বুধবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ভ্যাকসিন নিয়েও করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, করিমগঞ্জে চাঞ্চল্য

ভ্যাকসিন নিয়েও করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, করিমগঞ্জে চাঞ্চল্য

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ফের রাজ্যে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

অরুপ রায়, করিমগঞ্জ, এপ্রিল ৮,

করোনার দুটি ভেকসিন নেওয়ার পরও আজ করোনা পসিটিভ ধরা পড়ে  করিমগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাঃ অরুনাভ চৌধূরীর । এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বুধবার করিমগঞ্জ শহরের সুভাষ নগর এলাকার এক বাসিন্দার কোরোনা সংক্রমিত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু আজ আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দেয়। এনিয়ে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় সুভাষ নগর এলাকায়।সকাল ১১টায় যখন কোরোনা আক্রান্ত হওয়া এই রোগী এলাকার লোকের চোখে পড়ে তারপর থেকেই শুরু হয় চাঞ্চল্য।এলাকাবাসির মতে কোরোনা আক্রান্ত এই রোগীকে কেনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দেয়। এখন পর্যন্ত ৬ রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তবে সুভাষ নগর এলাকায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এবং আজ এই এলাকায় কন্টেইনমেন্ট জোন করার জন্য সদর সার্কল অফিসার ত্রিদিপ রায় এলাকায় গেলে এলাকার নাগরিকরা প্রতিবাদ করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকার নিন্দা জানান । নাগরিকদের প্রশ্ন যে ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তা তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা কি করে বাজার করতে যাচ্ছেন। নাগরিকদের প্রতিবাদে পিছু হাটতে বাধ্য হন সার্কেল অফিসার ।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ফের রাজ্যে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই সংক্রমনের ঢেউ এখন পর্যন্ত ভারত-বাংলা সীমান্ত জেলা করিমগঞ্জে তেমন আছড়ে না পড়লেও নতুন করে করোনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্কিত জেলাবাসী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ধীরে ধীরে এই জেলায়ও আছড়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরও। তবে এবার করোনা ঠেকাতে বেশকিছু নীতি-নির্দেশিকা ছাড়াও এই সংক্রমণ রোধে ব্যাপকভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন প্রয়োগের উপরও। গোটা রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে করিমগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও শুরু হয়েছিল এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র মতে, এ পর্যন্ত গোটা করিমগঞ্জ জেলায় মোট ৩৭, ৫৫০ জনের শরীরে এই রোগ প্রতিরোধ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে পাথারকান্দি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধীনে বিভিন্ন বয়সী মোট ৭,৪৫৫ জনকে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। জানা গেছে ভয়াবহ এই রোগ প্রতিরোধে প্রায় প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমা সুরক্ষা কর্মী ছাড়া ও সমাজের আরোও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত লোকেরা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ একটি সূত্রের খবর, নির্বাচনের দু-একদিন আগে থেকে ভ্যাকসিনের ভাঁড়ায় টান পড়েছে। ধীরে ধীরে কমে এসেছে ভ্যাকসিনের সাপ্লাইয়ের সংখ্যা ও। ফলে ভয়াবহ এই রোগ প্রতিরোধে শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগের ইচ্ছে থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণের প্রতিষেধক টিকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে করোনা নিয়ে এই আতঙ্কময় পরিবেশে সীমান্ত জেলার প্রতিটি হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছাড়িতে মাস্কহীন জনতার ঠেলা ধাক্কা আগামীদিনে জেলার জন্য এক অশনি সংকেতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অভিমত জেলার সচেতন নাগরিকের। তাঁরা এব্যাপারে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে আরো ও কঠোর হবার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণের ভ্যাকসিন সরবরাহের জোরালো দাবি জানান।