শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / পাঁচগ্রামের কেন্দ্রিয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার পথে এগুচ্ছে

পাঁচগ্রামের কেন্দ্রিয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার পথে এগুচ্ছে

ক্ষুব্ধ অবিভাবকদের বেশির ভাগ ট্রান্সফার সার্টিফিকেট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনিন্দ্য ভট্টাচার্য
বদরপুর (করিমগঞ্জ), জুলাই ৪,

দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রামের কেন্দ্রিয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার পথে এগুচ্ছে। ফের সমস্যার ঘেরাটোপে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। কাছাড় কাগজ কল বন্ধ হওয়ার পর ছাত্রসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবুও নেই নেই করেও এখনো প্রায় শ’খানেক টিকে আছে। লেখাপড়ার মানও খুব ভাল। লকডাউনে ও অন লাইনে শিক্ষকরা খুব ভাল পড়াচ্ছেন। সব ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করে মে মাসের মাঝামাঝি স্কুল থেকে সব গার্জেনের কাছে ফোন আসে – স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যারা ট্র‍্যান্সফার সার্টিফিকেট নিতে চান তাদের ৩১ মে’র মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যারা আবেদন করবেন তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী বরাক উপত্যকার যে কোন কেন্দ্রিয় বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করার সুযোগ দেওয়া হবে। ছাত্রদের গ্রুপে এই মর্মে স্কুল থেকে হোয়াটস্অ্যাপ ম্যাসেজও করা হয় । আবেদন পত্রের নমুনাও পাঠানো হয়। ম্যাসেজ পেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন গার্জেনরা অধ্যক্ষ দীনেশ চান্দ মীনা’র সঙ্গে দেখা করেন। অধ্যক্ষ তাঁদের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোন ওর্ডার কপি না দেখালেও তাঁদের পছন্দের বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করার সুযোগ দেবেন বলে আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে অবিভাবকদের বেশির ভাগই শ্রীকোনা ওএনজিসি’র কেন্দ্রিয বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করানোর আবেদন জানান। কারন বদরপুর, পাঁচগ্রাম, কাটাখাল, কাটিগড়া বা আশপাশের অঞ্চল থেকে শ্রীকোনা কেন্দ্রিয বিদ্যালয়ের দূরত্ব অন্যান্য এলাকার বিদ্যালয় থেকে অনেক কম। আর গাড়ি ভাড়াও কম। অধ্যক্ষকে এই তথ্যটা অবিভাবকরা ফর্ম ফিল আপের আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন আশ্বাস পেলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় কয়েকজনের শ্রীকোনাতে হলেও বাকিদের শিলচর, মাছিমপুর, করিমগঞ্জ, নিট, ধলছড়া – এসব বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে অবিভাবকদের। একে দূরত্ব তার মধ্যে অস্বাভাবিক হারে গাড়ি ভাড়া। কী ভাবে সামলাবেন তাঁরা ? এর মধ্যে যে ছাত্রীকে একা গাড়িতে যেতে হবে তাঁর নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িয়ে। নিরুপায় হয়ে তাঁরা উপাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উপাধ্যক্ষের কাছে জানতে পারেন যে স্কুল বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয় যারা শিক্ষক আছেন তাঁদের কাছেও স্কুল বন্ধের কোন খবর নেই। অথচ আগে স্কুল বন্ধ হবে বলে ট্রান্সফার নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রহস্যটা কী ? ক্ষুব্ধ অবিভাবকদের বেশির ভাগ ট্রান্সফার সার্টিফিকেট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁরা না চাইলেও স্কুল থেকে প্রায় রোজই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য চাপ আসছে। কিন্তু অবিভাবকরা চাইছেন স্কুল বন্ধের লিখিত নির্দেশ দেখতে। এখানে অন্য রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন তাঁরা। হয়ত কিছু ব্যক্তিস্বার্থে সব ছাত্র অন্যত্র চলে গেছে দেখিয়ে স্কুল বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে বলে তাঁদের সন্দেহ। অথচ এই স্কুল টিকিয়ে রাখতে অবিভাবকর এত বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা করছেন। প্রতি তিন মাসে অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা ফি দিচ্ছেন। তবে এবার আর আপোষে যাবেননা তাঁরা। যা হয় হবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দেখবেন। স্কুল বন্ধ হলে পরে দেখা যাবে কী হয় এই মনোভাব তাঁদের।