসিন্দাদের আশা আকাঙ্খাকে কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে। তিনি বলেন বিডিএফ এর পাঠানো প্রস্তাবগুচ্ছের মধ্যে শিলচর মেডিকেল কলেজকে সুপার স্পেশালিটি স্তরে উন্নীত করা এবং করিমগঞ্জ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব ছিল ।তিনি বলেন যে প্রতিটি বরাক বাসী জানেন যে এই দুই বিষয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ তাদের জীবন মরণের সাথে জড়িত। কিন্তু এবারের বাজেটে রাজ্যে নতুন আরো পাঁচটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব থাকলেও বরাকের বহুদিনের এই দুই দাবিকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হলনা যা দুর্ভাগ্যজনক।প্রদীপ বাবু বলেন এছাড়া কাছাড় কাগজ কলের পুনরুজ্জীবন এর ব্যাপারেও যে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই তাও এই বাজেট প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট হয়ে পড়ল।বিডিএফ আহ্বায়ক আরো বলেন যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং পেট্রোপন্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কমাতেও এই বাজেটে কোন প্রস্তাব রাখা হয়নি। তাই প্রান্তিক জনগনের কল্যানে যেসব প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে তাতে কোনো উন্নতিই সূচিত হবেনা কারণ এই ‘লাভের গুড় পিপড়ে খেয়ে নেবে’। বরঞ্চ ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পন্যের যেহারে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে প্রান্তিক নাগরিকদের অবস্থা আগামীতে আরো খারাপ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।প্রদীপ বাবু বলেন যে শিলচরের জন্য একটি চিড়িয়াখানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যা কি কাজে লাগবে তার বোধগম্য হয়নি। বরং এরচেয়ে বিডিএফ এর প্রস্তাব অনুযায়ী শিলচর শশ্মানে একটি বৈদ্যতিক চুল্লীর জন্য অর্থবরাদ্দ করলেও তাতে এক বৃহৎ সংখ্যক মানুষ উপকৃত হতেন। বিডিএফ এর অপর দুই আহ্বায়ক পার্থ দাস ও জহর তারণ বলেন যে ক্ষুদ্রঋণ মকুব বা অরুনোদয় প্রকল্পে ভাতাবৃদ্ধি এসব করে কখনই রাজ্যের স্থায়ী সম্পদ বা স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি হবেনা। এসব শুধু আগামী লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সরকারের জনমোহিনী উদ্যোগ। তারা বলেন যে শিলচর শহরের যানজট সমস্যা দিনে দিনে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিডিএফ সেজন্য বৃহত্তর শিলচরের চারদিক দিয়ে একটি রিংরোড নির্মান ও প্রস্তাবিত উড়াল পুল নির্মানের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বাজেটে পাঁচটি নতুন রাস্তা নির্মানের প্রস্তাব থাকলেও রাজ্যের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের এই জ্বলন্ত সমস্যাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেননি বর্তমান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া তিনটি জেলায় সিভিল হাসপাতালের উন্নতিকল্পে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও এই ব্যাপারেও নীরব থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী।তারা আরো বলেন যে শিলচর এবং করিমগঞ্জ শহরের মাস্টার ড্রেনেজ প্রকল্প বা বিশুদ্ধ পানীয় জলের বন্দোবস্ত করতে সরকারের যে আগ্রহ নেই তাও বোঝা গেল এই বাজেট প্রস্তাব থেকে। বিডিএফ সদস্যরা এদিন বলেন যে যেহেতু বাজেটের ব্যাপারে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তাই এভাবে মতামত চেয়ে বরাক তথা অন্য প্রান্তের সচেতন নাগরিকদের হেনস্থা ও অপমান করার কোনো প্রয়োজন ছিলনা। তারা আরো বলেন যে এইভাবে ক্রমাগত বঞ্চিত হতে হতে হতে বরাকের বাসিন্দারা যদি অন্য কোনো বিকল্পের কথা ভাবে তাতে তাদের মোটেই দোষ দেওয়া যায়না। কারণ এরজন্য প্রকারান্তরে দিশপুরের বৈষম্যমূলক মনোভাবই ১০০ শতাংশ দায়ী