শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ডিআরডিও র টু ডিজি তৈরির বিজ্ঞানীর দলে করিমগঞ্জের জুবিলি

ডিআরডিও র টু ডিজি তৈরির বিজ্ঞানীর দলে করিমগঞ্জের জুবিলি

প্রাইভেট টিউশন করে সংসার চালিয়েছেন৷ করোনা ভাইরাসের ওষুধ তৈরি করেছেন ডিফেন্স রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-র বৈজ্ঞানিকরা রেড্ডিজ ল্যাবরেটরির সহযোগে। এতে সামিল রয়েছেন করিমগঞ্জের জুবিলি পুরকায়স্থ।

অরুপ রায় 

করিমগঞ্জ, মে ২৩,

বরাক উপত্যকার মেয়ে বিশ্বের সামনে উজ্জ্বল করলো গোটা ভারতকে ।বিশ্বের দরবারে বার্তা গেলো বাংলা স্কুলে পড়েও বিজ্ঞানে সফল হওয়া যায় । দক্ষিণ অসমের করিমগঞ্জ জেলার ভারত বাংলা সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রাম মহিসাশন এলাকায় বাংলা মাধ্যমে পড়াশুনা করেও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায় সেটাই প্রমাণ করলেন ডি আর ডি ও – র এক বিজ্ঞানী। যদিও বাংলা স্কুলে শিক্ষা নিয়ে অনেক বাঙালি বিশ্ব জয় অনেক করেছেন তবে করিমগঞ্জের জুবিলির বিষয়টা অবশ্য আজ কালকের মা বাবাদের মুখে ঝামা ঘষিয়ে দিয়েছে যাঁরা বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম শুনলে নিজেদের ছোটো মনে করেন । করিমগঞ্জের গ্রামের বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী আজ গোটা দেশে বাঙালিদের মাথা উঁচু করে দিলো ।করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্যকারী ওষুধ (থেরাপিউটিক অ্যাপ্লিকেশন ড্রাগ টু ডিঅক্সি ডি গ্লুকোজ টু ডিজি) প্রস্তুত করতে ডি আরডিও’র বিজ্ঞানী মহিশাসনের জুবিলি পুরকায়স্থ এর নাম জড়িয়ে যাওয়ায়  খুশির হাওয়া বইছে  করিমগঞ্জে। আর্থিক সমস্যাকে সঙ্গী করে পড়াশোনা করেছেন তিনি ৷ 

প্রাইভেট টিউশন করে সংসার চালিয়েছেন৷ করোনা ভাইরাসের ওষুধ তৈরি করেছেন ডিফেন্স রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-র বৈজ্ঞানিকরা রেড্ডিজ ল্যাবরেটরির সহযোগে। এতে সামিল রয়েছেন করিমগঞ্জের জুবিলি পুরকায়স্থ। তার বাড়ি  সীমান্ত সংলগ্ন  মহিশাষন এলাকায়।  করোনার ওষুধ আবিষ্কারে সামিল হয়ে  তিনি দেশ জুড়ে চর্চিত। ৷  মা-কে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে কর্মরত রয়েছেন তিনি বর্তমানে । বাবা  প্রয়াত সুদর্শন পুরকায়স্থ। মহিশাষন এলাকায় ছোটো একটা দোকান ছিলো তাঁর । ছোটোবেলা সেখানকার স্কুলেই পড়াশুনা করেছেন জুবিলি।  পাথু মহিশাষন হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন প্রথম বিভাগে। দুটি বিষয়ে লেটার পান।  এরপর  ভর্তি হন করিমগঞ্জ কলেজে। তখন তারা লঙ্গাই রোড  এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকতেন। জুবিলির শিক্ষক মৃণাল কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন তিনি। তার সাফল্যে তিনি খুব খুশি । এরপর করিমগঞ্জ কলেজ থেকে  গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে  এমএসসি পাস করেন৷ যোরহাট থেকে নেন পিএইচডি । এরপর  প্রথমে তেজপুরে ও পরে ডিআরডিওতে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন৷  ছোটবেলা থেকেই কঠিন লড়াই করে এগিয়ে গেছেন । সম্প্রতি করোনা মহামারীর সাথে লড়াইয়ের জন্য যে ২-ডিজি ওষুধ তৈরি হয়েছে সেই দলের একজন কর্মী তিনি সেটাই গৌরবের বিষয় বরাকের ।আর করোনার এই ওষুধ তৈরিতে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মত তিনিও কাজ করেছেন । দেশ ও সমাজের কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন জুবিলি পুরকায়স্থ ।আজ এক ভিডিও বার্তায় নিজের কৃতিত্ব নিতে রাজি হননি, তিনি বলেন দলের প্রধানদের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে ধন্য মনে করছি । আপনাদের আশীর্বাদ করুন আগামীতে যেন দেশের জন্য এমন ভালো কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারি ।