মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / দেশে ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ কিন্তু অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য “মাস্ক পরতে হবে না, করোনা নেই !”

দেশে ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ কিন্তু অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য “মাস্ক পরতে হবে না, করোনা নেই !”

দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড গড়ে বাড়ছে লাগামছাড়া মৃতের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র।

শতানন্দ ভট্টাচার্য / মিঠুলাল চৌধুরী

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১.১৫ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের কয়েকটি রাজ্যের দশটি জেলায় সংক্রমণের হার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কেন্দ্র ইতিমধ্যে পঞ্চাশটি বিশেষ টিম গঠন করেছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে। কেন্দ্র সাবধান করে দিয়েছে যে আগামী একমাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেভাবে রোজ সংক্রমণের হার বাড়ছে তাতে ২০২০ র ইনফেকশন রেট ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, কর্ণাটক সহ কিছু রাজ্যের অবস্থা ভয়াবহ। যে দশটি জেলায় সংক্রমণের হার অধিক সেগুলো হলো পুনে, থানে, নাসিক, নাগপুর, ব্যাঙ্গালুরু আরবান, ঔরঙাবাদ, আহমেদ নগর, দিল্লি ও দুর্গ।

পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড গড়ে বাড়ছে I বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। ৮ এপ্রিল সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।


এদিকে আমেরিকার এক রোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আগামী ২ সপ্তাহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৫০ দিনে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ গুনেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু অসমে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতার সঙ্গে মিল নেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যের । স্বাস্থ্যমন্ত্রী শর্মা বলেছেন, অসমে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই, কারণ এখানে করোনা সংক্রমণ নেই। এমনকি উৎসাহ উদ্দিপনার সঙ্গে তিনি বিহু পালনের কথাও বলেছেন। এদিকে অসমে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৯২ জন। এতে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেসুরো হলেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখে করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়েছে অসমের স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা এদিকে উল্টো কথা বলছেন । তাদের বক্তব্য , অন্তত আগামী জুলাই মাস অবধি সামাজিক দুরত্ব মেনে চলতে হবে। মাস্ক ভুললে চলবে না। সংক্রমণ এড়াতে গেলে নিয়মিত ব্যবধানে হাত ধুতে হবে। এখন অসমের জনগণ ঠিক করুন করোনা থেকে বাঁচতে কি করা উচিত।

অসমে সংক্রমণ বেড়ে গেলে ধরে নিতে হবে নির্বাচনী প্রচারে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি এবং কোনো নিয়ম না মানাই এ জন্যে দায়ি। অনেকেই নির্বাচনের সময় হওয়া অনিয়মই অসমে করোনা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার করোনা নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা অনেককেই অসন্তুষ্ট করেছে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এরা যা খুশি বলতে পারেন বলেও অনেকে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।