মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / গ্রাম বাংলার অন্যতম প্রাণের উৎসব : টুসু

গ্রাম বাংলার অন্যতম প্রাণের উৎসব : টুসু

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়।

শঙ্করী চৌধুরী ,

গ্রাম বাংলার অন্যতম প্রাণের উৎসব টুসু উৎসব বা মকর পরব। এই উৎসবের সূচনা হয় অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিনে আর পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির পূণ্যলগ্নে এর সমাপ্তি হয়। পুরো একমাস ব্যাপী এই উৎসব পালন করা হয়। লৌকিক দেবী টুসুকে কুমারী কল্পনা করে সাধারণত কুমারী মেয়েরা টুসু পূজা করে থাকে। টুসু ফসলরূপী আবাদের দেবী বলে অভিহিত। এই দেবীর পূজা কবে থেকে শুরু হয়েছে তার সঠিক তথ্য আজ অবধি পাওয়া যায়নি। তবে ধৌলি ও জৌগাডা শিলালিপিতে সম্রাট অশোকের সময়কালে এধরনের সমান্তরাল উৎসব পালনের বর্ণনা পাওয়া যায়।কৃষিভিত্তিক এই উৎসব প্রধানতঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা এবং বর্ধমান জেলার আসানসোলে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাঁওতাল পরগণা, ধানবাদ, রাঁচি ও হাজারিবাগ জেলায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। পুরনো প্রথানুযায়ী ঝাড়খণ্ড রাজ্য ও পুরুলিয়া জেলার বেশীরভাগ জায়গায় টুসু উৎসবে মূর্তির প্রচলন নেই। পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান থানা এবং বাঁকুড়া জেলার খাতড়া থানার পোরকুলের টুসু মেলায় টুসু দেবীর মূর্তি পূজার প্রচলন রয়েছে। হলুদ বর্ণের ও নীল শাড়ি পরিহিত অশ্ব বাহিনী, ময়ূর বাহিনী, শঙ্খ, পদ্ম, পাতা, বরাভয় মুদ্রার মূর্তির পূজো করতে দেখা যায়। টুসু উৎসবের অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ টুসু গান। গানের মধ্যে দিয়ে কল্পনা, আনন্দ, সুখ, দুঃখ, সামাজিক নানা অভিজ্ঞতার প্রকাশ করা হয়। কুমারী মেয়ে ও বিবাহিত মহিলারা তাদের সাংসারিক সুখ দুঃখকে গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। টুসু উৎসবের পৌষ মাসের শেষ চার দিনকে চাঁউড়ি, বাঁউড়ি, মকর এবং আখান নামে অভিহিত করা হয়। টুসু উৎসবকে ঘিরে গ্রাম বাংলার লোকেরা আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করেন।