রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / প্রেমিকা নিয়ে পালাতে গিয়ে আটক বিবাহিত প্রেমিক

প্রেমিকা নিয়ে পালাতে গিয়ে আটক বিবাহিত প্রেমিক

এক বুক আশা ভরসা নিয়ে স্বামীর অপকর্ম জেনেও সংসার করতে চেয়েছিল স্ত্রী শাহানা।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, জুন ২১,

প্রেমিকাকে নিয়ে পালাতে গিয়ে জনতার হাতে আটক এক স্বামী।ধৃ‌তের নাম দিলয়ার হোসেন।ঘটনা অসম-ত্রিপুরা সীমান্তের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকা‌ন্দির কাঁঠালতলি এলাকার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের দশ মার্চ উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার বটরশি সিগন্যাল বস্তির বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে শাহানা আক্তারের সাথে সামা‌জিক ভা‌বে বি‌য়ে হয় করিমগঞ্জ জেলার কাঁঠালতলি মারুগাও এলাকার নুরুল ইসলামের পুত্র দি‌লয়া‌রের সা‌থে। বিয়ের কিছুদিন ঠিকঠাক চললেও পরবর্তীতে স্ত্রী শাহানা আক্তারের নজরে আসে স্বামী কর্তৃক অন‌্য যুবতীর সা‌থে পরকীয়ার।স্ত্রী শাহানা আক্তারের অভিযোগ স্বামী দিলয়ার হোসেন দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ ধর্মনগরের শাঁকাইবাড়ি আলগাপুর এলাকার একটি মেয়ের সাথে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক চলছিল। স্ত্রী শাহানা তাতে প্রতিবাদ জানালে স্বামী তার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে। এমনকি একটা সময় স্বামী দিলয়ার হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে তা জানাজানি হওয়ার পর সালিশি সভার মাধ্যমে স্ত্রী শাহানা ও তার বাবার বাড়ির লোকজন ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ওই মেয়ের কাছ থেকে তার স্বামীকে নিয়ে আসেন। এক বুক আশা ভরসা নিয়ে স্বামীর অপকর্ম জেনেও সংসার করতে চেয়েছিল স্ত্রী শাহানা।স্বামীর আবদারে দরিদ্র বাবার বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা মোটরসাইকেল কেনার জন্য এনে দেয় স্ত্রী।কিন্তু কিছুদিন পর পুনরায় প্রেমিকার সাথে মেলামেশা শুরু করে দেয় স্বামী দিলয়ার।সাথে তার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় স্বামী। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শাহানা আক্তার স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে ধর্মনগর বটরশির বাবার বাড়িতে এসে প্রাণ বাঁচায়। কিন্তু গত ১৫ জুন রাতে প্রাক্তন প্রেমিকার টানে দিলয়ার সাখাইবাড়িতে ছুটে যায়। গাড়ি করে প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পুরো বন্দোবস্ত করে সে। সেখানে যাওয়ার পর এলাকার জনগণ দিলয়ারকে আটক করেন। তারপর তার হাত-পা বেঁধে উত্তম-মধ্যম দিয়ে তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতের হাতে। পঞ্চায়েত হোসেনকে ধর্মনগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু পুলিশ ওই দিন রাতে অভিযুক্ত দিলয়ার হোসেনকে ছেড়ে দেয় বলে স্ত্রী ও তার বাপের বাড়ির লোকজনদের অভিযোগ। শ্রী শাহানা আক্তার ও তার মা জানান, উনারা পরের দিন ধর্মনগর থানায় অভিযুক্ত দিলয়ার হোসেনের নামে লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ কোন গুরুত্ব দেয়নি।বর্তমানে অসহায় অবস্থায় বাপের বাড়িতে দিন কাটাচ্ছে শাহানা। দাবি তুলছে ন্যায় বিচারের। এখন দেখার বিষয়, প্রতারিত ও নির্যাতিত শাহানা আক্তার কতটুকু ন্যায় বিচার পায়।