মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / প্রধানমন্ত্রীর সভায় ভাটগ্রামে অব্যবস্থা, ২ মহিলা পুলিশকে আক্রমণ বিজেপি কর্মীর, ৪ মহিলা অজ্ঞান

প্রধানমন্ত্রীর সভায় ভাটগ্রামে অব্যবস্থা, ২ মহিলা পুলিশকে আক্রমণ বিজেপি কর্মীর, ৪ মহিলা অজ্ঞান

সভায় দুই মহিলা পুলিশ কর্মীর উপর আক্রমণ করে বসেন কয়েকজন বিজেপি সমর্থক । ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়।

অরুপ রায়
করিমগঞ্জ, মার্চ ১৯,

গতকাল দক্ষিণ অসমের ভাটগ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের মধ্যেই বলতে বাধ্য হন,আপনাদের ভালোবাসা আমি বুঝতে পেরেছি, দয়া করে সামনের দিকে এসে ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করবেননা।

সকাল ১০ টায় সভাস্থলে জমায়েত হোন হাজার হাজার মানুষ । খোলা আকাশের নিচে প্রখর রৌদ্রের তাপ সহ্য করেও প্রতীক্ষায় ছিলেন মোদির। এদিকে প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে আসেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিকেল চারটায়। প্রখর রোদে অপেক্ষা করে অনেকের ধর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।

রাগের মাথায় একাংশ উপস্তিতি জনতা হঠাৎ বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেন । কথা কাটাকাটি শুরু হয় একাংশের মধ্যে । পরে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয় । হাতের নাগালে কিছু না পেয়ে চেয়ার নিয়ে একাংশকে মারামারি করতে দেখা যায়। অনেক চেয়ার ভেঙেও যায় । এসব সহ্য করতে না পেরে সভাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন চারজন মহিলা । স্বস্থ্যকর্মীরা অবশেষে এদের নিয়ে যান । মোদি সভায় উপস্তিত হতেই দর্শকদের উন্মাদ আর মঞ্চের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া ও অকারণে চিৎকার দেখে মোদি নিজের বক্তৃতার মধ্যেই বলতে বাধ্য হন যে, আপনাদের ভালোবাসা আমি বুঝতে পেরেছি, দয়া করে সামনের দিকে এসে ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না । সময়ের স্বল্পতার জন্যে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করেই বিদায় নেন, প্রার্থীদের পরিচয় করাননি । এনিয়ে বিজেপি প্রার্থী তথা একাংশ কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়েছে ।

এরপর সভায় দুই মহিলা পুলিশ কর্মীর উপর আক্রমণ করে বসেন কয়েকজন বিজেপি সমর্থক । ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। কিছু বিজেপি সমর্থক ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। দু’জন মহিলা কনস্টেবল ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছিলেন তখন বিজেপি সমর্থকরা মহিলা পুলিশ কর্মীদের উপর পাথর ছুঁড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন আঘাত প্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরা।

অন্যদিকে আহত দুই মহিলা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিনে দুই মহিলা কনস্টেবলের মধ্যে একজন বলেন, তারা আমাদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিল। পাথরের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়েছেন। আর একজন মহিলা কনস্টেবলের হাতে আঘাত লেগেছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, তারা উত্তেজিত সমর্থকদের বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও বিফল হন। এছাড়াও ব্যারিকেড ভাঙতে মানা করা সত্বেও তাতে তারা পাত্তা দেন নি। উল্টো পুলিশের উপর আক্রমণ চালান তাঁরা। এমনই অভিযোগ করেন দুই পুলিশকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্য শুরু করার মুহুর্তে পরিস্থিতি অন্য মোড় নিয়ে নেয়। আসলে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ব্যাহত হওয়ায় তাকে দু’হাত তুলে জনতাকে শান্ত করতে হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের সময় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আপনাদের প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা রয়েছে সেটার আমি প্রশংসা করি এবং সেই ভালবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা জাগায়। আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি আপনি যেখানেই থাকুন এবং সামনের দিকে না আসার আহ্বান জানান। এরপর বলেন, আপনারা যেখানেই থাকুন আপনার জায়গায় থাকুন।

এদিকে সাংবাদিকদের বসার জায়গায় বিজেপি সমর্থকরা বসে গেলে শুরু হয় বিবাদ। অনেক সিনিওর সাংবাদিক বসার জায়গা পান নি এবং বাধ্য হয়ে সভাস্থল ছেড়ে চলে যান। এনিয়ে করিমগঞ্জে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।