শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / বাংলাদেশের শাহবাজপুর হয়ে ভারতের লাতুতে মৈত্রী ট্রেন আসবে

বাংলাদেশের শাহবাজপুর হয়ে ভারতের লাতুতে মৈত্রী ট্রেন আসবে

ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সনে কুমিল্লা-আখাউড়া-কুলাউড়া-বদরপুর রেলপথটি চালু করে তৎকালিন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে। এই রেলপথটি ১৯০৩ সনে অসমের লামডিং পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

অরুপ রায়, করিমগঞ্জ, মে ৯

মান্ধাতা আমলের গোয়ালঘরের মতো মনে হলেও এটি একটি রেলওয়ে স্টেশন। বৃটিশ পূর্ব ভারতবর্ষে এর নাম ছিলো “লাতু রেলওয়ে স্টেশন”। এখনো অনেকে এই নামেই ডাকছে, যদিও দেশভাগ তথা ১৯৬৫ সনের পাক-ভারত যুদ্ধের পর এর নাম হয় “শাহবাজপুর রেলওয়ে স্টেশন”। কারণ গণভোটে লাতুর বৃহৎ অংশটি ভারতে থেকে যায় এবং স্টেশনটি সহ কিছুটা চলে আসে পুর্ব -পাকিস্তানে। অবিভক্ত ভারতে বৃটিশরা তৈরি করেছিল এই স্টেশন। তৎকালিন জলঢুপ থানা, বর্তমান বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার মানুষের কাছে ‘লাতু রেলস্টেশন’ নামেই পরিচিত।


ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সনে কুমিল্লা-আখাউড়া-কুলাউড়া-বদরপুর রেলপথটি চালু করে তৎকালিন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে। এই রেলপথটি ১৯০৩ সনে অসমের লামডিং পর্যন্ত প্রসারিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের রেল সংযোগের জন্য আসাম চা রোপণকারী সংঘের দাবির প্রতিক্রিয়ায় আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে ১৮৯১ সনে বাংলার পুর্ব দিকে একটি রেলপথ নির্মাণ শুরু করে। পূর্বতন চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরার কুমিল্লার মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার পথ খোলা হয় ১৮৯৫ সনের রেলওয়ে ট্রাফিকের জন্যে। ১৯৪৭ সনে ভারত ভাগের সাথে এটি গুরুত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। শ্রীহট্টের লোকজন এই রেললাইন দিয়ে করিমগঞ্জ, বদরপুর, হোজাই, লঙ্কা, লামডিং, শিলচর, গৌহাটি যাতায়াত করতেন । এ লাইনে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীসহ মালামাল বহন করত। এই স্টেশন হয়েই ১৯১৯ সালে শ্রীহট্টে পা রেখেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লাতু বা শাহবাজপুর স্টেশনের পরবর্তী স্টেশনের নাম ‘মহিশাসন’, যেটি পূর্বতন অসমের করিমগঞ্জের অংশ। মহিশাসন সীমান্ত রেলওয়ে স্টেশনটি ভারতের সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্ত রেলওয়ে ট্রানজিট সুবিধা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল। স্বাধীনতার নামে দেশভাগের পরেও এই স্টেশনটি ছিলো জমজমাট, হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলত ট্রেন।কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ে মহিশাসন-লাতু রেলওয়ে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মহিশাসন-শাহবাজপুর(লাতু) রুটটি ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে চালুর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেলওয়ে ট্র্যাফিকের অভাবের জন্যে চালু হয়নি । ভৌগোলিকভাবে অসমের জাতিগোষ্টী, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রীহট্ট অঞ্চলের অনেক মিল রয়েছে । তৎকালিন করিমগঞ্জ ছিলো মহকুমা শহর। এই মহকুমার অধীনে ৫টি থানা ছিলো যথাক্রমে করিমগঞ্জ, বদরপুর, জলঢুপ, রাতাবাড়ি ও পাথারকান্দি।সেই সময় শত শত মানুষ গন্তব্যস্থলে যেতে সময়ের আগেই এই স্টেশনে অপেক্ষা করে সময় কাটাতেন। মানুষের কোলাহলে মুখর সেই স্টেশনটি আজ গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে।


কত শত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই লাতু স্টেশনটিতে। শত বৈরিতা স্বত্বেও কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে যদি দুই পঞ্জাবের আঠারী-ওয়াগা সীমান্তপথ চালু থাকতে পারে, তবে এপার বাংলা ওপার বাংলা মিলে কি লাতু-মহিশাসন রেলওয়ে চালু রাখতে পারা যায় না ? অমৃতসর-লাহোর যদি পারে, তবে লাতু-মহিশাসন কেন নয় ? স্বাধীনতার নামে দেশভাগের সেই দাগ শুকোবে কবে, শুনতে কি পারা যাবে মৈত্রির সেই হুইসেল। হ্যা, পারা যাবে কারন সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন পূর্বেই। তাই আশায় বুক বেধে আছে অনেকেই। আর ভাবছেন শিঘ্রই হুইসেল বাজিয়ে ছুটবে ঐতিহ্য আর মৈত্রির বন্ধন অটুট রাখতে লাতুর ট্রেন।