রবিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / বিনোদন  / কিংবদন্তি লোক শিল্পী প্রতিমা পান্ডের গান আজো অনুপ্রাণিত করে ।

কিংবদন্তি লোক শিল্পী প্রতিমা পান্ডের গান আজো অনুপ্রাণিত করে ।

প্রতিমা পান্ডের বাড়িতে ১৯৫৫ ইংরেজিতে গৌরপুরে যখন ভুপেন হাজরিকা অতিথি হয়ে আসেন এবং সেখানে এক সান্ধ্য আসরে তার গান শোনে এতো মুগ্ধ হন যে পরবর্তী কালে তার প্রথম সিনেমায় তাকে প্রধান শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করেন

আশুতোষ দাস

অসমের কিংবদন্তি লোক শিল্পী প্রতিমা পান্ডে-র গান আজো মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। অসমের ধুবড়ি গৌরীপুরের জমিদার বংশের মেয়ে প্রতিমা বরুয়া পান্ডে। বিশেষত উত্তর পূর্বাঞ্চলের গ্রামীন লোক জীবনে তার প্রভাব খুবই বেশি রয়েছে। সহজ জীবন মুখী গানের বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যের জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে আজো তিনি জনপ্রিয় হয়ে রয়েছেন । উল্লেখ্য হেমাঙ্গ বিশ্বাস, ভুপেন হাজারিকা এদের সান্নিধ্য থেকে তিনি তার গানের ভুবন ঋদ্ধ করেছেন। তার গানের বিষয় আঙ্গিকে প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্যের সঙ্গে পশুপাখি, জীব জন্তুও প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিমা পান্ডের গানে বিষাদ ও বহুবৈচিত্র্যময় জীবন অন্য মাত্রায় উপস্থাপিত। “মোর অামার মাহুত বন্ধুরে ” কিংবা “মোর অামার জীবন রে” ইত্যাদি ইত্যাদি। আজও মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে , এইরকম অসংখ্য ধ্রপদী ও লোকাআশ্রিত গান তার রয়েছে। ধুবড়ি জেলার রাজপরিবারের জাত শিল্পী প্রতিমা পান্ডের ১৯৩৪ ইংরেজিতে কলকাতায় জন্ম হয়, সেখানেই গোখলে মেমোরিয়েল স্কুলে পড়াশোনার পর্ব শেষ করে তিনি গৌরপুরে চলে আসেন। উল্লেখ্য, প্রতিমা পান্ডের বাড়িতে ১৯৫৫ ইংরেজিতে গৌরপুরে যখন ভুপেন হাজরিকা অতিথি হয়ে আসেন এবং সেখানে এক সান্ধ্য আসরে তার গান শোনে এতো মুগ্ধ হন যে পরবর্তী কালে তার প্রথম সিনেমায় তাকে প্রধান শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করেন, তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা হস্তির কণ্যা-য় ।সেখান থেকে তার ক্রমে উন্নতির যাত্রা। তার বিয়ে হয় প্রিন্সিপাল গৌরশংকর পান্ডের সঙ্গে। প্রতিমা ব্রাত্যলোক জীবনের হাসি, আনন্দ, বিষাদ নিয়ে গান গেয়েছেন, তাই প্রথম দিকে তাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না। তবুও নিজের নিরন্তর চেষ্টায় তিনি সঙ্গীত সাধনার ভেতর দিয়ে আজো আমাদের মধ্যে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছেন। তার জনপ্রিয় গান গুলো হলো,এক বার হরি বলো মন রসনা/ মানব দেহের গৌরব কইরনা/ দেহতত্ত্বের সঙ্গে প্রকৃতি তার তাত্ত্বিক সুর নির্মানে অসাধারণ সুরসৃষ্টি করছে মানবিক বোধও ভালোবাসায়।


২৭ ডিসেম্বর ২০০২ এই অসাধারণ প্রতিভাধর শিল্পীর লোকান্তর ঘটে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার গানের বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। অনেকগুলো সিনেমা ছাড়াও তার অডিও ভিডিও এলবাম রয়েছে। পদ্মশ্রী ছাড়াও তিনি রাজ্যিক ও জাতীয় স্তরের অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছেন। তার বহু বৈচিত্র্য জীবন নিয়ে আজো কৌতুহলের সীমা নেই। বিশেষত প্রতিমা পান্ডের গানে বারবার মাহুত ও হাতির প্রসঙ্গ রয়েছে। তিনি তার পিতার হাতিশালায় বডো, রাভা, রাজবংশীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মাহুতদের জীবনধারা দেখে প্রাণিত হন।তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই মাহুতরাই তার গানের প্রাণশক্তি।তিনি তার পিতার হাতিশালার অন্যতম প্রধান মাহুত ভবেন সিংহ রায়ের কথা শ্রদ্ধার সহিত স্বীকার করেছেন। তার কথায় প্রথম গানের দীক্ষাগুরু তিনি।
উল্লেখ্য, মহিশের বাথান নিয়েও তার অসাধারণ লোকগান রয়েছে। পিতার নাম প্রকৃতিশ বরুয়া। গৌরীপুরে জমিদারের মহিশের বাথান ছিলো।প্রতিমা পান্ডে সেখানে তার বাবার সঙ্গে যেতেন , সেই বোধ ও তার সৃজনী গানে প্রভাব পড়েছে। আজো কিন্তু সত্যিকার অর্থে তার গানের মূল্যায়ন হয়নি।