শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / বরাকে বিজয় সংকল্প সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি

বরাকে বিজয় সংকল্প সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি

সবচেয়ে লম্বা রিভার রৌপওয়ে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে। আকাশ পথ, জল পথ ও সড়ক পথকে মজবুত করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিলচর করিমগঞ্জ সড়কের বেহাল অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। রেলওয়ে লাইনের বিস্তার নিয়ে বলেন

অরুপ রায়, করিমগঞ্জ, মার্চ ১৮,

“বিজয় সংকল্প সমাবেশ থেকে আপনার আমার কথা নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন, মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবেন এবং বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করবেন।” আজকের সভায় এই সংকল্প নেওয়ার জন্য উপস্থিত জনসাধারণের নিকট আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ অসমের সীমান্ত জেলা করিমগঞ্জের ভাটগ্রামে বিজয় সংকল্প সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বরাকের প্রথিতযশা ব‍্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি বলেন, দুু’দশক আগে যখন বিজেপি ততটুকু শক্তিশালী ছিলনা তখন বরাকের পনেরোটি বিধানসভা আসনের মধ্যে নয়টিতে জয় লাভ করে বিজেপি। এবারে আরও বেশি সংখ‍্যক প্রার্থী জয় লাভ করবেন। বর্তমান রাজ‍্য সরকার যে ভাবে সব জেলার বিকাশ করেছে এর ফলে এই নির্বাচনে দল অনেক বেশি আসনে জয় লাভ করবে। রাজ‍্যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতির লহর চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকাশই হচ্ছে মূল মন্ত্র। রাজ‍্যের বতর্মান এনডিএ সরকার বরাক-ব্রক্ষ্মপুত্র-পাহাড়- ভৈয়াম প্রভৃতি এলাকায় সমহারে উন্নয়ন মূলক কাজ করেছে। এই সরকারের আমলে সর্বত্র তৈরি হয়েছে সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার। রাজ‍্যে তৈরি হয়েছে সবথেকে দীর্ঘ ভূপেন হাজরিকা সেতু। অসম মেঘালয়ের যোগাযোগ ব‍্যবস্থা আরও সহজ করা হচ্ছে। সবচেয়ে লম্বা রিভার রৌপওয়ে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে। আকাশ পথ, জল পথ ও সড়ক পথকে মজবুত করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিলচর করিমগঞ্জ সড়কের বেহাল অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। রেলওয়ে লাইনের বিস্তার নিয়ে বলেন বিজেপি সরকারের তৎপরতার জন‍্য কম সময়ে ব্রডগেজ লাইন তৈরি হয়েছে। শিলচরে রেলওয়ে লাইনের বিস্তার সাধন হয়েছে। শিলচর-লামডিং লাইনের বিস্তারের পর রেল পরিষেবা থেকে সবাই উপকৃত হচ্ছেন। নিয়মিত ট্রেন চলছে শিলচর-লামডিং ও শিলচর- আগরতলা রুটে। এছাড়াও রেল রুটে বরাক ও ত্রিপুরা দেশের অন‍্যান‍্য রাজ‍্যের সঙ্গেও জুড়েছে। নরেন্দ্র মোদি জানান, শিলচরে গড়ে উঠবে একটি মাল্টি মর‍্যাল লজিস্টিক পার্ক। এখানে এক্সপোর্ট – ইমর্পোটের হাব হবে। এলাকা উন্নয়নের সাথে কর্ম সংস্থান পাবে হাজার হাজার বেকার। লাভান্বিত হবেন কৃষকরাও। তিনি বলেন বতর্মান রাজ‍্য সরকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও মজবুত করেছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেন ভুবন তীর্থ, কাঁচাকান্তি মন্দির, সিদ্ধেশ্বর শিব বাড়ি, লাতুর মালেগড়ের কথাও। নমামি বরাকের কথাও ভাষনে স্থান পায়। তিনি বলেন রাজ‍্যের সর্বত্র একসঙ্গে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। বলেন সবকা সাথ সবকা বিকাশ হল উন্নয়নের মুল মন্ত্র। তিনি জানান বিজেপি সরকারের কাছে কোন ভেদাভেদ নেই। উন্নয়ন প্রকল্পের ফায়দা সবাই সমানভাবে পাচ্ছেন। করোনাকালে রেশন সামগ্রি বন্টন সহ নানাভাবে সরকার সাহায্য করেছে। গরিবদের রান্না ঘরে গ‍্যাস পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ঘরকে পাকা করে বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে রাজ‍্যের দেড় লক্ষ মানুষের বিনামুল্যে চিকিৎসা হয়েছে। বরাক সহ রাজ‍্যের সাতাশ লাখ কৃষককে সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। লোকের ঘরে ঘরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল নিয়ে দিচ্ছে সরকার। কংগ্রেসের সমালোচনায় মুখর হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন কংগ্রেসের নেতা, নীতি, বিচার ধারা নেই । তিনি বলেন পশ্চিম বঙ্গে তারা হাত মিলিয়েছে বাম সংগঠনের সঙ্গে। আর কেরলে বামপন্থীদের সঙ্গে চলছে কুস্তি। এরকম যাদের অবস্থা তারা কি কখনও স্থির ও মজবুত সরকার গড়তে পারবে? অসমে কংগ্রেস এখন হাতে তালাচাবি নিয়ে ঘুরছে। কংগ্রেস নেতারা মিথ‍্যা ঘোষণাপত্র তৈরি করে মানুষের সঙ্গে ধোকাবাজি করতে অভ‍্যস্ত। ঘোষণাপত্র তৈরির জন‍্য মানুষের বিচার সহ আর্থিক অবস্থারও খোঁজ নিতে হয়। এখন মানুষ সমঝদার। কংগ্রেসের পায়ের নিচে যে মাটি নেই সেটা মানুষ বুঝেগেছেন। তিনি বলেন বিজেপির কাছে দেশ ও দেশের উন্নয়ন সর্বাগ্রে। এনডিএ সরকারের আমলে উত্তর পূর্বের সর্বাধিক বিকাশ হয়েছে জানিয়ে বলেন, এর পেছনে অসমের অবদান অনেক রয়েছে।