সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদকে ব্যবহার করে অসমিয়া বাঙালি বিভাজনের চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী : অভিযোগ বিডিএফের

প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদকে ব্যবহার করে অসমিয়া বাঙালি বিভাজনের চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী : অভিযোগ বিডিএফের

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি উদ্যোগ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া ভাষা চালু করেন এবং অসম থেকে অধ্যাপক বিরিঞ্চি কুমার বরুয়াকে সেখানে তিনি নিযুক্তি দিয়েছিলেন, এই কথা সর্বজন বিদিত।

নিউজফাইল সংবাদ
শিলচর, জুলাই ৭
,
অসমের মুখ্যমন্ত্রী এক প্রেস বার্তায় বলেছেন যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি নাকি বলেছিলেন যে অসমে অসমিয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। তার এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল বরাক ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফ্রন্ট।ফ্রন্টের মুখ্য আহবায়ক কল্পার্ণব গুপ্ত বলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আদৌ সত্য নয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এমন কোনো মন্তব্য করেছেন বলে ঐতিহাসিক তথ্য নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি উদ্যোগ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া ভাষা চালু করেন এবং অসম থেকে অধ্যাপক বিরিঞ্চি কুমার বরুয়াকে সেখানে তিনি নিযুক্তি দিয়েছিলেন, এই কথা সর্বজন বিদিত। কিন্তু অসমের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসমিয়া ভাষা বাধ্যতামূলক করা উচিত, এমন কথা তিনি কখনো বলেছেন বলে ঐতিহাসিক কোনো তথ্য নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাঙালি হয়েও অসমিয়া ভাষা বিকাশের জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু তার বিনিময়ে অসমের বাঙালিদের ভাগ্যে কি জুটেছে? ১৯৬১, ১৯৭২, ১৯৮৬ বারবার তিনবার অসমের বাঙালিদের উপর অসমিয়া ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং তা প্রতিহত করতে অনেকে শহীদ হয়েছেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে শিলচর রেলস্টেশনে পুলিশের গুলিতে এগারোটা তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়েছে। ১৯৭২ এবং ১৯৮৬ সালে সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।শ্যামাপ্রসাদেরই স্বজাতি বাঙালিদের উপর অসমে নেমে এসেছে দমন, পীড়ন ও নির্যাতন। নেলী, গোড়েস্বর, শিলাপাথার, খোরাইবাড়ি, উত্তর কামরূপ প্রভৃতি গণহত্যায় মৃত্যু হয়েছে শত শত বাঙালির। হাজার হাজার বাঙালি বাধ্য হয়েছেন অসম ছেড়ে চিরতরে অন্য রাজ্যে চলে যেতে। ১৯৮০ এর অসম আন্দোলনের সময় যেসব বাঙালি ছাত্রছাত্রী বরাক উপত্যকা থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেত তাদের মার্কশিট ছিঁড়ে ফেলা হত এবং তাদের মারপিট করা হত। বাঙালিদের মনেও এ নিয়ে এখনো যথেষ্ট ক্ষোভ আছে।ফ্রন্টের আরেক আহ্বায়ক ইকবাল নাসিম চৌধুরী বলেন যে আসামে অসমিয়া ও বাঙালিদের মধ্যে এই বিভাজনের চক্রান্ত মূলত রাজনৈতিক উদ্দ্যশ্য প্রণোদিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সদ্ভাব এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ইদানীং অসমিয়া ও বাঙালিদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূপেন হাজারিকার মতো গায়ক এবং হোমেন বরগোহাইর মতো লেখক বুদ্ধিজীবীরা আসামের বাঙালিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং অসমিয়া বাঙালি মিলনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি যেহেতু অসমের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং তাদের অঙ্গুলিহেলনে আঞ্চলিক দল থেকে সর্বভারতীয় দলগুলো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হয় সুতরাং রাজনৈতিক স্বার্থে এই অসমিয়া বাঙালি বিভাজন বজায় রাখা হয়।কল্পার্ণব বলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফ্রন্ট অনুরোধ করছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নাম ব্যবহার করে তিনি যেন পুনরায় অসমিয়া বাঙালির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট না করেন। অসম বহুভাষিক রাজ্য, এখানে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চার অধিকার আছে।