বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / বরাক নিয়ে মন্তব্য, উচ্চতর মাধ্যমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বরাক উপত্যকায়

বরাক নিয়ে মন্তব্য, উচ্চতর মাধ্যমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বরাক উপত্যকায়

কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা।

মিঠুলাল চৌধুরী

ছবি : অরুপ রায়

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল যখন বরাক – ব্রহ্মপুত্রের মিলনের কথা বলেন, সেই সময় অসম হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দয়ানন্দ বুঢ়াগোঁহাইর হুমকি, অসমে থেকে অসমিয়া শিখতে না চাইলে বরাক উপত্যকাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া উচিত। অসমিয়া বলে যদি পরিচয় দিতে না চান, বাঙালি হিসেবে থাকতে চান, তাহলে তাদের অসম থেকে সরে যাওয়া উচিত। অসম থেকে সরে গিয়ে নিজেদের রাজ্য বানান।কাউন্সিল চেয়ারম্যানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি কীভাবে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন । এ ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সুস্মিতা দেব। কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেছেন। এদিকে বরাক বিদ্বেষী বক্তব্য রাখার জন্য অবিলম্বে কাউন্সিল চেয়ারম্যানেকে বরখাস্ত করার দাবি উঠল বরাক জুড়ে । বিভিন্ন দল, ব্যক্তি ও সংগঠন এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। সারা কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ছাত্র সংস্থা ( আকসা) বঢ়গোঁহাইকে অতি শীঘ্র পদ থেকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। সরকারি উচ্চপদে বসে সংবিধান বিরোধী তথা চরম জাতি বিদ্বেষী বক্তব্য রাখার জন্য তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। নইলে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার নেবে । এদিকে বড়গোঁহাইয়ের বিরুদ্ধে শিলচর সদর থানায় মামলা করলেন আইন পড়ুয়া প্রথমা দত্তরায়। এই পড়ুয়া তার এফআইআরে উল্লেখ করেছেন, কাউন্সিল চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যে সংবিধান প্রদত্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরণের মন্তব্য সমাজে বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করবে। বড়গোঁহাইয়েকে অভিযুক্ত করে থানায় ৫টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি প্রটোকল ভঙ্গ করে মিডিয়াতে বরাক বিদ্বেষী বক্তব্য রাখার দায়ে অবিলম্বে হায়ার সেকেন্ডারি কাউন্সিল চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করুক সরকার , অন্যথায় আন্দোলনে উত্তাল হবে বরাক – প্রতিক্রিয়া বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর।

আসাম হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দয়ানন্দ বড়গোহাই সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে বরাকের নাগরিকদের আসামে থাকতে হলে অসমিয়া শিখতে হবে। অন্যথায় আসাম ছেড়ে বেরিয়ে যাক বরাক উপত্যকা। তার এই উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকার এক শ্রেণীর ব্যাক্তিত্বরা বরাক সম্পর্কে কি মনোভাব পোষণ করেন। তিনি বলেন দয়ানন্দ বড়গোহাই এসব সংবাদ মাধ্যমে না বলে সরকারকে বলুন। যদি সরকারের মনোভাবও তাই হয় তবে পৃথক হতে কোন আপত্তি নেই বরাকের নাগরিকদের। যদিও এই দাবি এখনো তেমনভাবে করেননি বরাক বাসী তবে স্বাভিমানে আঘাত লাগলে যে কোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তাঁরা। তবে এসব করে ইচ্ছাকৃত ভাবে বরাককে পৃথকীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিডিএফ যুব ফ্রন্টের আহ্বায়ক কল্পার্নব গুপ্ত বলেন যে একটি সরকারি পদে থেকে এইধরনের তীব্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য করে নিঃসন্দেহে সরকারি নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পরিষদের চেয়ারম্যান। এজন্য তাঁকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে সরকারকে। অন্যথায় এর প্রতিবাদে বরাকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রদীপ দত্তরায় এদিন আরো বলেন যে বরাকের লোক মোটেই অসমিয়া বিরোধী নন। তাঁরা অসমিয়া ভাষা সংস্কৃতিকে ভালবাসেন এবং অধিকাংশই অসমিয়া ভাষায় কথা বলতে ও বুঝতে পারেন। কিন্তু জোর করে তাদের উপর অসমিয়া ভাষা চাপিয়ে দেবার কোন প্রচেষ্টা সর্বশক্তি দিয়ে রুখবেন তাঁরা। কারনঃ সরকারি কর্তাব্যক্তিদের মনে রাখা দরকার যে এই রাজ্য শুধু অসমিয়া দের নয়,এর এক বহুভাষিক চরিত্র রয়েছে। এখানে বোড়ো জনগোষ্ঠীর লোকেরা রয়েছেন যাদের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ, আছেন এক কোটি বাঙালি। আছেন ডিমাসা,কার্বি সহ বহু গোষ্ঠী। এদের সবাইকে জোর করে অসমিয়া বানাতে গেলে আবার শতধাবিভক্ত হবে আসাম।

বিডিএফ এর আরেক আহ্বায়ক পার্থ দাস বলেন যে ১৯ যে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সেবা চেয়ারম্যান কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ কে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে গত সোমবারের মধ্যে এই পরীক্ষা কার্যসূচি পরিবর্তন করে সংশোধিত রুটিন প্রকাশ‌ করবেন তাঁরা। এসব যে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি ছিল তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত এবং তাঁরা যে ইচ্ছাকৃতভাবে বরাক বাসীর ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন তাও বোঝা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে শিলচরের সাংসদের ভুমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ ব্যাক্ত করেন তিনি। তার বক্তব্য ২৬ শে এপ্রিলের প্রস্তাবিত বনধকে বাতিল করার জন্যই যে তড়িঘড়ি করে এই ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংসদ রাজদীপ রায় ,তাও বোঝা যাচ্ছে। অন্যথা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেনো এখন অব্দি কোনো পদক্ষেপ নিলনা শিক্ষা বিভাগ ?

বিডিএফ এর সদস্যরা এদিন বলেন যে বিডিএফ সহ উপত্যাকার পঁচিশ টি সংঘটন মিলে যে বনধ ডাকা হয়েছে তা অবশ্যই সফল হবে।