বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক বুদ্ধদেবের জীবন দর্শন ও বাণী

বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক বুদ্ধদেবের জীবন দর্শন ও বাণী

বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতি - সৎজীবন, সৎচিন্তা, সৎভাবনা।

আশুতোষ দাস

করোনাকালে মানুষ এখন প্রায় ভেঙে পড়ছে। দুঃসময়ের কালোছায়া জড়িয়ে রয়েছে। এর যেন শেষ নেই। এর ভেতর থেকে মানুষ পরিত্রাণের জন্য হাসফাস করছে। মানুষ এখন শান্তি চায়, সুস্থ স্বাভাবিক যাপিত জীবন চায়। পৃথিবীর তার যাত্রা পথে শত বছরের মাথায় বারবার অতিমারি এসেছে। এর গোলক ধাঁধা থেকে মানুষ বেরও হয়েছে।মানুষের জীবনে নানা উত্থান পতনের ভেতর আবার মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। এইরকম এক বির্পয্যস্ত অবস্থা থেকে বের হতে হলে মহাপুরুষের জীবন দর্শনই পাথেয়। এর বিকল্প নেই। মানুষের মনের সুস্থতা ও ইতিবাচক অবস্থার জন্য আধ্যাত্মিক চিন্তা ও মনন এখন খুব বেশি প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক। তাদের মাঝে মহাজ্ঞানী মহামতি বুদ্ধ দেবের সাধন পথই অন্যতম শ্রেষ্ঠপথ বলে অনেকে মনে করেন । তাহলে আজকের প্রেক্ষিতে বুদ্ধের জীবন আর্দশ ও তার অমৃত বাণী নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান যিনি তার সাধনার দ্বারা জেনে গৌতম থেকে মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি জেনেছিলেন জীবনের সারমর্ম কি ? গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিলো শাক্য বংশের মায়াদেবীর গর্ভে। তাঁর পিতার নাম শুদ্ধধন। গৌতমের বাল্যজীবন অন্য দশটি ছেলে মেয়ের মত ছিলেন না। পিতা তার মতিগতি দেখে চিন্তিত হয়ে যশোধরা নামে অপরুপা সুন্দরী কন্যার সঙ্গে বিবাহ দেন। মানুষের দুঃখ মুক্তির পথ খুঁজতে যিনি এসেছেন, তাঁকে ক্ষত্রিয়ের রাজধর্ম ও সংসারের বেড়াজালে আটকাতে পারবে কি ? কোন মোহ তা পারেনি।হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের কপিলাবস্তুর রাজপরিবারের রাজকুমার ছিলেন তিনি। জন্মের সাতদিন পর মায়াদেবীর মৃত্যু হলে তার মাসী প্রজাপতি গৌতমীর স্নেহে বড় হতে থাকেন। সেই থেকে সিদ্ধার্থ প্রতিপালক মাসীর নামে গৌতম নামে পরিচিত হয়ে যান। রাজজ্যোতিষি তার জন্মকুণ্ডলীতে তার সন্ন্যাসযোগ দেখতে পান একথা জানতে পেয়ে তখন তার পিতা তাকে বিশেষ ভাবে ভোগ বিলাসে রেখে সংসার ও ক্ষত্রিয় ধর্মে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার কোন প্রচেষ্টাই শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি ২৯ বৎসর বয়সে পুত্র রাহুলকে রেখে বিপুল বিলাসবহুল জীবনকে উপেক্ষা করে মানুষের চরম মুক্তির সন্ধানে গৃহত্যাগী হন। সারাজীবন অভিজ্ঞতা ও গয়ার নিকটে বোধিবৃক্ষের নিচে দীর্ঘ সাধনার ভেতর দিয়ে জেনেছিলেন মানুষের মুক্তির পথ। বৌদ্ধরা যারা গৃহে থেকে ধর্ম-কর্ম করে তাকে উপাসক বলে আবার যারা সন্ন্যাস নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে তাঁদেরকে বলে ভিক্ষু। বৌদ্ধধর্ম চর্চা চিন্তনে প্রচারে রয়েছে বৌদ্ধসংঘ।

বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতি ১)সৎজীবন, সৎচিন্তা, সৎভাবনা। ২) অনুশাসন ও মনের উপড় নিয়ন্ত্রণ রাখা। ৩) শৃঙ্খলা ব্যতিত স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও সচেতন ৪) তৃপ্তিবোধ সন্তোষ থাকা প্রত্যেকের দরকার, তাই সন্তোষ্টি ৫) ত্যাগ ছাড়া কোন মহৎ কাজ হয়না, ভোগ, বিলাস,মোহ ত্যাগ করা চাই, অন্যের হিতার্থে কাজ না করলে সুখ আসেনা, আনন্দ সঞ্চারিত হয়না। এই রকম অনেক অনেক উপদেশ রয়েছে বৌদ্ধধর্মে। যা এই বিপন্ন সময়ে আমাদেরকে দিশা দেখাবে। তাঁর ধর্মমতে ও বিশ্বাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ ও কোটি কোটি মানুষ জীবন যাপন করছে।বুদ্ধদেবের জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতানৈক্য আছে। তিনি ৮০ বৎসর বয়সে কুশী নগরে ৫৮৬ অব্দে নির্বান অর্থাৎ মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুর সময়কেও অনেকে মহাপরিধিকাল বলে থাকেন। আজকের ভোগবাদী, ধ্বস্ত দৈন্য সভ্যতার মুক্তির পথ একমাত্র বুদ্ধ দেবের আদর্শ, এই কথা দেশে বিদেশে অনেকেই স্বীকার করেছেন।