সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / “সাহিত্যচর্চা হচ্ছে এক দীর্ঘতম প্রয়াস ও সাধনা এবং সঙ্গে দরকার অনেক বেশি পড়াশোনার” : নন্দিতা ভট্টাচার্য

“সাহিত্যচর্চা হচ্ছে এক দীর্ঘতম প্রয়াস ও সাধনা এবং সঙ্গে দরকার অনেক বেশি পড়াশোনার” : নন্দিতা ভট্টাচার্য

মাতৃভাষা ও ইংরেজির মধ্যে লড়াই শুধু বাংলার নয় সমস্ত আঞ্চলিক ভাষার সমস্যা । এমনকি যে বাংলাদেশ বাংলা ভাষার পীঠস্থান তারাও আজ শঙ্কিত । সেটার জন্যও নিজেদের সচেতন হতে হবে।

(বর্তমান কলকাতা নিবাসী নন্দিতা ভট্টাচার্য-এর বাড়ি আসলে অসমে। নিয়মিত ছোটোগল্প ও কবিতা লিখেন। অনুবাদও করেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজফাইল বাংলার পক্ষে দেবোপম পুরকায়স্থ )

প্রশ্ন : আপনাকে লেখালেখি করতে অনুপ্রাণিত কে করেছিলেন ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : যদিও রক্ষণশীল কট্টর ব্রাহ্মন্যবাদী পরিবার ছিল আমাদের ,আমার বাবা এই বাড়ীতে প্রগতিশীলতার পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন ।এ ব্যাপারে তাকে যথেষ্ট লড়াই করেই সামনের দিকে এগোতে হয়েছিল। সাহিত্য প্রীতি ছিল আমার মা বাবা দুজনেরই ।সেই সুবাদেই বাড়ির ছোটদের জন্যও কলকাতা থেকে আসত শিশুসাথী , শুকতারা , অরন্যদেব । দেশ পত্রিকা আসত বড়দের জন্য। পুজো সংখ্যাও অনেক আসতো।তবে একান্নবর্তী পরিবারে যা হয় আর কি নিজের সন্তানদের প্রতি বেশি দৃষ্টি দেওয়ার রিতি রেওয়াজ ছিল না। তাই পঞ্চম শ্রেণী থেকে যে কবিতা লেখা শুরু করেছি একটি লাল ডাইরিতে সে নিয়ে কারও মাথা ব্যথা ছিল না। সেগুলো কোথাও পাঠালে যে ছাপা হতে পারে তার ধারণাই ছিল না ।
সেই স্বপ্নের লাল ডাইরি বাড়ি বদলানোর সময় কোথায় উড়ে চলে গেল সে ঠাহর করতে পারলাম না। সে দুঃখ আজও যায়নি।
প্রশ্ন : একজন ভাল লেখক হওয়ার জন্য কি কি গুন থাকা দরকার উচিত বলে আপনি মনে করেন ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : ভাল লেখক হওয়ার কোনও কঠিন নিয়ম তৈরি হয়নি আজ পর্যন্ত । এ তো অঙ্ক নয়, ফর্মুলায় ফেলে দুইয়ে দুইয়ে চার করে ফেলবে।এ এক দীর্ঘতম প্রয়াস ও সাধনা , সঙ্গে দরকার প্রচুর পড়াশোনা।আমাদের ছেলেবেলায় যখন গান শিখতাম তখন কোনও সময় প্রকাশ্য কোন গান গাইতে দেওয়া হত না I এই নিয়মটি তখন বড় পীড়া দিত। কিন্তু এই নিয়ম যে কত জরুরী তা এই আত্ম প্রচারের যুগে খুব বেশি করে মনে হয়।
প্রশ্ন : আপনি এখন পর্যন্ত কি কি গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : অসমীয়া থেকে বাংলায়। প্রথম প্রকাশিত নারী লেখকদের ছোটগল্পের অনুবাদ সংকলন ‘ অর্ধেক আকাশ’। রূপলেখা দেবীর ‘অন্যত্র বিরলা দেবী’ প্রথম অনুবাদ উপন্যাস। যাহা প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের বৈশাখ মাসে। অনুবাদ গল্প প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে, পত্রপত্রিকায় ভারত, বাংলাদেশে ও আসামে ।
