রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ২১ শে মার্চ – বিশ্ব কবিতা দিবস : প্রেক্ষাপট ও কিছু কথা

২১ শে মার্চ – বিশ্ব কবিতা দিবস : প্রেক্ষাপট ও কিছু কথা

এক চলমান স্রোতস্বিনী নদীর মতো সময়, কাল, , ইতিহাসকে, তার কাব্যশরীরে সে বুকে নিয়ত ধরে রাখে। নৃতত্ত্ব, ও ইতিহাসের অনেক কথাই কবিদের নানা সৃজনের অর্ন্তমোচনে আবিষ্কৃত হয়েছে। শ্রুতি নির্ভর কবিতা থেকে পুথি নির্ভর কবিতা, পরবর্তী

আশুতোষ দাস

১৯১৯ ইংরেজির ২১শে মার্চ ইউনেস্কো বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। কবি ও কবিতা কে স্বীকৃতি দিতে একটি দিন সমর্পণ করা হয়। পৃথিবীর প্রগতির যাত্রাপথে কবিদের ভূমিকা রয়েছে। ইউনেস্কো এটাকেই স্বীকৃতি দিতে এই দিনটি ঘোষণা করেছে। সেই হিসেবেই ২১শে মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে দেশ– বিদেশে পালিত হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক শুভকাজ কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছে। আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ধর্মীয় নানা ক্রিয়াকলাপেও কবিতা অর্থাৎ শ্লোকের মাঙ্গলিক উচ্চারণেও কবিতার পংক্তি জড়িয়ে রয়েছে। সকল ধর্মে কাব্যচর্চাকে ইতিবাচক শুভ ভাবনা বলে মনেকরে, রবীন্দ্র নাথের নোবেল পুরস্কৃত “গীতাঞ্জলি”ও একটি শুভসূচক প্রার্থনা সঙ্গীতের কাব্যগ্রন্থ।


ভারতবর্ষের অনেক বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি করতে করতে নিজেকে ফাঁসীর মঞ্চে জীবন উৎসর্গ করতে দেখা যায়। শুধু কবিতা লিখে কবিতার ভেতর দিয়ে প্রতিবাদ করার জন্য বিশ্বে অনেক কবি বন্দী ও নির্যাতিত হওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে। অনেক শাসকগোষ্ঠীর কবিতাকে ভয়পেয়ে অনেক কবির কবিতা গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত ও সেই গ্রন্থের মুূদ্রণ বন্ধ করার ঘটনা খুব একটা কম নয়। কবিতা এক চলমান স্রোতস্বিনী নদীর মতো সময়, কাল, , ইতিহাসকে, তার কাব্যশরীরে সে বুকে নিয়ত ধরে রাখে। নৃতত্ত্ব, ও ইতিহাসের অনেক কথাই কবিদের নানা সৃজনের অর্ন্তমোচনে আবিষ্কৃত হয়েছে। শ্রুতি নির্ভর কবিতা থেকে পুথি নির্ভর কবিতা, পরবর্তী সময়ে প্রিন্টমিডিয়ায় কবিতা চর্চা ও ই,বুকের মাধ্যমে কবিতা চর্চা এবং কবিতা চর্চার ধরণ ও মাধ্যম বারবার পরিবর্তন হয়েছে। যতই বদল হোক না কেন তার প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু তার মূল সুর মানবিক বোধে মানুষের কল্যাণ ও তার সহজাত বৃত্তি অর্থাৎ প্রেম প্রীতি,ভালোবাসা, অভিমান ইত্যাদির বিকাশ করতে সাহায্য করা।
সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন কবিতা পাঠ ও চর্চা যদি বন্ধ হয় তবে মানুষ হয়ে যাবে যান্ত্রিক একটা রোবটের মতো। এসব অনেক কিছু ভেবে সকল ভাষাগোষ্ঠীর কবি ও কবিতাকে মান্যতা দিয়ে ইউনেস্কো ২১মার্চ কে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করছে। এ দিবসে পৃথিবীর কোনে কোনে বইপত্র প্রকাশ, কবিতার এ্যালবাম উন্মোচন, কবিতাকে কেন্দ্র করে আলোচনা, কবি সম্মেলন, চিত্রকলা প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এসব সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হতে দেখা যায়। বিভিন্ন ভাষার কবিরা আদিকাল থেকে আজ অবধি কবিতা চর্চার ভেতর দিয়ে মানব ও সমাজ সেবা করে যাচ্ছেন। কবিতা সেই গুহা মানবের গুহায় চিত্রাঙ্কনের সময় থেকেই শুরু হয়ে মানুষকে জীবন গড়ার ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে। কবিতা মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, জীবনকে চালিত করতে কবিতা ভেতরে ভেতরে নিরন্তর কাজ করে চলে। মনোবিজ্ঞানীরা কবিতাকে মানুষের হৃদয়বৃত্তির বিকাশে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। সব দেশে, সব কালে কবিতাকে তাই সমাজ ও রাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তাই সমাজ গড়তে প্রথমেই প্রয়োজন পরিবেশ উন্নত করা। সেক্ষেত্রে পরিবেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক করতে কবিতার তাৎপর্যময় ভূমিকা রয়েছে।