মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / নেপালে সংসদ ভঙ্গ, নির্বাচন ঘোষণা

নেপালে সংসদ ভঙ্গ, নির্বাচন ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীও সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান।

মিঠুলাল চৌধুরী

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পরামর্শ মেনে নিয়ে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী গত শনিবার সংসদ ভেঙে দিলেন। নভেম্বরে তিনি অন্তর্বর্তী নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করেছেন। তবে দেশের বিরোধী দলগুলি এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে।


নেপালে ২৭৫ সদস্যের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৪ সদস্যের বহিস্কারের পর বর্তমানে ১৩৬ জনের সমর্থন থাকলে তবেই সরকার গঠন করা যায়। এখন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কেপি শর্মা ওলি ও বিরোধী দলের নেতা শের বাহাদুর দেউবা কেউই এখন সেই সমর্থন জোটানোর জায়গায় নেই বলে রাষ্ট্রপতি ভাণ্ডারী মনে করছেন। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে একবার আস্হাভোটে পরাজিত হয়েও কেপি শর্মা ওলি পরে সমর্থক সংখ্যা বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্কট থেকে ওলি রক্ষা পাননি। বৃহস্পতিবার ওলি জানিয়ে দেন, তিনি আর নতুন করে কোনও আস্হাভোটে যেতে চাইছেন না। শুক্রবার কেপি শর্মা ওলি এবং শের বাহাদুর দেউবা দু’জনেই আলাদা আলাদা ভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরকার গড়ার দাবি জানিয়ে আসেন। কিন্তু দু’জনেরই সমর্থক তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। তারপরেই কেপি শর্মা ওলি মন্ত্রীসভার জরুরি বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এবং আগামী নভেম্বর মাসের ১২ ও ১৯ তারিখ ভোটগ্রহণের কথাও বলেন। রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীও সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান। ২০২০ সনের ডিসেম্বরেও তিনি ওলির পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিয়েছিলেন। যদিও এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা পুনর্গঠন হয়।


সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তে নেপালে বর্তমানে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নতুন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণায় ক্ষুদ্ধ বিরোধী দলগুলি আরও একবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছে। নেপালী কংগ্রেস নেতা শের বাহাদুর দেউবা, মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড সহ বিরোধী সব দলই একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে এই অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।