বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / শিশু মনোজগৎ

শিশু মনোজগৎ

সেইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ প্রারম্ভিক শিক্ষায় মাতৃভাষার সঙ্গে মাতৃদুগ্ধের তুলনা করেছেন। আমরা শুরুতে মাতৃভাষা,পঠন পাঠনে শিশুদেরে জীবন যাপনের ধারাপাত আরম্ভ করলে তা হবে মঙ্গল।

আশুতোষ দাস

জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝেছি শিশু ও কিশোরদের নিয়ে স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে, শিশু মনোজগৎকে জেনেছি ও উপলব্ধি করেছি শিশুরা এক স্বপ্ন জগতের বাসিন্দা। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে আর উপযুক্ত শিক্ষাই তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়। কিন্তু বড়ো দুঃখের বিষয় এইসব সুপ্ত প্রতিভা অতি সচেতন কোন কোন অভিভাবকের কঠোর শাসনের চাপে এসব কোমল মতি শিশু-কিশোরদের প্রতিভার মৃত্যু ঘটছে। কোন কোন অভিভাবক চান তার সন্তানকে সবকিছুতেই পারদর্শী করাতে কিন্তু বাস্তবে কখনো তা সম্ভব নয়। কিন্তু তা তারা মানতেই রাজি নয়। রবিবারে গানের স্কুলে যাওয়া, অঙ্কন ক্লাস, ব্যায়াম, মাষ্টার মশাইয়ের হোম টাস্ক করা। কিন্তু শিশুদেরও যে একটা মন আছে তা তারা মানতে নারাজ।
আজকের সময়ে শিশু ও কিশোরেরা তার স্বপ্নের জগৎ থেকে সরে এসে বস্তুতান্ত্রিক ভোগবাদী অভিভাবকদের ইচ্ছা পূরণের দাসখৎ এ পরিনত হয়েছে। অর্থাৎ শিশুকে বাড়তি বই ও ইচ্ছাপূরণের চাপে তার খেলাধূলা মুক্ত মনে চলাফেরা বন্ধ হয়েছে। শুধু মাত্র রেজাল্ট ভালো করার হোমওয়ার্কের ভেতর নিজেকে নিবদ্ধ রেখেছে। অতিরিক্ত বইয়ের পাঠ ও পড়াশোনার চাপে তার স্বাভাবিক জীবনবোধ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠতে পারছে না, এনিয়ে সমাজ বিজ্ঞানীরা বারবার সচেতন করে দিচ্ছেন সুশীল সমাজকে। কখনো শিশু ও কিশোরদেরকে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না, দিলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে, আপনি যখন বুঝবেন তখন আপনার আয়ত্বের বাইরে চলে যাবে অর্থাৎ পরিনত বয়সে নানা মনোরোগে আক্রান্ত হতে পারে। ভারত সরকারের শিক্ষাবিভাগ তাই কোন শিশুকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে শিক্ষাদান অর্থাৎ পাঠদান করতে আপত্তি তোলেছেন, শিক্ষাদান হোক আনন্দের সাথে। কিন্তু সরকারি স্কুলে এইসব নিয়ম হলেও বেসরকারি স্কুলে তা মানা হচ্ছে কি ? রুশো ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই একথাগুলো বারবার বলেছেন, সেইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ প্রারম্ভিক শিক্ষায় মাতৃভাষার সঙ্গে মাতৃদুগ্ধের তুলনা করেছেন। আমরা শুরুতে মাতৃভাষা,পঠন পাঠনে শিশুদেরে জীবন যাপনের ধারাপাত আরম্ভ করলে তা হবে মঙ্গল।
আমরা অভিভাবক যেন এইটুকু ভুলে না যান । শিশু ও কিশোরদেরকে তার স্বাভাবিকভাবে জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে দিন। বদলে যাচ্ছে সময়, নানা জটিল প্রেক্ষাপটে আজ শিশু ও কিশোরেরা অসহায়, তার খেলার মাঠ নেই, “করোনা ভাইরাস” এমনকি নানা কারণে তারা গৃহবন্দী, হয়তো কারো কাছে কার্টুন ও মোবাইল গেইম্ তাদের সারাক্ষণের সঙ্গী। এটা খুব একটা আনন্দের শুভবার্তা নয়। তাই আমাদের প্রজন্ম অর্থাৎ সন্তান সন্ততিকে রক্ষা করতে হবে হৃদয়ের ভাষার প্রীতির স্পর্শে। জানি আপনারা কঠিন জীবন সংগ্রামে খুব ব্যস্ত। তবুও এরই মধ্যে যতটুকু সময় পান, অভিভাবক হিসেবে সময় দিন। নয়তো ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে অনেক বেশি আফশোস করতে হবে। ইন্টারনেট যতই আসুক, বিশ্বায়নে যতই পৃথিবী বদলে যাক্ কিন্তু কিছু কিছু শাশ্বত দৃঢ় সত্য বদলে যায় না, মানুষের চিরন্তন ভাবনার শিকড়ে আজও সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে।