মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্ব

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্ব

শপথ নিয়েই অসমে আগামী পাঁচ বছর স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেন। সাংবাদিকদের শর্মা জানান যে তিনি আলফা নেতা পরেশ বরুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে বরুয়াকে জাতিয় জীবনে ঘুরে আসার

শতানন্দ ভট্টাচার্য

অসমের ১৫ তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নর্থইস্ট ডেভেলপমেণ্ট এ্যালায়েন্সের আহবায়ক ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আজ গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল জগদীশ মুখী। এরপর একে একে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির ১৩ জন বিধায়ক । এদের মধ্যে বিজেপির ১০, অগপ দলের ২ এবং ইউ পি পি এলের ১ জন রয়েছেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সহ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এম এন বিরেন সিং, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফ্যু রিও, বিজেপির রাষ্ট্রিয় সভাপতি জে পি নাড্ডা সহ অনেক কেন্দ্রিয় নেতা। হিমন্তের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সামনে বসে প্রত্যক্ষ করেন মা মৃণালিনী দেবী। উপস্থিত ছিলেন স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।শপথ নিয়েই অসমে আগামী পাঁচ বছর স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেন। সাংবাদিকদের শর্মা জানান যে তিনি আলফা নেতা পরেশ বরুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে বরুয়াকে জাতিয় জীবনে ঘুরে আসার আহ্বান জানাবেন। তিনি বলেন আলোচনার মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন হত্যা, অপহরণ এগুলো সমস্যা সমাধান করে না, বরং জটিল করে। তাই সবকিছু বাদদিয়ে আলফা কে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান নতুন মুখ্যমন্ত্রী।এছাড়াও অসমের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, রাজ্যের বন্যা সমস্যার সমাধান করা, ১ লক্ষ চাকরি , অরোণোদয় প্রকল্পে নতুনত্ব নিয়ে আসা ও মাইক্রো ফাইন্যান্সের ঋণ রেহাইয়ের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা এবং আগামী ৫ বছরে অসমকে দেশের প্রথম ৫টি রাজ্যের মধ্যে অন্যতম একটি রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথাও উল্লেখ করেন শর্মা। তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন , নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বিজেপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে নতুন সরকার কাজ শুরু করবে।

এরআগে আজ শর্মা প্রথমে শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দেন। এছাড়াও যান দোল গোবিন্দ মন্দিরে। হাজোতে পোয়া মক্কাতেও যান হিমন্ত।গত ২ মে বিধানসভার ভোট গণনার পর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে সর্বানন্দ সোনোয়াল ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মধ্যে টানাপোড়েন চলে। পরে দুজনেই দিল্লি তে উড়ে যান। সেখান থেকে ফিরেই বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক মন্ডলীর সভায় সর্বানন্দ সোনোয়াল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নাম প্রস্তাব করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।দিল্লি থেকে ফিরে সর্বানন্দ চলে যান রাজ্যপালের কাছে এবং নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দিয়ে শর্মার পথ প্রশস্থ করেন। এরপর রাজ্যপাল শর্মাকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ তে প্রথম কংগ্রেস দলের হলে গুয়াহাটির ঝালুকবাড়ি কেন্দ্রে নির্বাচন খেলে হেরে যান হিমন্ত। এরপর ২০০১ সনে প্রথম বিধানসভায় নির্বাচিত হন এবং প্রয়াত তরুণ গগৈ র নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারে মন্ত্রী হন। এরপর তিনটি সরকারেই তিনি মন্ত্রী ছিলেন যদিও গগৈ র সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর গদি নিয়ে বিবাদ শুরু হয় এবং ২০১৫ সনে হিমন্ত কংগ্রেস দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সারা রাজ্যে শুরু করেন প্রচার। ২০১৬ তে অসমে বিজেপি সরকার তৈরি করে। সব কা আনন্দ সর্বানন্দ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন সর্বানন্দ সোনোয়াল। এরপর ২০২১ এর নির্বাচনে ১২৬ সদস্যের অসম বিধানসভায় বিজেপি পায় ৬০ টি আসন। মিত্রজোট এজিপি পায় ৯ টি আসন এবং ইউ পি পি এল পায় ৬ টি আসন। তাছাড়া বিরোধী কংগ্রেস ও এ আই ইউ ডি এফ মহাজোট থেমে যায় ৫১ তেই।আগামীকাল শর্মা ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি খুবই চিন্তাজনক। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা থেকে অসমকে কিভাবে মুক্ত করা যায় সেবিষয়ে সরকার ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে।

(মিঠুলাল চৌধুরীর সংযোজন)

উত্তরপূর্ব ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক। নিউজফাইল অনলাইন বাংলার সম্পাদক। অনেক জাতিয় ও রাজ্যিক পর্যায়ে মিডিয়া ফেলোশিপ/পুরস্কার পেয়েছেন। কিছুদিনের জন্যে সরকারি আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেছেন। স্বতন্ত্র গবেষক এবং কুইজ মাস্টারও। বর্তমানে বিভিন্ন ইংরেজি, অসমিয়া ও বাংলা সংবাদপত্রে লিখছেন। লিখছেন পিটিআই তেও।