বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / করোনা অতিমারির চাপে যন্ত্রশিল্পীরা আজ অসহায়

করোনা অতিমারির চাপে যন্ত্রশিল্পীরা আজ অসহায়

করোনাকালে কোথাও কোন উৎসব, অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। তাই তাদের রোজগারের মুল পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আশুতোষ দাস

সানাইয়ের সুর শুনলেই আমাদের মন চলে যায় বিয়ের অনুষ্ঠানে। সানাই বাদন ছাড়া বিয়ের কথা ভাবাই যায় না।বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্যে একটি বিশেষ যন্ত্রশিল্পীর দল ব্যস্ত থাকে। সারা বছরই এরা অভ্যেস করে বাজনার, বিয়েবাড়ির লোকের সব বয়সের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তুলে বিভিন্ন গানের সুর। বিয়ের অনুষ্ঠানে এদের চাহিদা খুব বেশি। বিয়ের তারিখে এরা অনেকগুলো বিয়েতে বাজায়। তাছাড়া সারাবছরই অনুষ্ঠান যেমন অন্নপ্রাশন, পূজো, সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা ইত্যাদি নানান অনুষ্ঠানেও ডাক পায় এরা।

করোনাকালে কোথাও কোন উৎসব, অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। তাই তাদের রোজগারের মুল পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের এটা প্রধান জীবিকা হলেও অনেকেই চাষাবাদের কাজ বা অন্য পেশায় যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু করোনা অতিমারির জন্য এখন চাষাবাদের অবস্থাও ভালো নয়। তাছাড়া অন্য পেশায় জড়িতদেরও কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছেন। এরকম সঙ্কটময় পরিস্থিতে শব্দকর শিল্পীদের অনেকেই অর্ধাহারে অনাহারে কোনমতে দিন কাটাচ্ছেন। এদের সংখ্যা খুব একটা কম হবে না। তাছাড়া যেসব যন্ত্রশিল্পীরা শহরে নানা অনুষ্ঠানে গানের সঙ্গে সঙ্গত করেন, এরাও আজ অসহায়ের মত জীবন যাপন করছেন। এদের অবস্থাও তথৈবচ। সরকারকে এদেরকে নিয়ে ভাবতে হবে, কোভিড অতিমারির থাবায় এরাও অর্থনৈতিক বির্পযস্ত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছেন।

তাছাড়া ঢাকীদেরও অর্থ কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে। রোগে শোকে তার জর্জরিত হয়ে অসহায়ের মতন দিন কাটাচ্ছেন। এই ব্রাত্য শিল্পগোষ্ঠীর দিকে সহানুভূতির দৃষ্টি নিয়ে করোনাকালে সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য সরকারি বিধিনিষেধের জন্য উৎসব অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, কবে স্বাভাবিক হবে তা কেউ বলতে পারবে না, এই অবস্থায় এদের অন্য পেশার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। রেওয়াজের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক প্রতিভা। হয়তো একসময় এদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। জীবনের কঠোর বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করে এরা হয়তো আর হাতে তুলে নিয়ে পারবে না তার প্রিয় বাদ্যটি অথবা ফুঁ দিতে পারবে না বাঁশিতে বা সানাইয়ে। তাই এই শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে গ্রহণ করতে হবে পরিকল্পনা। করোনাকালে সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।

সরকারি বিধিনিষেধের জন্য উৎসব অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, কবে স্বাভাবিক হবে তা কেউ বলতে পারবে না, এই অবস্থায় এদের অন্য পেশার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। রেওয়াজের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক প্রতিভা। হয়তো একসময় এদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। জীবনের কঠোর বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করে এরা হয়তো আর হাতে তুলে নিয়ে পারবে না তার প্রিয় বাদ্যটি অথবা ফুঁ দিতে পারবে না বাঁশিতে বা সানাইয়ে। তাই এই শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে গ্রহণ করতে হবে পরিকল্পনা।