রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি – ট্রাজিক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি – ট্রাজিক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

বাংলা সাহিত্য চর্চায় নিমগ্ন থাকা সবকিছুই তার এক অলীক স্বপ্নের মরিচিকার পিছে ছুটে যাওয়ার মতো।

আশুতোষ দাস

আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যে মাইকেল মধুসুদন দত্তের প্রভাব আজো অম্লান রয়েছে, বাংলা কাব্যের নতুন ভাবনার প্রবক্তা তিনি। বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন ধারাকে প্রতিহত করে নিজস্ব মৌলিকতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের “মেঘনাদ বধ” কাব্য গুণে আজো রসিক সমাজে সমাদৃত। দেড়শ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে এই কাব্য সৃষ্টির। কালের সময় ডিঙিয়ে আজও কৌতুহলে উৎসাহ নিয়ে পাঠকরা “মেধনাদ বধ” কাব্য পড়েছেন। ভারতবর্ষ ও ভারতবর্ষের বাইরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পাঠ্যসূচিতে “মেঘনাদ বধ” কাব্যটি অন্তর্ভুক্ত রযেছে। সেই অর্থে এবং বিষয় বৈচিত্র্য ও স্বাতন্ত্র্যের জন্য আজও আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। “মেঘনাদ কাব্যে” র ভাষা শৈলীর বহিরঙ্গ, অন্তরঙ্গ এবং মহাকাব্যে র লেখার বহুস্বর ভিন্ন আঙ্গিক শৈলীর নানান চরিত্রের মাঝে ফোটে আছে । উল্লেখ্য এই কাব্যের উপমা, প্রয়োগ, ছন্দের কারুকার্য নাটকীয় বিন্যাস উপস্থাপন আজো বাংলা কাব্য তার সমসীমায় কোন কাব্য পৌঁছেনি। তাঁর জীবন নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক৷ মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সনের ২৫ শে জানুয়ারি। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত, মা জানকী দেবী। ১৮৩৩ সনে পড়াশোনার সময় সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এবং পরবর্তীতে ১৮৪৩ সনে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য বাবা তাকে ত্যাগ করেন। সেই সময় প্রথম বিয়ে করেন রেকেভা ম্যাকটিভকে। তাঁকে কেন্দ্র করে লিখেন “ক্যাপটিভ লেডি”। তখন তিনি মাদ্রাজে থাকতেন সেই সময় তার কবিত্বের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তখন “ফ্যাসন অবদি পাস্ট্”ও লিখেন।


১৮৫৬ সনে বাবা মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী এমিলিয়া অঁরিয়েতা সোফিয়া,(হেনরিয়েটা) কে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। ১৯৬৯ তে প্রথম বাংলায় মৌলিক নাটক লিখেন “শর্মিষ্ঠা” ১৯৬০ সনে গ্রীক নাটকের আদলে লিখেন “পদ্মাবতী” । এই নাটকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এধরনের ছন্দ ব্যবহারে লেখা এই প্রথম এবং ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাবনা বাকরীতির তিনিই প্রবক্তা। ১৯৬১ সনে রামায়ণের কাহিনি ভিত্তি করে বাংলা সাহিত্য প্রথম মৌলিক মহাকাব্য “মেঘনাদ বধ” কাব্য রচনা করেন। এই কাব্যই তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ট কাজ। অবাস্তব কল্পনায় স্বপ্নের পেছনে সারাজীবন ছুটে বেড়িয়েছেন কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত । কবির বিলেত যাওয়া, ব্যারিস্টারি পাশ করা, আবার স্বদেশে ফিরে আসা ইত্যাদি সব কিছুতেই অসাধারণ মেধার পরিচয় মেলে। খুব স্বপ্ন দেখতেন তিনি । বাংলা সাহিত্য চর্চায় নিমগ্ন থাকা সবকিছুই তার এক অলীক স্বপ্নের মরিচিকার পিছে ছুটে যাওয়ার মতো। তবু যে সৃষ্টি ফসল রেখে গেছেন তারজন্য বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য রচনা “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো”!( প্রহসন) “একেই কি বলে সভ্যতা? “(প্রহসন)” তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য,”” চতুর্দশপদী কবিতা বলী””,বীরাঙ্গনা কাব্য,” “কৃষ্ণকুমারী” ইত্যাদি। মাইকেল মধুসূদন তার অসংযমী জীবন যাপনের জন্য অসুস্থতা ও দারিদ্র্যতা তাকে সব সময় তাড়িত করেছে। মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর তিনদিন পর কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে ১৮৭৩ সনের ২৯শে জুন এই বরনীয় মহানায়কের মৃত্যু হয়।


মহাকাব্যের বিশালতা ও বিস্তৃতির মতো কবি মাইকেলের জীবন নাট্যের বিস্তৃতি করুণ ও বেদনায় আপ্লুত ট্রাজিক। এখনও পাশ্চাত্য মহাকবিদের সম মর্যদায় তাই তিনি আলোচিত হয়েছেন বোদ্ধা সমালোচকের কাছে । কেউ কেউ তাকে কবি মিলটনের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।