রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / অসমে মোদির দল স্বস্তিতে নেই

অসমে মোদির দল স্বস্তিতে নেই

হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রামের কাছার পেপার মিল এবং জাগিরোড এর নগাওঁ পেপার মিল যথাক্রমে অক্টোবর ২০১৫ এবং মার্চ ২০১৭ থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে । তিন বছরের বেশি সময় ধরে পেপার মিল কর্মচারীরা তাদের বেতনের অপেক্ষায়

দেবোপম পুরকায়স্থ

গত ২০১৬ র বিধানসভা নির্বাচনের সেই হাওয়া এবার অসমে নেই। দেখা যাচ্ছে না মোদি ঝড়ও I গত নির্বাচনে অসমে ছিল পরিবর্তনের হাওয়া, আর এবারো পরিবর্তনের হাওয়া I তবে এবার উল্টো হাওয়া বইছে। বিক্ষুব্ধ আর এন্টি ইনক্যাম্বেন্সি হাওয়ায় চারদিকেই শাসক দল বেসামাল। রাজ্যে ১২৬ টি আসনের জন্য ২৭ মার্চ, এপ্রিল ১ ও ৬ তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যে নির্বাচন। ভোট গণনা ২ মে।

এবার রাজ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে অনেকেরই ধারণাI একদিকে শাসক দল বিজেপি ও তার সঙ্গী অসম গণ পরিষদ, অন্যদিকে কংগ্রেস, এইআইইউডিএফ ও বিপিএফ এর মহাজোট এবং নব গঠিত এজেপি ও অখিল গগৈৰ রাইজর দল I

২০১৬ বিজেপি অসমের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দল যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ স্থাপনে উদ্যোগী হবেI তারা আরো আশ্বাস দিয়েছিল “আমাদের মূল লক্ষ্য অসমকে দেশের শীর্ষ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধানে দল বদ্ধপরিকর এবং স্থায়ি সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও দাবি করেছিল I কিন্তু সত্যি কি বাংলাদেশী সমস্যার সমাধান হয়েছে তা আজ কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারবেন না I

২০১৬ তে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি অসমের বরাক উপত্যকার কালিনগর এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় জনগণকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটো পেপার মিল পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার মিলে পুনরায় চালু করার জন্য সব ধরণের সমর্থন দেবে দুটি পেপার মিলকেই I কিন্তু বাস্তবে কতটা সত্যি ছিল সেই প্রতিশ্রুতি তা নিয়ে অনেকে এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন I

হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রামের কাছার পেপার মিল এবং জাগিরোড এর নগাওঁ পেপার মিল যথাক্রমে অক্টোবর ২০১৫ এবং মার্চ ২০১৭ থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে । তিন বছরের বেশি সময় ধরে পেপার মিল কর্মচারীরা তাদের বেতনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই দুটি পেপার মিল সম্পূর্ণ বন্ধের পরে ৮১ জন এইচপিসি কর্মী মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায় I

এ কথাটি বাস্তব সত্য এই বিজেপির আমলে নাগরিকদের এন আর সি অসমকে মারাত্মক অশান্তিতে ফেলেছিল । ৩১ আগস্ট, ২০১৯ এ প্রকাশিত চূড়ান্ত এনআরসি অসমে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষকে বাদ দেওয়া হয় । যা পুর্ববর্তী খসড়া তালিকায় বাদ দেওয়া ৪ মিলিয়নের অর্ধেকেরও কম। এই এনআরসি রাজ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, অসমের বাসিন্দাদের অহেতুক বিভ্রান্তি ও বিশাল অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে, আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ছবি অনেক নষ্ট হয়েছে আজও অনেকেই তা ভুলেন নি I

অনেকেই বলছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সি এ এ ) হয়তো অসমে বিজেপির অনেকটা ক্ষতি করতে পারে I এই আইন অসমে আবার বরাক এবং ব্রহ্মপুত্রের মানুষের বিরোধেরও সৃষ্টি করতে শুরু করেছে I এই আইন নিয়ে আন্দোলন প্রথমে অসমের শিবসাগর থেকে শুরু হয়েছিল এবং আস্থে আস্থে পুরো অসমে বিস্তার করে I অনেকের মতে সিএএ রাজ্যের আদিবাসীদের পরিচয়, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ইতিহ্যের বিরুদ্ধে I আন্দোলনকারীরা তখন এই আইনটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাদের দাবিকে দুরে সরিয়ে রেখে বিলটি সংসদে পাস করেছিল I যা হয়তো অসমে বিজেপির অনেক ক্ষতি করতে পারে এই বিধানসভা নির্বাচনে ডিব্রুগড় , তিনসুকিয়া , যোরহাটের মতো জায়গাতেও I

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল যেখানেই যান সেখানেই বরাবর দুর্নীতি মুক্ত অসমের কথা বলেন কিন্তু বাস্তবে গ্রামের উন্নতি, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং অসমে অন্যকথাই বলছে I

প্রার্থী নিয়োগে দলীয় অসন্তোষ বিজেপিকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন I নবীন এবং প্রবীণ বিজেপি কর্মীর মধ্যে লড়াই অনেকে এবার উপভোগ করছেন, যার সূত্রপাত অসমের শিলচর থেকে শুরু হয়েছে এবং সমগ্র অসমে কিছুটা হলেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে I যা বিজেপির কাছে এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে I

বিভিন্ন সার্ভে যদিও বি জে পি কে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছে তবু মোদির দল স্বস্তিতে নেই।