মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / পরিবেশ দিবসের ইতিকথা

পরিবেশ দিবসের ইতিকথা

পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হলেন প্রয়াত সুন্দরলাল বহুগুণা। ১৯৭৩ সনে উত্তর প্রদেশে গাড়োয়াল অঞ্চলে যে চিপকো আন্দোলন গড়ে ওঠে তার নেতৃত্ব দেন তিনি, চিপকো অর্থাৎ জড়িয়ে ধরা, বিত্তবান ব্যক্তি বা ঠিকাদার রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে

আশুতোষ দাস

বহুবছর থেকে সমাজ বিজ্ঞানীরা পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীতার কথা বারবার বলে আসছেন । যদি সভ্যতা বাঁচাতে হয় তাহলে পরিবেশকে সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে হবে। পরিবেশ বলতে অনেক কিছুকেই বুঝানো হয়, মানসিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদি। তবে এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের কথাই বিশেষ ভাবে আলোচ্য।


১৯৭৪ সনে সুইডেনের পরিবেশ বিজ্ঞানীর কথাকে মান্যতা দিয়ে ৫ জুন রাষ্ট্রসংঘ বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয় এবং রাষ্ট্রসংঘের অন্তর্ভুক্ত সকল দেশকে এই দিবস পালন করতে অনুরোধ করে সেই থেকে ৫ জুন দিনটিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মানুষ ও প্রকৃতি একে অন্যের পরিপূরক। মানুষ তার ক্রমবিবর্তনের ধারায় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে যদিও তবু বলতে হয় ভোগবাদী যন্ত্র সভ্যতা তাদের লোভ আর মোহে নানান কারনে পরিবেশকে দূষিত করেছে। ভূগর্ভে আনবিক বোমার পরীক্ষা নিরীক্ষা, কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ নদী, সাগরে নিষ্কাশন, বরফ অঞ্চলে নানা ক্রিয়াকলাপ, বৃক্ষ রাজি কেটে আবাদ বসত ইত্যাদি নিরন্তর দূষণ প্রক্রিয়ার জন্য তারাই এখন বিপত্তির কারণ ঘটিয়েছে। তাহলে অতি সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা যাক। প্রতি বছর বিশ্বে ১৪৩টি দেশ পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ৫ জুন নানান কার্যসূচির মাধ্যমে পালন করে আসছে। তার মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পথসভা, বৃক্ষ রোপন, গ্রন্থ সংকলন প্রকাশ, ফিল্ম ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বির্তক প্রতিযোগিতা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি সাঁজো প্রতিযোগিতা, খেলাধূলা, কুইজ ইত্যাদি ইত্যাদি। উল্লেখ্য, আমরা প্রথম দেখতে পাই সুইডেন সরকার ক্রমপরিবর্তিত পরিবেশ ও প্রকৃতির স্খলনের জন্য উদ্বেগে ১৯৬৮ সনের ২০ মে রাষ্ট্রসংঘের কাছে প্রাকৃতিক বির্পযয়, উষ্ণায়ন, সামুদ্রিক ঝড় ইত্যাদি পরিবর্তন উপলব্ধি করে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অনুরোধ করে।


তাদের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রসংঘ ১৯৭২ সনে ৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভারসাম্য হীনতা, উষ্ণায়ন ইত্যাদি সমাধানের জন্য বিশেষ অধিবেশনে আলোচনায় বসে, তার প্রেক্ষিতে সেই সভায় এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এর গুরুত্ব বুঝে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৩ সনে রাষ্ট্রসংঘ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং সেই থেকে সবাইকে পরিবেশ রক্ষার জন্য সচেতনা মূলক কাজ করতে বলে। তখন থেকে রাষ্ট্রসংঘও এ ব্যাপারে সদর্থক ভূমিকাও নেয়। আমাদের ভারতবর্ষ ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে। তবে এবার করোনার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত ভাবে পরিবেশ দিবস দেশে বিদেশে পালিত হচ্ছে।আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান, অফিস ও সংগঠন ভার্চ্যুয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনলাইনে অনুষ্ঠান করে জন সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের সবাই সচেতন থাকতে হবে, অযথা বৃক্ষ নিধন রোধ করতে হবে, যততত্র আর্বজনা ফেলা বন্ধ করতে হবে, গাড়ি ও কারখানার ধোঁয়ার নিষ্কাশনের আইন বিধি মেনে চলতে হবে, জলের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার নানা ইতিবাচক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।


পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষায় এটাই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার। পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হলেন প্রয়াত সুন্দরলাল বহুগুণা। ১৯৭৩ সনে উত্তর প্রদেশে গাড়োয়াল অঞ্চলে যে চিপকো আন্দোলন গড়ে ওঠে তার নেতৃত্ব দেন তিনি, চিপকো অর্থাৎ জড়িয়ে ধরা, বিত্তবান ব্যক্তি বা ঠিকাদার রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে অবাধে গাছ কাটতে এলে গ্রামবাসী সবাই একসঙ্গে সন্তানের মতো প্রতিটি গাছকে জড়িয়ে আদিবাসীরা প্রতিরোধ গড়েছিলো এটাই চিপকো আন্দোলন নামে খ্যাত হয়েছে।অন্যদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিবেশ আন্দোলনে যারা অংশ নেন, তারা হলেন সরলা বিন, চন্দ্রিকা প্রসাদ ভাট, মীরা বিন, গৌরী দেবী প্রমুখ। এই আন্দোলনের বার্তা পৃথিবীর পরিবেশ সুরক্ষা কর্মীদের উৎসাহ যোগায়। এইরকম পরিবেশ রক্ষার জন্য ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলন আমরা পাই, সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন, আপ্পিকো আন্দোলন, গ্রিন পিস আন্দোলন, ইত্যাদি । পরিবেশ বিপর্যয় থেকে মুক্ত রাখতে এখন আগের থেকে অনেক সচেতন হলেও তা কিন্তু যথেষ্ট নয়।