বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / ভোটের জন্যে সচেতনতা জাগাতে ৮.১ কিমি দীর্ঘ রঙ্গলি বানিয়ে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে স্থান করে নিল কাছাড় জেলা

ভোটের জন্যে সচেতনতা জাগাতে ৮.১ কিমি দীর্ঘ রঙ্গলি বানিয়ে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে স্থান করে নিল কাছাড় জেলা

জেলাশাসক বলেন, "আমরা যতটুকু জানি ভারতবর্ষের সবথেকে লম্বা রঙ্গলি আঁকার রেকর্ড হচ্ছে চার কিলোমিটারের, যদি শুধুমাত্র রেকর্ড ভাঙার উদ্দেশ্য হতো তাহলে সাড়ে চার কিলোমিটার বানালেই আমাদের কাজ হয়ে যেত।

শতানন্দ ভট্টাচার্য
শিলচর, মার্চ ১৫,

ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে স্থান করে নিলো দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলা। রবিবার ভোটার সচেতনতার জন্য ডলু থেকে হাতিছড়া পর্যন্ত ৮.১ কিমি রাস্তায় দীর্ঘতম ‘রঙ্গলি’ বানিয়ে এই রেকর্ড সৃষ্টি করা হয়েছে ।

১৪ মার্চ ভোটার সচেতনতার জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসনের বানানো রঙ্গলিটি আঁকতে ১৪৪১ জন শিল্পী অংশ নেন। ২৬,৮৩৭ ফুট রঙ্গলিটি ৮.৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ ও প্রস্থে ৬ ফুট।

সিস্টেমেটিক ভোটারস এডুকেশন এন্ড ইলেকট্রনিক্স পার্টিসিপেশন (এসভিইইপি)-এর আওতায় ভোট দাতাদের নির্বাচনে ভোট দানে উদ্বুদ্ধ করতে এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল প্রশাসন। ৮ কিলোমিটার লম্বা আলপনা এঁকে এর মাধ্যমে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়।

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের পক্ষ থেকে জিতেন্দ্র কুমার জৈন এদিন সন্ধ্যেবেলা জেলাশাসক কীর্তি জল্লিএবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শংসাপত্র তুলে ধরেছেন এবং জানিয়েছেন ২০২২ সালের ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে এই কর্মকান্ডের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

রবিবার সকাল পাঁচটায় মহাসড়কের ডলু পয়েন্ট থেকে কাজটি শুরু হয়, ৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় বানানো রঙ্গলিতে বিভিন্ন সচেতনতা মূলক বার্তাও তুলে ধরা হয়। এতে জেলাশাসক সহ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে চা বাগান কর্মী, পুলিশ আধিকারিক, সেনা জওয়ানরা অংশ নেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক অম্লান বিশ্বাস এই বিষয়ে বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভোট দাতাদের ভোট দানে আকৃষ্ট করা। এই উদ্দেশ্য নিয়েই কাছাড় জেলায় প্রশাসন এক অভিনব পদ্ধতি হাতে নিয়েছে যা শুধুমাত্র জেলা নয় বাইরের লোক এদের আকৃষ্ট করবে। যেহেতু মহা সড়কের এক পাশে আলপনা আঁকা হচ্ছে, যারাই এর পাশ দিয়ে যাচ্ছেন মধ্যে সচেতনতা জাগার সম্ভাবনা রয়েছে। এত বড় একটি কাজে যেভাবে সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনেও একইভাবে সুশৃঙ্খলা চোখে পড়বে।”

জেলাশাসক বলেন, “আমরা যতটুকু জানি ভারতবর্ষের সবথেকে লম্বা রঙ্গলি আঁকার রেকর্ড হচ্ছে চার কিলোমিটারের, যদি শুধুমাত্র রেকর্ড ভাঙার উদ্দেশ্য হতো তাহলে সাড়ে চার কিলোমিটার বানালেই আমাদের কাজ হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা এবং এই কাজে তাদের যুক্ত করা হয়েছে। চা-বাগান এলাকার মহিলা থেকে শুরু করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা, আমাদের আধিকারিকরা, প্রত্যেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই এগিয়ে এসে রং, তুলি ইত্যাদি কিনে দিয়েছেন। যারা এই কাজে স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান দিচ্ছেন, তাদের মাধ্যমেও সচেতনতা ছড়াবে। আমরা একটা রেকর্ড করতে চাইছিলাম যাতে জনগণের কাছে খবরটি বেশি করে পৌঁছয় এবং তারা সচেতন হয়ে ভোট দিতে আসেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ কিলোমিটার লম্বা আলপনা আঁকার বিশ্বরেকর্ড গড়ে তোলার আমরা প্রত্যেকে গর্বিত। ভোট দাতাদের সচেতন করার উদ্যোগে আমরা এবার মহিলাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখছি, কারণ নারী শক্তি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়। আমি একজন মহিলা জেলাশাসক এবং আমার প্রায় অর্ধেক আধিকারিক মহিলা। আমাদের ভোটদাতার অর্ধেক হচ্ছেন মহিলা। তাদের উদ্বুদ্ধ করলে পরিবারের অন্যরা ভোটদানে আকৃষ্ট হবে।”

ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিতেন্দ্র কুমার জৈন। তিনি বলেন, “ভোট দাতাদের সচেতন করতে এমন উদ্যোগ আগে কখনও দেখা যায়নি। অবশ্যই এই উদ্যোগটি জাতীয় স্তরের রেকর্ড গড়েছে। আমরা আগামীতে যাচাই করে দেখব আন্তর্জাতিক স্তরে এটা কোনও রেকর্ড গড়ছে কিনা। এরপরেই ঘোষণা করা হবে। আপাতত আমরা আগামী বছর ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এই কাজটিকে তালিকাভুক্ত করছি।”