শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ভারত-বাংলা সীমান্তে কয়লা সিন্ডিকেট চক্রের উপর পুলিশের অভিযান

ভারত-বাংলা সীমান্তে কয়লা সিন্ডিকেট চক্রের উপর পুলিশের অভিযান

রবিবার নয়টি কয়লার ট্রাক আটক করার ঘটনা নিয়ে গতকালই সাতজনকে আটক করে করিমগঞ্জ পুলিশ ।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মে ৩১,

করিমগঞ্জ জেলার ভারত – বাংলাদেশ সীমান্তের সুতারকান্দি দিয়ে পাচার হওয়া কয়লা সিন্ডিকেটের নতুন মোড় নিয়েছে। রবিবার উপরওয়ালার নির্দেশ পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার নয়টি কয়লা ভর্তি লরি সহ চালককে আটক করার পর থেকেই ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে সীমান্তে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে । গত চব্বিশ ঘন্টা থেকে বলতে গেলে ঘুম হরণ হয়ে আছে কালো হীরার কালো ব্যবসায়ীদের । বিগত ২৯ বছর থেকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার পরে কয়লার কালোবাজারি কিভাবে হয় তা বুঝতে না পারা জেলা আমদানি রপ্তানি সংস্থার সভাপতি বিজেপি নেতা সহ সম্পাদককে গত চব্বিশ ঘন্টা আটক থাকতে হয় করিমগঞ্জ সদর থানায় । দুদিন আগে অফিস পাড়ায় কয়লা কালোবাজারি নিয়ে সাংবাদিকদের পাঠ দেওয়া এবং সদর থানায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকের নামে মামলা করার হুমকি দেওয়া বিজেপি নেতার রবিবারের রাত কেটেছে সদর থানায়ই । বিগত চব্বিশ ঘন্টা থেকে ঘন্টায় ঘন্টায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে ।রবিবার নয়টি কয়লার ট্রাক আটক করার ঘটনা নিয়ে গতকালই সাতজনকে আটক করে করিমগঞ্জ পুলিশ । গোটা রাত করিমগঞ্জ পুলিশের ম্যারাথন জেরার পর এরমধ্য থেকে চারজনকে আদালতে তোলা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের পাঠানো হয়েছে জেল হাজতে । যে চারজনে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে তার মধ্যে একজন রয়েছেন ফকিরাবাজার থেকে আটক করা কয়লা গাড়ির চালক নীলু রায় বাকি তিনজন কয়লা ব্যবসায়ী যথাক্রমে ফখরুল ইসলাম, আব্দুল হাফিজ চৌধুরী, মুক্তা হুসেন চৌধুরী । তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নং হচ্ছে ১২০/বি/ ৩৭৯/৪১১/৩৮৪/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২৭/৩৪ আই পি সি । চার জনকে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি শর্ত সাপেক্ষে পুলিশের আটক থেকে সোমবার সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে আমদানি রপ্তানি সংস্থার সভাপতি অমরেশ রায়কে । কিন্তু তাঁকে ফের আগামী তিন তারিখে পুলিশের কাছে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । সঙ্গে আরো তিনজন রুনু মিয়া, তাজ উদ্দিন, বিল্লুজিত রায়কে মুক্তি দিয়ে ফের দুদিন পর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।