বুধবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / করোনা আতঙ্ক তাড়া করছে চন্দ্রপুর গ্রামকে, দুদিনেই চারজনের মৃত্যু

করোনা আতঙ্ক তাড়া করছে চন্দ্রপুর গ্রামকে, দুদিনেই চারজনের মৃত্যু

এদিকে স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর পর রবিবার বিকেলে শশধর বাবুর স্ত্রী আশালতা দাসেরও মৃত্যু হয়। এরপর গোটা চন্দ্রপুর গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

মিঠুলাল চৌধুরী

দক্ষিণ অসমের হাইলাকান্দি জেলার লালা খন্ডে চন্দ্রপুর প্রথম খণ্ড গ্রামে দুদিনের মধ্যে একই পরিবারের ৩ সদস্য বাবা, মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে আজ মৃত্যু হয় কালী মোহন দাস নামের ৯০ বছরের এক বৃদ্ধের । একই পরিবারের মৃত্যু হওয়া ৩ জন হলেন শশধর দাস ( ৮২ ) , আশালতা দাস ( ৭০ ) ও শৈলেন দাস ( ৪৭ ) । প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার করোনায় মৃত্যু নয় বলা সত্ত্বেও গোটা গ্রামে এক আতঙ্কময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় পরপর ৩ জনের মৃত্যুকে নিয়ে এখনো গ্রামে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩ জনেরই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে গ্রামবাসীরা দাবি করলেও তাদের করোনা পরীক্ষা না হওয়ায় গোটা ঘটনার স্পষ্ট করে কিছুই জানা যাচ্ছে না। গত কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন শশধর দাস। শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্ত এদিন রাতেই শশধর বাবুর ছেলে শৈলেন দাসেরও মৃত্যু হয়। আর এই খবর রটতেই গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


এদিকে স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর পর রবিবার বিকেলে শশধর বাবুর স্ত্রী আশালতা দাসেরও মৃত্যু হয়। এরপর গোটা চন্দ্রপুর গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয় । খবর পেয়ে লালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কর্মীরা চন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিবারের কেউই করোনা পরীক্ষা করতে রাজি না হওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীরা ফিরে আসেন।

পরে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে মৃতদেহগুলো পরীক্ষা করা হলে শুধুমাত্র মৃত আশালতা দাসের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। এরপর বাড়ির অন্য সদস্যের পরীক্ষা করলে দুজনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া যায়। পরে কোভিড প্রটোকল মেনেই মৃতদেহগুলো দাহ করা হয়। গ্রামের যারা দাহ কাজে জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে করোনা টেস্ট করাতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকাটিকে এখনও কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে।তবে শুধুমাত্র ওই বাড়িটি সিল করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পজিটিভ পাওয়া দুজনকে বাড়িতেই আইসলেশনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।