শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / বরাক উপত্যকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

বরাক উপত্যকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায়ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়।

হাইলাকান্দি থেকে শঙ্করী চৌধুরীর রিপোর্ট

দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায়ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়। এদিন সকালে একাদশ শহীদ সরণির ভাষা শহীদ স্মারক স্থলে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়সহ বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের সদস্য ও বিশিষ্টজনেরা। এছাড়া বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের হাইলাকান্দি শহর আঞ্চলিক সমিতির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদ স্মারক স্থলে সুরজিত দেবের পৌরোহিত্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌতম রায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিশ ভট্টাচার্য্, যজ্ঞেশ্বর দেব, ইন্দিরা ভট্টাচার্য্, প্রাবন্ধিক মানিক চক্রবর্তী, কবি হরনাথ চক্রবর্তী, রীতা চন্দ প্রমুখ। এছাড়া এদিন স্বরচিত কবিতা পাঠেরও আয়োজন করা হয়।

এছাড়া হাইলাকান্দি জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদ স্মারক স্থলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা বিজেপির কর্মকর্তারা। এদিনটি পালনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন জেলা সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য্, সাধারণ সম্পাদক শান্তু সারদা, রূপক চক্রবর্তী, যুবমোর্চার জেলা সভাপতি সঞ্জয় রায়, সংখ্যালঘু মোর্চার প্রভারী গৌতম গুপ্ত প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে
অল ইন্ডিয়া ডিএসও এর হাইলাকান্দি জেলা শাখা। এদিন সকাল আটটায় শহরের মাটিজুরি পয়েন্টে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য মোমবাতি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক পরিক্রমা করে। পরে প্রিয়া সরকারের পৌরহিত্যে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন সংগঠনের হাইলাকান্দি জেলা শাখার আহ্বায়ক কাঞ্চনী সরকার। সভায় মুখ্য বক্তা হিসেবে এসইউসিআই দলের হাইলাকান্দি জেলা শাখার প্রবীণ সদস্য সুশীল পাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি উপস্থিত ছাত্র-যুবকদের তিনি উগ্র প্রাদেশিকতা বাদী চিন্তার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

হাইলাকান্দি রোটারি ক্লাবের পক্ষে সকালে বই নিয়ে পথচলায় অংশ নেন স্কুল পড়ুয়াসহ নাগরিকরা। শহরের বিভিন্ন সড়ক পরিক্রমা করে ভাষা শহীদ স্মারক স্থলে গিয়ে ভাষা শহীদ দের উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। এদিন রোটারি ক্লাবের তিন দিন ব্যাপী বই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

করিমগঞ্জ থেকে অরুপ রায়ের রিপোর্ট

বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই জারি রাখার শপথ নিয়ে করিমগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। একইসঙ্গে অন্য সব জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায়ও গুরুত্ব আরোপ করা হয় অনুষ্ঠানে।নিন্দা জানানো হয় বরাকে ভাষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাঙালি ঐক্যকে চূর্ণ করতে ধর্মকে সামনে নিয়ে আসার অপচেষ্টার। ধর্মের বিভাজন টেনে বাঙালিকে কোণঠাসা করে রাখার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে উপত্যকার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানান বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের পদাধিকারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংগঠনের করিমগঞ্জ শহর আঞ্চলিক সমিতির উদ্যোগে শম্ভুসাগর উদ্যানে ভাষা শহিদ স্মারকস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় এদিন সকালে।এরপর ভাষা শহিদ স্মারক প্রাঙ্গণে আয়োজক সংগঠনের শহর সমিতির সভাপতি সৌমিত্র পালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারী সহ সমবেত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উনিশে মে’র ভাষা শহিদরা ষাট বছর ধরে সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় সভায়। সংগঠনের করিমগঞ্জ জেলা সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ড. সুধাংশুশেখর দত্ত বাঙালির ভাষা-সস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনে ফের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন।শহর সমিতির প্রাক্তন সভাপতি আশুতোষ ভট্টাচার্য বাঙালি উৎপীড়ন বন্ধ না হলে বরাক উপত্যকাকে স্বতন্ত্র রাজ্যে পরিণত করায় গুরুত্ব আরোপ করেন। কেন্দ্রীয় সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রায় রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালিরা সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার পান না বলে উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন,কর্পাস ফান্ড বন্টনের লক্ষ্যে আহূত অর্থবছরের দুটো সরকারি বৈঠকে কোনও বাংলাভাষী সংগঠন ডাক পায়নি।তাতে আছে সূক্ষ রাজনীতি, একে প্রতিরোধ করার পরামর্শ দেন তিনি। মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বাঙালিকে বঞ্চিত করার কথায় যারা সাম্প্রদায়িকতা খুঁজে পান তাদের সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেন। মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে বাধা দেওয়ার হীনমন্যতার নিন্দা জানান করিমগঞ্জ আঞ্চলিক সমিতির সভাপতি মাশুক আহমদ।সব জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।