বুধবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / টেস্ট এড়াতে জাটিংগা লামপুরে নেমে যাচ্ছেন হাফলঙের যাত্রীরা

টেস্ট এড়াতে জাটিংগা লামপুরে নেমে যাচ্ছেন হাফলঙের যাত্রীরা

তারা যেমন নিজেদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন তেমনি অন্যদের জীবনকেও বিপদের সন্মুখে এনে ফেলে দিচ্ছেন।

ইন্দ্রনীল দত্ত
হাফলং, জুন ২৩,

শিয়রে থার্ড ওয়েব। করোনার তৃতীয় সম্ভাব্য ঢেউয়ের সর্তকবাণী প্রতিদিন দিয়ে আসছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কে কার শুনে এই সর্তকবাণী। যে যেরকম পারছেন আইন ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।মেডিক্যাল টেস্ট থেকে বাঁচার যতসব নাটকও চলছে। তারা যেমন নিজেদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন তেমনি অন্যদের জীবনকেও বিপদের সন্মুখে এনে ফেলে দিচ্ছেন। এই আবহের মধ্যেই দুটো ছবি সবাইকে ভাবিত করে তুলেছে। প্রথমটি মেডিক্যাল টেস্ট এড়াতে শিলচর থেকে ট্রেনে করে আসা যাত্রীরা জাটিংগা লামপুর স্টেশনে নেমে সড়ক পথে হাফলং যাচ্ছেন।

দ্বিতীয় ছবি হচ্ছে থার্ড ওয়েবের আশংকার মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা। সোমবার থেকে গড়ে ৬৬০টি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার শিলচর থেকে কোয়েম্বাতোরের উদ্দেশে ছাড়ল আরও একটি দুরপাল্লার স্পেশাল ট্রেন। আগামীতে আরও এক ঝাক ট্রেন চলাচলের অপেক্ষায় । কিন্তু থার্ড ওয়েবের আশংকার কথা বলা হচ্ছে বারবার। তারপরেও দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর সিদ্বান্ত নেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত হল তা সময়ই বলবে। ভারতীয় রেল দুটো ব্যাপারে অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে যে আপনার হাতে নিশ্চিত টিকিট থাকতে হবেই। দ্বিতীয়টি আপনার শরীরে জ্বরের অনুপস্থিতি। তবেই ট্রেনে চড়তে পারবেন। খবর নিয়ে জানা গেছে, দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা প্রায় ৮০০ থেকে হুট করে বাড়িয়ে এই জুন মাসের মধ্যে ১৪৬০ করে দেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে গড়ে ৬৬০টি মেল-এক্সপ্রেস চালু করেছে ভারতীয় রেল। তবে অভিযোগ, সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতীয় রেল কোনও সর্তকতামুলক ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় রেলের এই সিদ্ধান্ত এক কথায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । রেল প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিনরাজ্যে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা যাতে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছোতে পারেন তারজন্য গোটা দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই এই মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন রুটে ১৪৬০টি মেল-এক্সপ্রেস চালু করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওই একই প্রশ্ন যে রেলের এই সিদ্ধান্ত সংক্রমণের হারটা বাড়িয়ে দেবে না তো? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত, দেখুন আপনাদের একটা কথাই বলে আসছি যে তৃতীয় ওয়েভের আশংকার কথা বারবার বলা হচ্ছে। তাই এই ট্রেন চালানোয় সংক্রমণের গ্রাফ পুরোমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার সম্বাবনা প্রবল। প্রতিটি স্টেশনে সর্তকতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে থার্মাল স্কিনিং ছাড়া রেট টেস্ট। এছাড়া তো আর কোনও ব্যবস্থাই চোখে পড়ছে না। যাত্রীর শরীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে তিনি গাড়িতে উঠতে পারবেন। বেশ ওইটুকুই। আরিটিপিসআর যেখানে বাধ্যতামূলক সেখানে রেল সেই ব্যবস্থা করেনি। সব রাজ্যগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আরিটিপিসআর রিপোর্ট না থাকলে স্টেশন চত্বর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। থাকছে আরও অনেক সমস্যাও। যেমন গত ক’দিন ধরে নিজেদের মেডিক্যাল টেস্ট থেকে বাঁচাতে হাফলংয়ের যাত্রীরা জাটিংগা লামপুর স্টেশনে নেমে যাচ্ছেন। নিউ হাফলং স্টেশনে পৌঁছার আগের স্টেশন হচ্ছে এই জাটিংগা লামপুর স্টেশন যেখানে মেডিক্যাল টেস্টের কোনও ব্যবস্থাই নেই। দেখা গেছে যে যাত্রীরা মংগলবারও জাটিংগা লামপুর স্টেশনে নেমে অটো করে হাফলং আসছেন। এই সমস্যা শুধু জাটিংগা লামপুর স্টেশনেই নয়, একই ছবি মাহুর ও মাইবাং স্টেশনেও রয়েছে। সবচেয়ে বড় ভয় এই প্যাসেঞ্জার ট্রেন নিয়েই। কারণ এই ট্রেনগুলো সব স্টেশনে স্টপেজ দেয়। আর সব স্টেশনে থাকে না থামাল চেকিং। তেমনি দেশের অন্যত্রও এমন ছবি ধরা পড়েছে। এই ক’দিন নিউ হাফলং স্টেশনে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীদের চোখে ফাঁকি দিয়ে তার আগের স্টপেজ জাটিংগা লামপুর স্টেশনে নেমে সড়ক পথে হাফলং যাচ্ছেন। যাঁরা অটো বা অন্য গাড়ি করে হাফলং আসছেন সেইসব যাত্রীদের মধ্যে কারও শরীরে পজিটিভ থাকলে যেমন কেউ বুঝবেন না তেমনি সংক্রমণের গ্রাফটা উর্দ্ধমুখী হওয়ার আশংকা থেকে যায় বলে সচেতন মহল মনে করছেন। আবার কেউ কেউ এটাও বলছেন যে, আমাদের সচেতন হতে হবে। দূরপাল্লার ট্রেন চলুক। পাশাপাশি রেল ও যাত্রীদেরও নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তখনই এই সচেনতা দিয়েই সংক্রমণ ঠেকান সম্ভব। কিন্তু সচেতনতা মুখে বলেই শেষ। ট্রেনে উঠলে পড়েই বুঝা যায় কে কতটুকু সচেতন।


এবার দেখা যাক যাঁরা ভিন রাজ্য যেমন অসমের শিলচর থেকে পশ্চিমবাংগের কোনও স্টেশনে আপনাকে যদি নামতে হয় তাহলে ওই যাত্রীকে কী দেখাতে হবে? রেল বলছে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী যাত্রীকে যাত্রা শুরুর ৭২ ঘন্টা আগের আরটিপিসিআর রিপোর্ট দেখাতে হবে তবেই সেই যাত্রীকে রেল স্টেশন থেকে বের হওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এখানেও আরেকটা প্রশ্ন উঠছে যে স্টেশনে নামার পর যেখানে আরটিপিসিআর রিপোর্ট দেখা হয় সেখানে যাত্রী ট্রেনে উঠার সময় কেন এই রিপোর্ট দেখা হচ্ছে না? এই প্রশ্ন অনেক রেল আধিকারিকদের করা হয়েছিল যদিও তারা কোনও উত্তর দিতে পারেননি। ছয় ফুটের সামাজিক দুরত্ব বলা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ট্রেনের ভেতর সেই দূরন্ত কেউ মেনে চলছেন না। মুখে মাস্কও নেই। ভয় তো তাদের নিয়েই।