শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / করোনা টিকা নিলে করা যাবেনা রক্তদান

করোনা টিকা নিলে করা যাবেনা রক্তদান

কেন এনবিটিসি এর এই বিধি নিষেধ এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক প্রসূন ভট্টাচার্য জানান, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, ফলে রক্তের বিভিন্ন উপাদানের চরিত্র

অনুরণ ভট্টাচার্য

করোনার টিকা নেওয়ার সাথে সাথে সৃষ্টি হচ্ছে এক নতুন সংকট। ভাইরাস থেকে বাঁচতে টিকা নিলে দু’মাস রক্তদান করা যাবে না। এই নিষেধের জেরে সৃষ্টি হচ্ছে এক অদ্ভুত সমস্যার। হাসপাতালে রক্তের অভাব রয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় রক্তদান শিবির গুলোতে প্রবল ছাপ পড়েছে এই সমস্যার। মানসিকভাবে প্রস্তুত অনেকেই রক্তদান করতে পারছেন না টিকা নেওয়ার জন্যে। যদিও জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পরিষদের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত রোগীদের কথা ভেবেই। কিন্তু বাস্তব সমস্যা হল, জরুরি সময় যারা মুলত রক্ত দিয়ে থাকেন বা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে যাদের বিশেষ অবদান থাকে তাদের মধ্যে চিকিৎসাকর্মী, পুলিশের মত প্রথম সারির যোদ্ধাদের সাথে সাথে ভোটকর্মী তথা কিছু সংখ্যক মানুষের টিকাকরণের প্রথম ডোজ নেওয়া প্রায় শেষ। তাই এই রক্তসংকট মাথা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতিয় রক্ত সঞ্চালন পরিষদ (এনবিটিসি) এর ভার্চুয়াল বৈঠকে টিকা নেওয়ার অব্যাহতির পর রক্তদান সম্ভব কিনা এ ব্যাপারে আলোচনা হয় । বৈঠকে যোগ দেওয়া এনবিটিসি উপদেষ্টা তথা ওয়েস্ট বেঙ্গলের ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ বলেন, রক্ত সঞ্চালনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করছেন। অনেকেই অনেক কথা বলছেন তবে শেষ সিদ্ধান্ত অনু্যায়ী ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নুন্যতম ২৪ দিন রক্ত দেওয়া যাবে না। কিছুদিন পুর্বে এনবিটিসি এই নির্দেশিকাও জারি করেছিল। অর্থাৎ কেউ প্রথম ডোজ নিলে ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন এবং যদি রক্তদান করতে হয় তাহলে তাকে আরও ২৮ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তারমানে টিকা নিলে মোটামুটি দু’মাস কেউ-এর রক্তদান করতে পারবেন না।
কেন এনবিটিসি এর এই বিধি নিষেধ এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক প্রসূন ভট্টাচার্য জানান, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, ফলে রক্তের বিভিন্ন উপাদানের চরিত্র ও গতি বিধিতে সামান্য বদল হয়। জীবিত জীবাণু ও তার অংশ নিয়ে তৈরি (যেমন কোভিশিল্ড তৈরি স্পাইক প্রোটিন দিয়ে) টিকায় এমনটা বেশি হয়। মৃত ভাইরাস থেকে তৈরি টিকায় (যেমন কোভ্যাকসিন) ঝামেলা কম। তাও কিছুদিন রক্ত দান থেকে বিরত থাকাই ভালো। অন্যথায় এই রক্ত রোগীর শরীরে ঢুকলে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও হতে পারে। প্রসূন আরও জানান, হেপাটাইটিস-বি, বিসিজি, পোলিও, রেবিস, টিটেনাস ইত্যাদি ভ্যাকসিন এর ক্ষেত্রেও এক থেকে তিন সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে বলা হয় রক্তদানে। তবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি। তাই তিনি মনে করেন অচিরেই এনবিটিসি এই নির্দেশিকায় বদল আসবে।