মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / শনবিলে নৌকোডুবিতে তলিয়ে গেলেন পাঁচ, উদ্ধার ৩

শনবিলে নৌকোডুবিতে তলিয়ে গেলেন পাঁচ, উদ্ধার ৩

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আগে থেকেই বলেছিল বুধবার সন্ধেবেলা ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতিতেও নৌকো দিয়ে চলাফেরা করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫ জন।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মে ২৭,

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাশয় শনবিলে নৌকোডুবিতে তালিয়ে গেলেন ৫ জন। তবে এদের মধ্যে তিন জনকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হলেও দুজন এখনো নিখোঁজ। তল্লাশি জারি রয়েছে।করোনা পরিস্থিতির জন্যে রাজ্যের সবথেকে বড় জলাশয় শনবিলে অনেক আগেই পর্যটন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। তবু কিছু নৌকো সেখানে চলাফেরা করত এবং সাধারণ লোকেরা সময় কাটানোর জন্য সেখানে যেতেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আগে থেকেই বলেছিল বুধবার সন্ধেবেলা ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতিতেও নৌকো দিয়ে চলাফেরা করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫ জন। এতে রয়েছেন শিশু এবং মহিলাও। এদিন নৌকা চালাচ্ছিলেন নিতিশ দাস নামের এক ব্যক্তি এবং তার ১৭ বছরের ছেলে অজিত দাশ। সাত বছর বয়সের মেয়ে ধনু দাস সহ ৫ ব্যক্তি এদিন জলে তলিয়ে যান। ৫০-বছর বয়সের উজ্জ্বলা দাস এবং ১০-বছর বয়সের হাসি দাস এখনও নিখোঁজ। উজ্জ্বলা দাসের বাড়ি করিমগঞ্জ জেলার কল্যাণপুর গ্রামে। হাসি দাস শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

জেলা দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন এদিন সন্ধ্যে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। নৌকাডুবি হওয়ার পর এলাকাবাসী তাদের খবর দেন এবং এসডিআরএফ বাহিনী সহ একটি বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়। উদ্ধার কাজে যোগ দেন এলাকার মানুষও। তারা তলিয়ে যাওয়ার তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারলেও দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভাগের আধিকারিক বলেন, “সার্কল অফিসার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা এলাকায় উপস্থিত রয়েছেন এবং তারা তলিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই দুর্যোগের সময়ে কেন নৌকা নিয়ে চলাফেরা করছিলেন, এব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। তবে প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে তলিয়ে যাওয়া লোকেদের উদ্ধার করা। আমাদের বাহিনীরা রাতভর সেখানে কাজ করছেন।”ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে, অনেকেই প্রশ্ন করছেন এই দুর্যোগের সময় নৌকো নিয়ে এত গভীর জলাশয়ে কেন যাওয়ার ঝুঁকি নিলেন এই লোকেরা? বিশেষ করে যখন তাদের সঙ্গে শিশু এবং মহিলারা ছিলেন। তবে পুরোটাই তদন্তে উঠে আসবে এবং আগামীতে পুরো তথ্য প্রশাসনের তরফে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। পূর্বাভাস বলছে আগামী কিছুদিন উত্তর-পূর্বের অন্যান্য এলাকাসহ বরাক উপত্যকায়ও ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।

প্রশাসনের তরফে প্রত্যেক জনগণকেও অনুরোধ করা হয়েছে, কোনওভাবে যাতে নিজেদের এমন পরিস্থিতিতে না ফেলেন যেখানে তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্থানীয় বিধায়ক বিজয় মালাকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সব ধরণের সাহায্য করার আশ্বাস দেন।