শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মসজিদ নির্মাণে বাধা বি এস এফের, উত্তেজনা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মসজিদ নির্মাণে বাধা বি এস এফের, উত্তেজনা

বিএসএফ জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে ব্যাংকার খনন করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহলও বৃদ্ধি করেছে।

অরুপ রায়,
করিমগঞ্জ, মার্চ ২৬,

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বি জি বি । মৌলভিবাজারের জুড়ি সীমান্তে প্রায় দুশো বছরের পুরনো মসজিদ পুনর্নির্মানে বাঁধা প্রদান করেছে বিএসএফ। এ নিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার গজুকাটা এবং করিমগঞ্জ জেলার লাফাশাইল সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় ব্যাংকার খনন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে বিজিবি। গত তিন দিন থেকে সীমান্ত এলাকায় এই অবস্থা বিরাজ করলেও সোমবার দিনভর ভারতীয় বাহিনী জিরো লাইনের ভেতরে প্রবেশ করে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারি অস্ত্র মজুদ করেছে বলে জানা গেছে। বিজিবিও মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দেওয়া ও ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী ভূমিকার জবাব দিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলেও জানা গেছে। সীমান্ত এলাকা জুড়ে তারা শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সব মিলিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতংকিত অনেকে ইতোমধ্যে পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে গেছেন বলে লাফাশাইল গ্রামের এক বাসিন্দা সাংবাদিকদেরকে জানান।
এদিকে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল মো: শাহ আলম সিদ্দিকি সে দেশের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় বাহিনী জিরো লাইনের ১৫০ গজের ভেতরে প্রবেশ করে কোন ধরণের বাঁধা প্রদান করতে পারে না । তারা সীমান্ত আইন লংঘন করে দুশো বছরের পুরনো মসজিদ পুনর্নির্মানে বাঁধা প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জানা জানা গেছে, করিমগঞ্জ জেলার লাফাশাইল এবং বাংলাদেশের গজুকাটা সীমান্ত এলাকার ১৩৫৭ নম্বর পিলারের ভেতরে বাংলাদেশের অংশে গজুকাটা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দুশো বছরের পুরনো পাকা ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী তা পুনর্নির্মানে ব্যবস্থা করেন।
২০১৮ সনে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রামবাসী নেওয়ার পর তারা বিজিবির সহায়তা চান। তখনকার বিজিবি-৩২ ব্যাটলিয়ানের কমান্ডার বিএসএফ’র কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেন বলে বাংলাদেশের পক্ষে বি এস এফ কে জানান বলে জানা গেছে। কিন্তু নির্মাণ কাজের নিচ অংশের পিলারসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য যখন প্রস্তুতি চলছিল তখনই বিএসএফ সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে।

এদিকে দীর্ঘ তিন বছর পর গত সপ্তাহে বিজিবি-৫২ ব্যাটেলিয়নের সঙ্গে বি এস এফের বৈঠকে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তা পুনর্নির্মান করতে বিএসএফ বাঁধা প্রদান করবে না বলে আশ্বস্থ করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে । কিন্তু এলাকাবাসী বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণের সব প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করলে শনিবার বিকেলে বিএসএফ তাতে বাঁধা প্রদান করে।
গজুকাটা এলাকায় বিএসএফ জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে ব্যাংকার খনন করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহলও বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি ৫২ ব্যাটলিয়ান তাদের অবস্থান আরো দৃঢ় করে জবাবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।এদিকে কাল বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্বাহ আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে বি এস এফ এর ০৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিক্রম সিং এর তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও কোন সুরাহা হয়নি। তবে বি এস এফ – বি জি বি র মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়নি।উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি সম্প্রতি বজায় রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএসএফ এর বাধার পর থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে
এ বিষয়ে বিজিবি-৫২-র কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল মো: শাহ আলম সিদ্দিকি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিএসএফ সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর মসজিদ নির্মাণ কাজে কোন ক্রমেই বাঁধা প্রদান করতে পারেন না। বিএসএফ এখানে বাঁধা দিয়ে অন্যায় করছে। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি জানান, গজুকাটা সীমান্তসহ তাঁর আওতাধীন সকল এলাকায় বিজিবি’র শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।তবে বি এস এফও শক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে একটি মহল থেকে দাবি করা হয়েছে।