শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পরীক্ষা, আটক সাত শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পরীক্ষা, আটক সাত শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী

কালিগঞ্জ বাজারের মধ্যে থাকা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেতাজী বিদ্যাপীঠে করোনা পরিস্থিতির সময় সরকারি নীতি নির্দেশিকা অমান্য করে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মে ২৯
,

সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অপরাধে করিমগঞ্জ পুলিশ আট জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং চাপে পড়ে পুলিশ ওই আটজন শিক্ষককে আটক করেছে। ঘটনাটি দক্ষিণ অসমের করিমগঞ্জ জেলার কালিগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের।করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ চলার সময়ে এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা বলে অনেকে ধারণা করছেন। পুলিশ আটজনের মধ্যে সাতজনকেই আজ থানায় নিয়ে আসে। তবে তাদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা থাকায় পুলিশ তাদেরকে মুক্তি দেয় ।

পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে এবার বল ঠেলে দিয়েছে শিক্ষা বিভাগের উপর। এখন শিক্ষা বিভাগ কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই লক্ষণীয়।স্কুলের বকলমে কর্ণধার তথা সরকারি স্কুলের শিক্ষক হোসেন আহমদকেও পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। যদিও স্কুলের আটক শিক্ষক শিক্ষয়িত্রীদের পুলিশ পরে ব্যক্তিগত জামিনে মুক্তি দিয়েছে কিন্তু মামলা চলবে। কালীগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মানবজ্যোতি মালাকার জানিয়েছেন যে স্কুল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার ধারা জামিনযোগ্য থাকায় জামিনে সবাইকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় পুলিশ মোট আট জনের বিরুদ্বে মামলা রুজ্জু করেছে। এরমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ আধিকারিক মালাকার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, কালিগঞ্জ বাজারের মধ্যে থাকা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেতাজী বিদ্যাপীঠে করোনা পরিস্থিতির সময় সরকারি নীতি নির্দেশিকা অমান্য করে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়। এক্ষেত্রে কঁচিকাঁচা শিশুদেরকে স্কুলের পোষাক পরে বিদ্যালয়ে আসতে বারণ করা হয়। তবে স্কুলে পাঠ দানের সময় মুখে মাস্ক পরিধান কিংবা সমাজিক দুরত্বের কোনো বলেই ছিল না। বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ। অবশেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কালিগঞ্জ পুলিশের টনক নড়ে। এলাকার সচেতন নাগরিকদের চাপে পুলিশ স্কুলে ছুটে গিয়ে এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ চাপে পড়ে নিজে থেকেই মামলা রুজ্জু করে স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নির্দেশে কালিগঞ্জ ফাড়ির ইনচার্জ মানবজ্যোতি মালাকার এই মামলা রুজ্জু করেন। সদর থানায় নম্বর ৫১৮/২০২১ এবং ভারতীয় দণ্ড বিধির ১৮৮/২৭০ আর ডাবলিউ ৫১(বি) ধারায় মামলাটি পঞ্জিয়নভুক্ত করা হয়। এদিকে, স্কুলের মুল কর্ণধার হিসেবে জনৈক হোসেন আহমদের নাম না থাকলেও বকলমে স্ত্রীর নামে তিনিই স্কুল পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। এই হোসেন আহমদ উত্তর করিমগঞ্জের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানা গেছে। তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।