রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / করিমগঞ্জ পুরসভার উন্নয়নের ২২.৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ মামলা গোপন করে মনোনয়ন বিজেপি প্রার্থীর, নির্বাচন কমিশনে নালিশ

করিমগঞ্জ পুরসভার উন্নয়নের ২২.৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ মামলা গোপন করে মনোনয়ন বিজেপি প্রার্থীর, নির্বাচন কমিশনে নালিশ

২০১৬ সালে ডা:মানস দাস করিমগঞ্জ পুরসভার কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময়ে তার সতীর্থ পুর কমিশনার তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা প্রয়াত শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য সেই সময় দাসের বিরুদ্ধে পুরসভার উন্নয়নের ২২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মার্চ ২৩

অপরাধের মামলা গোপন রেখে মনোনয়ন জমা দিয়ে এবার বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ অসমের উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা আসনের বিজেপির প্রার্থী ডা: মানস দাস ।

নির্বাচন বিধি মতে যেকোন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার সঙ্গে জানাতে হয় তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধমুলক মামলা দায়ের করা আছে কি না । যদি থাকে তাহলে বিস্তারিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ পত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘোষণা করা এবং যে দল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সেই দলের ওয়েবসাইটে দেওয়া । কিন্তু বিজেপির প্রার্থী ডা:মানস দাস তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কোন উল্লেখ করেননি মনোনয়ন পত্রে বলে জানা গেছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনে

এদিকে ২০১৬ সালে ডা:মানস দাস করিমগঞ্জ পুরসভার কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময়ে তার সতীর্থ পুর কমিশনার তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা প্রয়াত শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য সেই সময় দাসের বিরুদ্ধে পুরসভার উন্নয়নের ২২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে মামলা করেন । এই প্রেক্ষিতে করিমগঞ্জের একটি নিম্ন আদালতে মামলা হয়। পরবর্তীতে এই মামলা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিমকোর্ট অব্দি গড়ায় । শ্রীকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যু হলেও তার ছেলে ঋষিরাজ ভট্টাচার্য বিষয়টি নিয়ে অবগত হন এবং ২১ মার্চ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরার কাছে বিজেপির প্রার্থী ডা:মানস দাসের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য সহ লিখিত অভিযোগ করেন । উল্লেখ্য, মানস বাবু পেশায় চিকিৎসক। ঋষিরাজের অভিযোগ মতে ১৯-১২-২০১৬ সনে মামলা নং ১০৮৪ দ্বারা ৪০৯/৪২০আই পি সি তে কেসটি রেজিস্টার্ড হয় ।

পরবর্তীতে ৩১-০৪-২০২১ জিআর মামলা নং ২৮১২/১৬ করিমগঞ্জ মুখ্য ন্যায় দণ্ডাদিশ আদালতে মামলা হয় । করিমগঞ্জ পুরসভার জনগণের উন্নয়নের ২২ লক্ষ ৮০ হাজার (২০০৯-২০১৪) টাকা আত্মসাৎ করার বিস্তারিত অভিযোগ তোলে উচ্চ আদালতে উজ্জ্বল ভূইয়ার বেঞ্চে ০২-১২-২০১৩ সনে ডব্লিউপি(সি)-৪৬৭০/২০১১)মামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয় ।

কিন্তু দাস হাইকোর্টের মামলা তার মনোনয়ন পত্রে উল্লেখ না করে সংবিধানের ১৯৫১ সালের ৩৩ এ এবং ১২৫ এ নির্বাচন নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন তাই উক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ধারা মতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান ঋষিরাজ ভট্টাচার্য ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সনের পুরসভা নির্বাচনে করিমগঞ্জ পুর এলাকায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল কংগ্রেস দল তখন পুরপতির পদে শ্রীকান্ত ভট্টাচার্যের নাম প্রস্তাব হয়েছিলো কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেস দলের নেতা তথা দাপুটে মন্ত্রী গৌতম রায়ের প্রিয়ভাজন হিসেবে ডা:মানস দাসকে এই পদে বসানো হয় । একটানা পাঁচ বছর করিমগঞ্জ পুরসভার পুরপতির পদে ছিলেন মানস বাবু । সেই সময় তার বিরুদ্ধে পুরসভার বিরোধী দল বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগে কম করেও ৮টি মামলা করে ডা:মানস দাসের বিরুদ্ধে। মামলা চলে দীর্ঘদিন । সেই মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং ২০১৬ সালে উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভার কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেন । মাত্র পাঁচ বছর বিজেপিতে থেকে জেলা কমিটির সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হন । অনেকের মতে, শেষ পর্যন্ত এবার উত্তর করিমগঞ্জে বিজেপির প্রার্থী হন মন্ত্রী হিমন্ত এবং শিলচরের সাংসদ ডা: রাজদীপ রায়ের আশীর্বাদে। ইতিমধ্যে বরাক উপত্যকা শিলচর ও হাইলাকান্দি বিজেপির প্রার্থী যথাক্রমে দীপায়ন চক্রবর্তী ও মিলন দাসের নামে থাকা কেসগুলোর বিস্তৃত সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। মানস বাবুর এই কান্ডের ফলে বিজেপির দুর্নীতি মুক্ত সরকারের স্লোগান কতটুক গ্রহণ যোগ্যতা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । তবে মামলা প্রসঙ্গে ডা:মানস দাসের মতামত জানার চেষ্টা করলেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি ফলে তার অভিমতও নেওয়া যায় নি I