শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / পরিবারিক কলহ : একই দিনে জোড়া খুন করিমগঞ্জে

পরিবারিক কলহ : একই দিনে জোড়া খুন করিমগঞ্জে

দূর থেকে ঘটনাটি দেখে সৎভাইদের হাত থেকে আরেক সৎভাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সভাপতি সুনাহরকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়েন হতভাগ্য যুবক সমছুল হক ।

অরুপ রায়,
করিমগঞ্জ, এপ্রিল ১৭,

পুত্রবধুর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন শ্বশুর, বউদির হয়ে কথা বলায় ক্ষিপ্ত পিতার হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে ১৭ বছরের কিশোর খুন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চাল বন্টন নিয়ে মতানৈক্যের জেরে সৎভাইদের দলবদ্ধ হামলায় মাথায় রডের আঘাতে প্রান গেল বয়স ত্রিশের আরেক যুবকের । একই থানা এলাকার পৃথক দুটি স্হানে উভয় ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করার পর তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ছেলেকে নিজের হাতে খুন করে মোটা অঙ্কের টাকা সঙ্গে নিয়ে মিজোরামে পালিয়ে যাওয়ার আগেই পুলিশ ওৎপেতে বসে ঘাতক পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে । একই ভাবে সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্হায় ভাই খুনের দুই অভিযুক্তকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। কাকতালীয় ভাবে আপনজনদের হাত খুন হওয়া উভয় হতভাগ্যকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওয়াহাটি নিয়ে যাওয়ার সময রাস্তায় এদের মৃত্যু হয়। এছাড়া উভয় হতভাগ্য আক্রান্ত হয়েছেন আপনজনের হাতে আবার উভয়ের জখমই মাথায় ছিল। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয়ের শেষকৃত্য সম্পূর্ন হয়েছে নিজস্ব গ্রামেই ।
                   বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার সময প্রথম খুনের ঘটনাটি সংঘটিত হয় কাদাইরগুল গ্রামের ১৬৩ নং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চত্বরেই । অভিযোগ মতে, কেন্দ্রটির পরিচালন সমিতির সভাপতি জনৈক সুনাহর আলী । কেন্দ্রের সরকারি বরাদ্ধ চাল ও অন্যান্য শিশু খাদ্য বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে মতানৈক্যের জেরে সভাপতি সুনাহরকে রড-লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে তারই আপন ভাই ধৃত তুতিউর রহমান, মজির উদ্দিন ছাড়াও মলিক উদ্দিন ও সালিক উদ্দিন । দূর থেকে ঘটনাটি দেখে সৎভাইদের হাত থেকে আরেক সৎভাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সভাপতি সুনাহরকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়েন হতভাগ্য যুবক সমছুল হক । এই সময় ক্ষিপ্ত সৎভাইদের রোষে পড়ে দলবদ্ধ রড ও লাঠির ঘায়ে মাথায় মারাত্মক জখম হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন সমছুল হক । স্হানিয়রা আক্রান্ত সমছুলকে ঘটনাস্হল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নিলামবাজার হাসপাতাল এবং পরে সেখান থেকে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয় । কিন্ত তাঁর অবস্হা অপরিবর্তিত থাকায় বিকেলের দিকে শিলচর মেডিক্যালে পাঠানো হয় । সেখান থেকে বাইার যাওয়ার সময় বাস্তায়ই দুজনের মৃত্যু হয়।

রাতেই হতভাগ্য সমছুলের স্ত্রী রূপসানা বেগম ধৃত তুতিউর ও মজির সহ মোট চারজনসহ সৎ ভাসুরকে অভিযুক্ত করে খুনের মামলা দায়ের করেন। শেষ পর্যন্ত ওইদিন রাতেই সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন প্রধান দুই অভিযুক্ত তুতিউর রহমান ও মজির উদ্দিনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ । বাকি দুই অভিযুক্ত যদিও ফেরার রয়েছে তবে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করতে সিআই আনোয়ার চৌধুরীর নেতৃত্বে ওসি কে সিংহ সহ বিশাল বাহিনী নিয়ে জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন ।

এদিকে অন্য খুনের ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ঘটেছে থামুয়া-আলমখানী গ্রামে । অভিযোগে জানাগেছে,  ইফতারের পর বয়স পঞ্চান্নোর সফিকুর রহমান তাঁর পুত্রবধুর সঙ্গে পরিবারিক কোন এক বিষয় নিয় বচসায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় তাঁরই সতেরো বছরের  ছেলে ইসমাইল হোসেন বউদির হয়ে সুপারিশ করায় রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে পিতা সফিকুর ধারালো দা দিয়ে ছেলের মাথায় কোপ বসায় । মাথার পিছন দিকে একাধিক কোপে হতভাগ্যের মাথার মধ্যেই ঘাতক দা ফেঁসে গেলে কোপ বন্ধ করে ধৃত সফিকুর রহমান । পরে হতভাগ্যের মা কোন ক্রমে দা টি মাথা থেকে খুলে নিলামবাজার হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে অবস্থা বেগতিক দেখে বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিন্তু রাস্থায়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

হতভাগ্য ইসমাইলের ঘাতক পিতা সফিকুর রহমান রাগের মাথায় নিজ ছেলেকে খুন করে নগদ এক লক্ষ বাষট্টি হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে মিজোরামে আত্মগোপন করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে পুলিশ আগাম খবর পেয়ে সিআই আনোওয়ার চৌধুরী, ওসি কমলেশ সিংহ , এসআই আব্দুল হাসিব, এএসআই আহমদ হোসেন বিশাল বাহিনী নিয়ে ওৎপেতে বসে কালিগঞ্জ এলাকা থেকে গতকাল রাতেই ঘাতক সফিকুরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় । জানাগেছে , শুক্রবারে ধৃত সফিকুর রহমান (৫৫)কে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতে তাকে হাজতে পাটিয়ে দিয়েছে ।