সোমবার বিকেলে করিমগঞ্জে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সদর পুলিশ হিফজুর রহমানসহ কমরুল ইসলাম নামের আরো এক কয়লা ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় । সূত্র থেকে জানা মতে, মূল সিন্ডিকেটের মাফিয়া বীরেন্দ্র মালাকার, আব্দুল মুনিম ওয়াহিদ এবং গৌতম দাসের সন্ধানে গতকাল থেকে কয়েক দফায় অভিযানে নামে করিমগঞ্জ পুলিশে । রবিবার বিকেল থেকে করিমগঞ্জ পুলিশের একশন মোড দেখে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে সীমান্ত জেলায় । তদন্তের খাতিরে করিমগঞ্জ পুলিশ এনিয়ে কোন মন্তব্য না দিলে মুখ খুলছেন না আমদানি রপ্তানি সঙ্গে জড়িত থাকা অনেকেই । কয়লা মাফিয়াদের খোঁজে সদর পুলিশ মাঠে নামার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে অনেকের ।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে গত এক সপ্তাহ আগে প্রায় ১৫০ টি কয়লা ভর্তি লরি পুলিশ আটক করে তদন্তক্রমে ছেড়ে দিয়ে দুদিন পরে ফের নয়টি লরি আটক করার বিষয়টি বেশ ভাবাচ্ছে এই মুহূর্তে । যদিও রবিবার দিন নয়টি লরি আটক করার আগে একশোর বেশি লরি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল । পুলিশের রণঃদেহী মেজাজ দেখে কিন্তু ওইদিন বিকেলে অনেক কয়লা মাফিয়াকে সুতারকান্দি ছাড়তে দেখা যায়। সঙ্গে গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিল লরির চালকরা । কয়লা রপ্তানি নথি পত্রের বৈধতা, লরি কাগজ সংক্রান্ত বিষয় না কয়লা রপ্তানি সঙ্গে কোন অবৈধ ব্যবসা জড়িত এনিয়ে প্রশ্ন উঠতে দেখা গেছে । লরির চালক পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কিন্তু যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই মুহূর্তে । আটক হওয়া এক লরি চালককে জেলে পাঠানো হয়েছে আজ । তদন্তের স্বার্থে এনিয়ে কোন মন্তব্য করেননি পুলিশ সুপারসহ সদর থানার ওসি । তবে ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই দুদিনের পুলিশের ফুল একশন দেখে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।অন্যদিকে গতকাল রাত থেকে ছয়জন কয়লা ব্যবসায়ী করিমগঞ্জ সদর থানায় আটক করার পর সোমবার সকালে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ । বিষয়টি নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে । একশন মোডে থাকা করিমগঞ্জ পুলিশ নো কমেন্টসে থাকলেও উত্তরের বিধায়কের উপস্থিতি নিয়ে যথেষ্ঠ জলঘোলা হচ্ছে গোটা দিন থেকেই । যদিও বিধায়কের বক্তব্য, জেলা আমদানি রপ্তানি সংস্থার সভাপতি অমরেশ রায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং পুলিশের কাছে আটক হওয়া ছয়জন ব্যক্তি তার সমষ্টির । যার কারনে গত চব্বিশ ঘন্টা থেকে তাদের কেন আটক করে সদর থানায় রাখা হয়েছে সেই খবর নিতেই তিনি এখানে উপস্থিত হয়েছেন । তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিগত দিনে কয়লা সিন্ডিকেট নিয়ে সরকারকে সাঁড়াশি আক্রমন করা বিধায়ককে কিন্তু সোমবারে কিছুটা হলে অন্য মোডে দেখা যায় । বিধায়কের মতে, মূল সিন্ডিকেটের খলনায়করা ফেরার । পুলিশ এদের নাগাল পায়নি এখনো । তার কথায়, মেঘালয় থেকে মালিডহর হয়ে যে কয়লার গাড়িগুলো করিমগঞ্জে পৌঁছে তাতে যথেষ্ট উল্টোপাল্টা রয়েছে তবে করিমগঞ্জ থেকে সুতারকান্দি হয়ে বাংলাদেশে প্রেরণ করা কয়লার গাড়িতে তেমন কোন কালোবাজারি না ও থাকতে পারে । মেঘালয় থেকে করিমগঞ্জ বাবা হোটেল পর্যন্ত পুরো ট্রাক ভর্তি কয়লার সিন্ডিকেটে জড়িত থাকা মাফিয়ারা কেন মুক্ত আকাশের নিচে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠান বিধায়ক কমলাক্ষ ।