শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / প্রাক্তন ব্যাংক কর্মীর ১৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার দুষ্কৃতীরা শিলচরে

প্রাক্তন ব্যাংক কর্মীর ১৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার দুষ্কৃতীরা শিলচরে

প্রায় তিন দিন ধরে একই অ্যাকাউন্ট থেকে একের পর এক ট্রানজেকশন করেছে হ্যাকাররা, অথচ পুলিশের কাছে এজাহার দেওয়ার পরেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সতর্কতা দেখানো হলো না, এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উমা পুরকায়স্থ
শিলচর, মে ২৯,

সম্ভবত এটাই বরাক উপত্যকার ইতিহাসে সবথেকে বড় টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা। সাইবার অপরাধীরা একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে দুইবার টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে। প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী দেবাশীষ আদিত্য বর্তমানে বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। ফোন করে তার একাউন্ট পুরোপুরি হ্যাক করে নেয় দুষ্কৃতীরা এবং প্রথমে ৩ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরিবারের তরফে পুলিশে এজাহার দেওয়া হয় পাশাপাশি ব্যাংকের কাছেও সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। তারপরেও এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে আবার টাকা তুলে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তবে এবার ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ অনেক বেশি, ১৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা একাউন্ট থেকে চলে গেছে। সব মিলিয়ে ১৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা হারিয়েছেন দেবাশীষ আদিত্যের পরিবার। এতে তারা একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন।দেবাশীষ আদিত্যের স্ত্রী সুনন্দা আদিত্য নিজেও একজন ব্যাঙ্ক কর্মী। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমাদের বিএসএনএল নম্বরে অনলাইন পেমেন্ট করা নিয়ে একটা ঝামেলা চলছিল এবং এব্যাপারে খানিকটা অস্বস্তিতে ছিলেন দেবাশীষ আদিত্য।

২৬ মে হঠাৎ করে একটা অজানা ফোন আসে এবং ওপার থেকে এক যুবক বলে এসবিআই অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে ঝামেলা হয়েছে সেটা ঠিক করে দিচ্ছে, তবে তাকে ১০ টাকা অনলাইনে পাঠাতে হবে। আমার স্বামী নিজের একাউন্ট থেকে ১০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরেও বিএসএনএল একাউন্ট ঠিক হয়নি। তিনি অসুস্থ, তাই এব্যাপারে খুব একটা নজর দিতে পারেননি। বিকেলে আমি বাড়ী ফেরার পর কয়েকটা এসএমএস মোবাইলে দেখে আঁতকে উঠি, আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা চলে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের কাছে কথা জানাই এবং পুলিশের কাছে এজাহার দেওয়া হয়। ব্যাংকে এমন অভিযোগ জানালে প্রথমে যে কাজটা করা হয়, সেটা হচ্ছে অ্যাকাউন্ট থেকে সব ধরনের ট্রানজেকশন বন্ধ করে দেওয়া। অথচ দুদিন পর হঠাৎ করে আমি আবার দেখতে পেলাম আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক বড় টাকা এক ভিন্ন পদ্ধতিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সব মিলিয়ে আমরা প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা হারিয়েছি।”দ্বিতীয়বার হ্যাকাররা কিভাবে টাকা নিতে পারল এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, দেবাশীষ আদিত্যের একাউন্ট দুষ্কৃতীরা হ্যাক করে নেয় এবং সেখানে ফোন নম্বর পাল্টে দেওয়া হয়। তারা নিজেদের নম্বর ব্যবহার করে দেবাশীষ আদিত্যের ফিক্স ডিপোজিটের টাকা থেকে তিনটে লোন অ্যাপ্লাই করে এবং সেটা আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট বানিয়ে অভার ড্রাফ্টের মাধ্যমে ট্রানস্ফার করতে সমর্থ হয়। অবশ্যই এই কাজটি করেছে এমন কোনও লোক যারা ব্যাংকের কাজকর্মের ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং দেবাশীষ আদিত্যের অনেক তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি একাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, এরমধ্যে দুটো একাউন্ট স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অসমে থাকা ব্রাঞ্চ। প্রথম ঘটনার পর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপরেও এমন ঘটনা ঘটায় পুলিশের ভূমিকার উপর প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন তারা পুরো ঘটনা যাচাই করে দেখবেন।একবার হ্যাকারদের কবলে আসা একাউন্ট কেন বন্ধ করল না স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মেন ব্রাঞ্চ, এটা আশ্চর্যের বিষয়। সুনন্দা আদিত্য জানিয়েছেন, প্রথম ঘটনার পর সদর থানায় এজাহার দিয়ে সেই কপি সহ মেন ব্রাঞ্চ কমপ্লেন করেছিলেন তারা। যখন অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে একটা একাউন্ট থেকে তিন লক্ষ টাকা ছিনতাই হলো, ব্যাংকের তরফে সেই একাউন্টের অনলাইন ট্রানজেকশন বন্ধ করা হয়নি কেন? এমনকি তিনটি অ্যাকাউন্ট বানিয়ে লোন নেওয়ার নামে আবার ১৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নেওয়ার সুযোগ পেল হ্যাকাররা, অথচ ব্যাংকের রফে এব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করা হলো না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন ব্যাংকে স্কেল-২ স্টরে কাজ করা একজন প্রাক্তন অফিসার।যে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হ্যাকাররা টাকা তুলে নিয়েছে সেটাও অন্য এক ব্যক্তির একাউন্ট। ২০১৩ সালে শেষবার তাতে কেওয়াইসি জমা দেওয়া হয়েছিল। সম্ভবত সেটাও হ্যাক করে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রায় তিন দিন ধরে একই অ্যাকাউন্ট থেকে একের পর এক ট্রানজেকশন করেছে হ্যাকাররা, অথচ পুলিশের কাছে এজাহার দেওয়ার পরেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সতর্কতা দেখানো হলো না, এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি কাছাড় জেলায় যোগ দিয়েছেন নতুন পুলিশসুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশসুপার। সাইবার ব্রাঞ্চ সরাসরি পুলিশসুপারের আওতায় থাকে। এই হাইটেক যুগে তাহলে কি কাছাড় পুলিশ এতটাই পিছিয়ে রয়েছে যে তারা সামান্য হ্যাকারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে? না এটা বিভাগের উদাসীনতার ফল? এই প্রশ্নগুলো জনমনে উঠতে শুরু করেছে।