শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / হাসি মানুষের জীবনীশক্তি

হাসি মানুষের জীবনীশক্তি

বিশ্বায়নে যুগে আধুনিক মানুষ দ্বিচারিতা ও ভন্ডামী তাদের জীবন যাপনে নিত্যসহচর, তাই লোভ আর ঈর্ষায় - "সততার" মূল্যবোধের স্বপ্নময় জীবন এদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে ।

আশুতোষ দাস

জীবন সংগ্রাম জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের প্রবনতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে । বিশেষত যাঁরা নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবি করছেন, তারাই কিন্তু সভ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও তারা কতটুকু সভ্য তা কিন্তু সুশীল সমাজের কাছে, সমাজবিজ্ঞানীর কাছে প্রশ্নচিহ্ন। বিশ্বায়নের যুগে আধুনিক মানুষ দ্বিচারিতা ও ভন্ডামী তাদের জীবন যাপনে নিত্যসহচর, তাই লোভ আর ঈর্ষায় – “সততার” মূল্যবোধের স্বপ্নময় জীবন এদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে । সেইজন্যই লোভের লালায় তাদের মুখ থেকে পবিত্র হাসিটুকুও হারিয়ে গেছে। অত্যাধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্থ নাগরিকরা মনখুলে তাই স্বাভাবিক ভাবে আর যেন হাসতে পারেন না। এর ভেতরে ব্যতিক্রমী যারা হাসি, ঠাট্টা রঙ্গ তামাশায় জীবন যাপন করেন তারাতো অন্যদের থেকে অনেক অনেক বেশি কর্মক্ষম। কিন্তু এ কথা সত্যি যে, যেখানে সেখানে শিশুর মতো স্বর্গের হাসির শব্দ আর মানুষের ঠৌঁটে দেখা যায় না। আমাদের চলার পথে নানা ঝড় আসবে, তবুও সব কিছুর ভেতর জীবনকে উপভোগ করতে হাসি চাই। হাসি ছাড়া মানুষ পুতুলে পরিনত হয়ে যাবে, হয়ে যাচ্ছেও।ব্যক্তিত্বের মুখোশ নানা কারণে আমরা দুখ, যন্ত্রণা ঢেকে রাখতে হয়।আমরা অনেক গভীর শোকে, অসহায় অবস্থায় ও সুখের কৃত্রিম অভিনয় করে নিজেদের দীনতা ঢেকে রাখি। সত্যকে স্বীকার করার সৎ সাহস আমাদের নেই। একথা ঠিক তাই আমাদের যাপিত জীবন থেকে হাসি আনন্দ ক্রমে ক্রমে চলে যাচ্ছে। আমরা দিন দিন জড় পদার্থের মতো বোধবুদ্ধিহীন প্রাণহীন পাথরের মতো প্রায় হয়ে যাচ্ছি। একজন সুস্থ মানুষকে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে হলে মনখোলা হাসির প্রয়োজন রয়েছে।তারই প্রেক্ষিতে মানুষের জীবনে হাসি আর আনন্দ ধরে রাখতে হাসির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হাসির মাধ্যমে অনেক মনোবিজ্ঞানীরা চিকিৎসাও করাতে উদ্যোগী হয়েছেন।হাসির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লাফিং ক্লাব হয়েছে, ভারতবর্ষ এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। তাই এইকথা ভেবে অনেক হাসির নাটক, সিনেমা ও ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্ব হাসি দিবসের প্রবর্তক মোম্বাইয়ের মদন কাটারিয়া তাঁর জীবনের অভিঞ্জতায় বুঝতে পেরেছিলেন যে মানুষ ক্রমাগত মেশিনের মতো হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন থেকে হাসি, আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই।এমনকি অনেক রোগের কারণও হাসিহীন উদ্বেগের জীবন। দুখ,কান্না, বেদনা, যন্ত্রণা, প্রেম ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থাকা খুবই প্রয়োজন। ব্যস্ততম জটিল জীবন যাপনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জন্মগত সহজাত প্রক্রিয়াও। সেই ভাবনা থেকে ১৯৯৮ সনে ১০ মে মুম্বাইতে কিছু বন্ধু বান্ধব মিলে খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে হাসি দিবস পালন করেছিলেন কাটরিয়া এবং সেই দিবসে বিস্বভাতৃত্বের কথাও বলেছিলেন। এই দিবসে নানান কথা বার্তার মাঝে তারা হাসির চেষ্টা করেছিলেন৷ আনুষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে এরা হেসেছিলেন। হাসির গান, হাসির নাচ, হাসির মুক্তাঙ্গন নাটক ইত্যাদি কার্যসূচিতে ছিলো।সেই দিবসকে পৃথিবীর ১০৫টি দেশে বিশ্বহাসি দিবস হিসেবে মান্যতা দিয়ে পালন করছে এবং কাটারিয়ার মৈত্রীভাবনা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা মানবকল্যাণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয় তাঁরা। কেউ কেউ এই দিবসকে হাস্যযোগ দিবসও বলে থাকেন । আবার কোন কোন দেশে ১০ নভেম্বর তারিখের পরবর্তে এই নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের রোববারে বিশ্বহাসি যোগ দিবস হিসেবে পালন করেন।

তবে সবাই এক বাক্যে এই কাটারিয়ার কথাকে সম্মান দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সাহিত্যে অনেক আগেই হাসিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ধ্রুপদী হাসির রসরচনা গোপাল ভাঁড়ের নানান গল্প, মোল্লা নাসির উদ্দিনের গল্প, শিবরামের রচনা ইত্যাদি আমাদের প্রাণবন্ত রেখেছে, কিংবা তারক মেহতার উল্টো চশমা ইত্যাদি আজো আমাদের রসবোধ জাগিয়ে রাখতে সক্ষম রয়েছে।