শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / মোদির মন্ত্রীসভায় বাংলার চার, ত্রিপুরা ও অসমের একজন করে

মোদির মন্ত্রীসভায় বাংলার চার, ত্রিপুরা ও অসমের একজন করে

বুধবারের মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে উত্তর প্রদেশ। এই রাজ্য থেকে ৭ জন মোদি মন্ত্রীসভায় স্থান করে নিয়েছেন।

মিঠুলাল চৌধুরী

বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রিয় মন্ত্রিসভার রদবদলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন বঙ্গের ৪ জন সাংসদ। নিশীথ প্রামাণিক, শান্তনু ঠাকুর, জন বার্লা এবং সুভাষ সরকার। ৪ জনই প্রথম বারের সাংসদ। তবে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছেন বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরী। কিন্তু বাবুল ও দেবশ্রীর বাদ পড়ার কারণ নিয়ে রাজ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা।

২০১৯ সনের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৮টি আসন জয়ের পর আশা করা হয়েছিল, কেন্দ্রিয় মন্ত্রীসভায় রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। কিন্তু মন্ত্রীসভায় স্থান পান কেবল বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরী। তবে এবার সেই আক্ষেপ থাকবে না আশা করা যাচ্ছে। বাবুল সুপ্রিয় ৭ বছরের কেন্দ্রিয় মন্ত্রী। বাবুল রাজনীতিতে পা দিয়েই আসানসোল থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এবং ঠাঁই পেয়ে যান মোদির মন্ত্রীসভায়। ২০১৯ সনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁকে দেওয়া হয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। অন্যদিকে দেবশ্রী চৌধুরী রায়গঞ্জ থেকে গত লোকসভা ভোটে জয়ী হওয়ার পর কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই নিয়ে যাওয়া হয় মন্ত্রীসভায়। তাঁকে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বুধবার রাতেই মন্ত্রীসভার দফতর বন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া ৪ জন প্রতিমন্ত্রীর দফতরগুলি হল । নিশীথ প্রামাণিক স্বরাষ্ট্র , যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া, জন বার্লা সংখ্যালঘু বিষয়ক, শান্তনু ঠাকুর বন্দর ও জাহাজ পরিবহন এবং সুভাষ সরকারকে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রত্যাশিতভাবেই অসম থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। দুমাস আগে তাঁকে সরিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় এবং কেন্দ্রে পুনরায় মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সর্বাকে। তাৎপর্যপুর্ণ ঘটনা যে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর ত্রিপুরার কোনও সাংসদ প্রথমবার কেন্দ্রিয় মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন। তিনি হচ্ছেন পশ্চিম ত্রিপুরার বিজেপি সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক। আগামী বছর ৮ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু করোনা মহামারী অনেক কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। এই অবস্থায় যুব নেতাদের মন্ত্রীসভায় স্থান দিয়ে ঘর গোছানোর চেষ্টা শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।কেন্দ্রিয় মন্ত্রীসভায় বড়সড় রদবদল করলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোট ৪৩ জন। বুধবার নতুনদের জায়গা করে দিতে ইস্তফা দেন ১২ জন মন্ত্রী। এদের মধ্যে ৪ জন হেভিওয়েট মন্ত্রী হচ্ছেন রবিশঙ্কর প্রসাদ, হর্ষবর্ধন, প্রকাশ জাভড়েকর ও রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক। এদিন উত্তরপুর্ব থেকে মোট ৪ জন শপথ নিয়েছেন। সর্বানন্দ ও প্রতিমা ছাড়াও শপথ নিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি সাংসদ কিরেণ রিজিজু। রিজিজু আগেও মন্ত্রী ছিলেন তবে প্রতিমন্ত্রী। এবারের রদবদলে তাঁর পদোন্নতি হয়েছে। এছাড়া ইনার মণিপুরের বিজেপি সাংসদ রাজকুমার রঞ্জন সিং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অসমের রামেশ্বর তেলি আগেই মন্ত্রী ছিলেন। এখন সবমিলিয়ে উত্তরপূর্বের ৫ জন মন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রিয় মন্ত্রী সভায় স্থান পেলেন। এদিন সন্ধ্যায় ১৫ জন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারা হলেন যথাক্রমে নারায়ণ তাতু রাণে, সর্বানন্দ সোনোয়াল, ডাঃ বীরেন্দ্র কুমার, জোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, রামচন্দ্র প্রসাদ সিং, অশ্বিনী বৈষ্ণো , পশুপতি কুমার পারস, কিরেণ রিজিজু , হরদীপ সিং পুরী, রাজকুমার সিং , মনসুখ মাণ্ডব্য, ভুপেন্দ্র যাদব, পুরুষোত্তম রূপালা, অনুরাগ ঠাকুর এবং জি কিষান রেড্ডি। বাকি ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে শপথ নেন।

বুধবারের মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে উত্তর প্রদেশ। এই রাজ্য থেকে ৭ জন মোদি মন্ত্রীসভায় স্থান করে নিয়েছেন। যে ৭ জনের মধ্যে ৬ জনই নিম্ন বর্ণের। আগামী বছর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে নজরে রেখেই প্রধানমন্ত্রী যে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন , সে ব্যাপারে প্রায় একমত রাজনৈতিক মহল।