সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / পদার্থ বিজ্ঞানের ‘মিউয়ন’ গবেষণায় হাইলাকান্দির অতনুর কৃতিত্ব

পদার্থ বিজ্ঞানের ‘মিউয়ন’ গবেষণায় হাইলাকান্দির অতনুর কৃতিত্ব

তাদের আশপাশে মেঘের মত থাকে ভার্চুয়াল ইলেকট্রন ও অন্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা। ফলে এই 'g'-এর মান হওয়া উচিত ২-এর বাশি। এই পরীক্ষার নাম তাই দেওয়া হয়েছে ' মিউয়ন জি মাইনাস ২'।

নিউজফাইল সংবাদ, হাইলাকান্দি, এপ্রিল ১৮,

পদার্থ বিজ্ঞানের ‘মিউয়ন’ গবেষণায় সাফল্যের নজির গড়ল দক্ষিণ অসমের হাইলাকান্দি জেলার কৃতী সন্তান অতনু নাথ। গুয়াহাটির আই আই টিতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি গবেষক (আর এণ্ড ডি) হিসাবে কর্মরত অতনু পদার্থ বিজ্ঞানী হিসাবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ‘মিউয়ন’ নিয়ে গবেষণা সাফল্যের এক নজির হয়ে উঠল।
আমাদের খুবই চেনা, জানা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা ইলেকট্রনের এক ‘তুতো ভাই’ মিউয়ন। আমেরিকার ইলিনয়ের বাটাভিয়ায় ‘ফার্মি ন্যাশনাল অ্যাক্সিলেটর ল্যাবরেটরি (ফার্মিল্যাব) -এ ধরা পড়েছে ইলেকট্রনের তুতোভাই মিউয়নের অদ্ভুত সব আচরণ। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ফার্মিল্যাবের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশাল মাপের গবেষণায় ফার্মিল্যাবের কণাপদার্থবিজ্ঞানী তথা অন্যতম গবেষক ক্রিস পলির নেতৃত্বে গবেষণার কাজ করেছেন বিশ্বের সাতটি দেশের ২০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী। এই বিজ্ঞানী দলে অন্যতম গবেষক হিসাবে গবেষণার কাজ করেছেন হাইলাকান্দি জেলা তথা বরাক উপত্যকার গর্ব অতনু নাথ। কলকাতার সাহা ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর বরিষ্ঠ কণাপদার্থবিজ্ঞানী নবকুমার মণ্ডল এই গবেষণার সাফল্য প্রসঙ্গে বলেছেন, এটা সত্যিই সাড়া জাগানো ঘটনা। কারণ এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও অনেক কণা বা পদার্থের কথা আমরা এখনও জানি না। তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনের দুই তুতো ভাই, মিউয়ন এবং টাও কণা। মিউয়ন ইলেকট্রনের চেয়ে ২০৭ গুণ ভারী। আর টাও কণারা মিউয়নের চেয়ে আরও ১৭ গুণ বেশি ভারী। ভারী বলেই মিউয়ন এবং টাও কণারা অস্থায়ী হয়। তেজস্ক্রিয় বিকিরণে ভেঙে যায় ইলেকট্রন ও সবচেয়ে হালকা কণা নিউট্রিনোয়। মিউয়ন ভেঙে যায় এক সেকেণ্ডের ২২ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ সময়ের মধ্যে। এই মিউয়নের একটি বিশেষ ধর্ম রয়েছে। যার নাম ‘ম্যাগনেটিক মোমেন্ট’। একে ইংরেজির ‘g’ দিয়ে বোঝানো হয়। ৯৩ বছর আগে বিজ্ঞানী পল ডিরাক তাঁর তত্ত্বে দেখান একটি মিউয়নের ক্ষেত্রে এই ‘g’-এর মান হওয়া উচিত ২। কিন্তু পরে জানা যায় এই মিউয়ানরা একা থাকে না। তাদের আশপাশে মেঘের মত থাকে ভার্চুয়াল ইলেকট্রন ও অন্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা। ফলে এই ‘g’-এর মান হওয়া উচিত ২-এর বাশি। এই পরীক্ষার নাম তাই দেওয়া হয়েছে ‘ মিউয়ন জি মাইনাস ২’।
বিশাল এই গবেষণায় অতনুর মত কৃতী বিজ্ঞানীরা যে সাফল্যের হদিস দিলেন তাতে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলা যায়। জেলার এক প্রান্তবর্তী অঞ্চল লালা শহর থেকে অতনু এই গবেষণার শরিক হওয়ায় স্বভাবতই গোটা বরাক উপত্যকা জুড়ে অন্য এক মাত্রার উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হাইলাকান্দি জেলার লালা শহরের এস পি রোডের শিক্ষক পিতা বীরেন্দ্রকুমার নাথ ও শিক্ষিকা মা বিনতা রানী নাথের ছেলে অতনু লালা উচ্চতর মাধ্যমিক ও বহুমুখী বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিলচরের রামানুজ গুপ্ত কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে গুরুচরণ কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক হন।