মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / নারদ কাণ্ডে গ্রেফতার বঙ্গের চারজন সন্ধ্যায় জামিন পেলেও হাইকোর্টের নির্দেশে রাতে জেল হেফাজতে গেলেন

নারদ কাণ্ডে গ্রেফতার বঙ্গের চারজন সন্ধ্যায় জামিন পেলেও হাইকোর্টের নির্দেশে রাতে জেল হেফাজতে গেলেন

আগামী বুধবার ১৯ মে পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সোমবার সকালে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জিকে নারদ মামলায় তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার

মিঠুলাল চৌধুরী
সোমবার সকালে সিবিআই তৃণমূল কংগ্রেসের ২ হেভিওয়েট মন্ত্রী ও ১ বিধায়ক সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসার পর সারাদিন তৃণমুলীদের ধুন্ধুমার কণ্ড, ভাঙচুর, টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ এবং বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় নিম্ন আদালতে ধৃতদের জামিন দিলেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মধ্য রাতে এদের জেলেই যেতে হলো।সন্ধ্যায় ধৃত চারজনকে জামিন দেওয়া হয়। এরপর এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিবিআই হাইকোর্টে যায়। পরে কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। এবং ৪ জনকে আগামী বুধবার ১৯ মে পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সোমবার সকালে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জিকে নারদ মামলায় তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসে সিবিআই। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহ পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রীসভার অনেক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ নিজাম প্যালেসে পৌঁছে যান। মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ৬ ঘন্টা নিজাম প্যালেসে অবস্থান করেন। সেই সময় নিজাম প্যালেসের বাইরে কেন্দ্রিয় বাহিনীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা তুলকালাম বিক্ষোভ করতে থাকেন। নিজাম প্যালেসে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি হয়। মারমুখী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙ্গা সহ ইট ও পাথর দিয়ে কেন্দ্রিয় বাহিনীকে আক্রমণ করে। রাজভবনেও উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের গেটে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা বিক্ষোভ অবরোধ করে খণ্ডযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করেন। যদিও ঘটনাস্থলগুলিতে পুলিশ ও র‌্যাফ ছিল।সন্ধ্যের দিকে সিবিআই ধৃত ৪ জনকে ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। কিন্তু সিবিআইর বিশেষ আদালত হেফাজতের আবেদন খারিজ করে ৪ জনেরই জামিন মঞ্জুর করে। এরপর নারদ কাণ্ডে আসে নাটকীয় মোড়। কলকাতা হাইকোর্ট ৪ নেতার জামিনে স্থগিতাদেশ দেয়। আগামী বুধবার পর্যন্ত ৪ জনকেই জেল হেফাজতে থাকতে হবে। এরপর নিজাম প্যালেসে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আজকের এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে নারদ মামলায় বিজেপি সিবিআইকে দিয়ে এই গ্রেফতার করিয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়কে কেন গ্রেফতার করা হল না। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। বিজেপির বক্তব্য, আইন অনুযায়ী ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এব্যাপারে তৃণমূল অহেতুক রাজনীতি করছে। মধ্যরাতে এই ৪ হেভিওয়েট নেতাকে প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের প্রতিবাদে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মীদের।