রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ‘বিয়ের আনন্দ’ শেষে সংক্রমিত হয়ে বরের মা-মাসির মৃত্যু!

‘বিয়ের আনন্দ’ শেষে সংক্রমিত হয়ে বরের মা-মাসির মৃত্যু!

এদিকে গীতা দেবীর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর মৈনা এলাকায় চাউর হতেই স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেকের করোনা টেষ্ট করানোর জোরালো দাবি উঠলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গ্রামবাসীদের কোভিড টেষ্ট করানো হয়।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মে ১৫,

মাত্র একদিনের স্বল্প ব্যবধানে চলতি সংক্রমনের ছোবলে প্রাণ গেল একই পরিবারের দুই বোনের। নিজের ছেলের বিয়ের পরই পৃথক পৃথকভাবে এই হৃদয় বিদারক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানাধীন মৈনা এলাকায়। ১৩ মে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গীতা ধরের (৬০) মৃত্যুর পর তাঁর চিতার আগুন ঠান্ডা হওয়ার আগেই গতকাল ছোট বোন রীতা ধরের (৫৫) মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নামার পাশাপাশি এনিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল স্থানীয় শুভেন্দু ধর ও গীতা ধরের পুত্রের শুভ চতুর্থ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান ছিল। সরকারি আদেশে বিয়ে বাড়িতে স্বল্প লোকই জমায়েত হয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন থেকে গীতা ধর তাঁর শরীরে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে করিমগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার শারীরিক অবস্থা বেগতিক থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে গীতা দেবীর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে চিকিৎসকরা সেরকমই চিকিৎসা চালিয়ে যান। এদিকে গীতা দেবীর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর মৈনা এলাকায় চাউর হতেই স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেকের করোনা টেষ্ট করানোর জোরালো দাবি উঠলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গ্রামবাসীদের কোভিড টেষ্ট করানো হয়। আর এতে সেই ঘরে থাকা গীতা ধরের ছোট বোন তথা জ্যা রীতা ধরের (৫৫) শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে একই বাড়ির অর্ধেন্দু ধরের স্ত্রী রীতা ধরকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। এদিকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থাতে গত ১৩ মে সন্ধ্যায় গীতা ধর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গতকাল শুক্রবার হঠাৎ করে হোম আইসোলশনে থাকা রীতা ধরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই রীতাও বোনের সঙ্গে ইহলোক ত্যাগ করেন। একই পরিবারে পর পর দুদিনে এই মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর মৈনা এলাকায়।


যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বর্তমানে বাড়িটি কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে উভয়ের এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি করোনা ভাইরাসকে দায়ি করা হচ্ছে কিনা সেটা চূড়ান্ত হবে পরিবারের কাছে মৃত্যুর সার্টিফিকেট আসার পরেই।এদিকে মরণব্যাধি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৩ মে থেকে রাজ্যের নব গঠিত সরকার বেশকিছু নীতি-নির্দেশিকা বলবৎ করলে ও সাধারণ মানুষ এসবের কোন বিধি-নিষেধ মানতে নারাজ। আজকের দিনে গোটা করিমগঞ্জ জেলায় মাস্ক ব্যবহার সহ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার ব্যাপারে জনগণ কোনভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আর এতে করে সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভবনা নিয়ে সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।