প্রশ্ন : অনুবাদ ছাড়াও ছোটগল্প ও কবিতার চর্চা করেন , কি কি বই আপনার এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : একটি একক ও দুটি যৌথ কবিতার বই –‘ দূরের নক্ষত্র ‘, ’ নাকছাবির কথকতা’, ‘প্রকৃত সারসী’। প্রকাশিতব্য অসমীয়া অনুবাদ উপন্যাস সৌমিত্র যোগীর ‘ মধুশালা’ , গীতালী বরার ‘বুদ্ধজায়া’ , প্রার্থনা শইকিয়ার ‘ জটাধারী’। মৌলিক ছোটগল্প ও অনুগল্প প্রকাশিত হয়েছে লিটিল ম্যাগাজিন ও ওয়েব ম্যাগাজিনে I
প্রশ্ন : আজকাল একটি বই প্রকাশ করা খুব সহজ, বিখ্যাত হওয়ার জন্য অনেকেই সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট বা মিডিয়া ব্যবহার করেন I এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : বিখ্যাত হওয়া খুব সহজ কি না জানি না । বিখ্যাত হওয়ার অনেক প্যাঁচ রয়েছে। কিন্তু মানুষ এই সামাজিক মাধ্যমেরদৌলতে নিজেকে অনেক বেশী প্রকাশ করতে পারছে । সেটা তো অস্বীকার করা যাবে না। তবে তার ভাল খারাপ দুটো দিকই আছে। সামাজিক মাধ্যম খুব খারাপ বলে আমি মনে করি না। অনেক মানুষ আছেন যাদের মেধা আছে তাঁদের কথা মানুষ কিছুটাহলেও জানতে পারছে ,পড়তে পারছে। আর কমুনিকেসন তো বিংশ শতাব্দীর ঝড় বলা যায়। সেটা ব্যবহার করে যদি মানুষ কিছুটা এগোতে পারে তাতে ক্ষতি কি! যা টিকার টিকবে আর যা হারিয়ে যাওয়ার যাবে। সেটা সময় ঠিক করবে।
প্রশ্ন : আজকের দিনে মাতৃভাষা এবং ইংরেজির অভিব্যক্ত মাতৃভাষার মধ্যে লড়াই চলছে, এবিষয়ে আপনি কি মনে করেন ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : মাতৃভাষা ও ইংরেজির মধ্যে লড়াই শুধু বাংলার নয় সমস্ত আঞ্চলিক ভাষার সমস্যা । এমনকি যে বাংলাদেশ বাংলা ভাষারপীঠস্থান তারাও আজ শঙ্কিত । সেটার জন্যও নিজেদের সচেতন হতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়বে না বলে কারোকে আটকানযাবে না। কারণ তার রুটি রুজির সঙ্গে জড়িত এই সমস্যা । বরঞ্চ বাড়িতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এই সমস্যামোকাবেলায় । হতাশ হওয়ার মত কিছু নয়। এখন তো শুনি এই বাংলা ভাষার আকালের যুগেও কবিতার বন্যা বয়ে চলেছেসামাজিক মাধ্যমে। সুতরাং মাভৈঃ ।
প্রশ্ন : উত্তরপূর্ব বা অসমের লেখকদের আপনি কি বার্তা দিতে চান ?
নন্দিতা ভট্টাচার্য : কাউকে বার্তা বা উপদেশ দেয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি সাহিত্যের ক্ষেত্রটি যেন কেবলমাত্র বিনোদনের আখড়া না হয়ে ওঠে সেটা আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সেটা পাঠকদেরও খেয়াল রাখতে হয় পাঠকদের দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি। আমার শুভেচ্ছা রইল পাঠক লেখক সবার প্রতি।