শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / সরস্বতী পুজোর সাথে টোপা কুল খাওয়ার কি সম্পর্ক? কুল খেলে কি পরীক্ষায় অপরিহার্য ফেল ?

সরস্বতী পুজোর সাথে টোপা কুল খাওয়ার কি সম্পর্ক? কুল খেলে কি পরীক্ষায় অপরিহার্য ফেল ?

সরস্বতী পুজোর সাথে টোপা কুল খাওয়ার কি সম্পর্ক? কুল খেলে কি পরীক্ষায় অপরিহার্য ফেল ?

অনুরণ ভট্টাচার্য

ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে নাকি পরীক্ষায় নির্ঘাত ফেল করতে হবে । বাচ্চাদের জন্য সরস্বতী পুজো ছিল কুল খাবার ছাড়পত্র। বর্তমান সময়ে এই লোকাচার বা বিশ্বাসকে ঝাঁপিয়ে মানুষ অনেকটাই এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাও কুল না খাওয়ার পেছনে রয়েছে বিশাল বড় যুক্তি। বসন্ত শুরু হয় এই সময়ে, তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের পেটের রোগ, জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়তে দেখা যায় ।এই সময়ই কুল পাকতে শুরু হয়, তাই কাঁচা কুল খেলে পেট খারাপের সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া সরস্বতী পুজোর আগে আস্তে আস্তে কুল পাকতে শুরু করে, তাই সরস্বতী পুজোই কুল খাওয়ার ছাড়পত্র হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

অন্যদিকে এই টোপা কুল দেবীর অন্যতম প্রিয় খাদ্য হিসেবে দেবীর পুজোতে ব্যবহার, দেবীকে অনেকটাই আমাদের বাঙালি ঘরের একজন করে তুলে। স্বভাবতই দেখা যায় যে মেয়েরা টক খেতে বেশি ভালোবাসে। টক বা কুল জাতীয় ফলের সঙ্গে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের যেন একটা আলাদাই ভাব । তাই বিদ্যার দেবী হয়েও যিনি খুব সাধারন এই টোপা কুল খেতে ভালোবাসেন তিনি তো আমাদেরই একজন বলে ধরে নেওয়া যায়। তিনি দেবী হয়েও আমাদের ছাত্র-ছাত্রী এবং বাঙালি ঘরের খুব কাছের একজন হয়ে উঠেন।


টক-মিষ্টি স্বাদের এই পাকা কুলের রয়েছে অনেক গুণগতমান ।রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে, এর ফলে টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বার ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়।


তাছাড়া মরসুমের হাওয়া বদলের জন্য জ্বর সর্দি-কাশির মতো সমস্যা থেকে আমাদের প্রতিরোধ করে। মুখের স্বাদ বাড়াতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে এই ফলটি। কুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। টপাকুল লিউকোমিয়া ও টিউমার এর মত মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে । এটি শরীরে শক্তি যুগিয়ে অবসাদ কাটায়। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত চমৎকারী এই ফল। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য টক কুল উপকারী বলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।


ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে অপরিহার্য ভূমিকা গ্রহণ করে টোপা কুল। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা সমাধান করতে এই ফলটির জুড়ি মেলা ভার। এটি ত্বকের রুক্ষতা দূর করে ত্বককে কোমল করে। রোদে পোড়া ত্বকের সুরক্ষার কাজেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে এটি। এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফলটি বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। তাছাড়া ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের প্রতিরোধী ক্ষমতা আছে বলেও মনে করেন চিকিৎসকরা।