বৃহস্পতিবার, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / এডজাষ্টমেন্ট ডিসঅর্ডার – বর্তমান ব্যস্ত দুনিয়ার এক বড় সমস্যা

এডজাষ্টমেন্ট ডিসঅর্ডার – বর্তমান ব্যস্ত দুনিয়ার এক বড় সমস্যা

এই প্রসঙ্গে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন মনে পড়ছে "এ বড়ো সুখের সময় নয়, এ বড়ো আনন্দের সময় নয়।"

আশুতোষ দাস

সম্পর্ক শব্দটা এখন খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে আলোচনায় আাসছে। বিশ্বায়নের যুগে যত বেশি ইটারনেটের সৌজন্যে মানুষ পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়েছে,ততবেশি যেন মানুষ একে অন্যের কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছে, মানুষ একাকীত্বের গভীর অসুখে ভুগছে। যন্ত্র সভ্যতার অজগরের হা করা মুখে তার বোধ, বিশ্বাস ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে।আজকের সভ্যমানুষ বলতে গেলে প্রায় নিঃস্ব । এযেন সভ্যতার সঙ্কট। এইসব নিয়ে সমাজ বিঞ্জানীরা সভ্যতার বিপদের কথা বারবার বলে যাচ্ছেন। ভোগবাদী মানুষ, উচ্চাকাঙ্খা পরিহার করে যদি নিজেকে সংযত, সুশৃঙ্খল জীবনের ভেতর থাকে তবে সে বাঁচতে পারবে নতুবা সে ধ্বংসের গহ্বরে চলে যাবে।তাই আমাদের চাই -চাই মানসিক চিন্তা থেকে নিজেকে ইতি টানতে হবে অন্যের জন্য হৃদয় খোলা মন নিয়ে অন্যের পাশে থাকতে হবে। এর প্রেক্ষিতে অনেক মনোবিজ্ঞানী বলেছেন অত্যাধুনিক জীবন যাত্রার জন্য কেবল নতুন নতুন অসুখের সৃষ্টি হয়েছে। তা মূলতঃ এই সভ্যতার কুফল। তাদের মধ্যে খুব বেশি যেটি হচ্ছে তা হলে সম্পর্কের খামতি, ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে এডজাস্টমেন্ট ডিসওর্ডার। আমাদের পরিবার ছিল আগে যৌথ, একে অন্যের সহমর্মিতায় সবাই বেড়ে উঠতো।তাই সবার সঙ্গে একে অন্যের সম্পর্কের সখ্যতা থাকতো হৃদয়ের।এখন সবাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সবাই নিজেকে নিয়ে খুবই ব্যস্ত। এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে বাবা মা নিজের ছেলে মেয়েকে কষ্ট করে মানুষ করেছেন সেই সন্তানই কি না পরবর্তী সময়ে তার জন্মদাতা মা বাবাকে ওল্ডএজ হোমে পাঠিয়ে দিতেও একটুও ভাবে না। ব্যতিক্রমী সহৃদয় মানুষ যে নেই তা নয় সে বড় কম সংখ্যক হাতে গোনা ক’জন।
সময় কিভাবে ভাবনা ও চিন্তাকে পরিবর্তিত করে নিয়েছে সে বড় দুঃখের কথা। এই প্রসঙ্গে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন মনে পড়ছে “এ বড়ো সুখের সময় নয়, এ বড়ো আনন্দের সময় নয়।” আমরা স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে মাষ্টার মশাই অনেক নীতি বাক্য বলতেন তা পরবর্তী সময়ে আমাদের জীবন গড়ার ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।আজ সেই বোধ, বিশ্বাস নেই। আমার স্মৃতিতে আজও উদ্ভাস আছে ছেলেবেলার পাঠকক্ষে পাঠশালার হেড মাষ্টার মশাই যিনি প্রায়ই কামিনী রায়ের কবিতা আবৃত্তি করতেন – আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে /সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে i কবির কথাই যেন আজও প্রাসঙ্গিক, আমাদের জীবন বোধে এই কথাই যেন আবারপ্রোথিত হউক, এটাই আমাদের পরম্পরাও ভারতীয় শাশ্বত ঐশ্বর্য।