শনিবার, ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

NewsFile Institute
Home / Big Picture Stories  / আজো প্রাসঙ্গিক রূপকোঁওর জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়াল

আজো প্রাসঙ্গিক রূপকোঁওর জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়াল

আশুতোষ দাস ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আমরা প্রবেশ করলেও পরম্পরা সত্য এবং ধ্রুপদী সাহিত্য, শিল্প থেকে দূরে যেতে পারিনি। সময়ের কষ্টিপাথরে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে এইসব কালোত্তীর্ণ কাজগুলো। এইরকম এক বরেণ্য শিল্পী রুপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়াল। তার বহুবৈচিত্র্যময়

আশুতোষ দাস

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আমরা প্রবেশ করলেও পরম্পরা সত্য এবং ধ্রুপদী সাহিত্য, শিল্প থেকে দূরে যেতে পারিনি। সময়ের কষ্টিপাথরে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে এইসব কালোত্তীর্ণ কাজগুলো। এইরকম এক বরেণ্য শিল্পী রুপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়াল। তার বহুবৈচিত্র্যময় জীবন সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক।


অসমীয়া সিনেমার সর্বাক যুগের শুরুতে জ্যোতিপ্রসাদের শিল্পজীবন ও সৃজনী কাজগুলো আমদের আজো আশ্চর্য করে রেখেছে। তার “জয়মতী” ছিলো সমগ্র ভারতের তৃতীয় সর্বাক ছবি। অসমীয়া ছবির জনক জ্যোতি প্রসাদ আগরওয়াল ডিব্রুগড় জেলার মোদারঘাট মৌজার তামুলবাড়ি চা-বাগিচায় ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ জুন পিতা পরমানন্দের আগরওয়াল ও মাতা কিরণময়ী আগরওয়ালের গর্ভে জন্মগ্রহন করেন।পত্মীর নাম দেবযানী ভূইয়া। কলকাতা ও অসমের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন । সেই সময় দ্বিতীয় বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন এবং ন্যাশনেল কলেজ থেকে আই এ পাশ করে অর্থনীতি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯২৩ এ স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গে যান। কিন্তু পড়াশোনার পাঠ শেষ না করেই ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসেই গান্ধীজির আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে নেন এবং এরই ফলশ্রুতিতে ১৫ মাস কারাবন্দী থাকেন। শিলচর কারাগারে থাকা কালে তিনি রোগেও আক্রান্ত হন। কারাবরণ শেষে ১৯৩৩ ইংরেজি জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়াল চিত্রবন স্টুডিও স্থাপন করেন এবং সেখানেই লক্ষীনাথ বেজবরুয়ার কাহিনি নিয়ে “জয়মতী” সিনেমাটি করেন । প্রায় দু বছর সময় লেগেছিল । সিনেমাাটি করতে গিয়ে আর্থিক ভাবে তিনি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হন। শুধু তাই নয় অাশানুরূপ দর্শকও তিনি তখন পাননি। এতো পরিশ্রম করে দর্শক না পাওয়ায় কিছুটা মন ভেঙে ও যায়। ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। ১৯৩৪ এর ১০ মার্চ সিনেমাটি রিলিজ হয়েছিলো। ভারতীয় সিনেমায় “জয়মতী” সিনেমা অবশ্যই ইতিহাস হয়ে রয়েছে এবং সিনেমাটিতে অসমীয়া জাতিকে এক বৈশিষ্ট্য হিসেবে উজ্জ্বল ভাবে উপস্থাপিতও করেছে। “জয়মতী” সিনেমার রিলের দীর্ঘ, ৪০৬৭ মিটার ছিলো। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য “জয়মতী” সিনেমার রিল হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজে তার ভ্রাতা হৃদয়ানন্দ আগরওয়াল সিনেমাটির কয়েকটি রিল তাদের গাড়ির গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করেন।

সঙ্গীত সুধাকর ভুপেন হাজারিকা ছিলেন রূপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালের ভক্ত তার দ্বারা তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। এবং তার প্রযোজিত সিনেমায় অভিনয়ও করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সঙ্গীত সুধাকর রূপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদকে নিয়ে একটি অতি মূল্যবান তথ্যচিত্র তৈরি করেন যার নাম ছিল “রূপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদ অাগরওয়াল ও জয়মতী”সেটি তার সৃজনী জীবনের মূল্যায়ন করতে সাহায্য করেছে এবং নতুন প্রজন্ম তার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ভুপেন হাজারিকা জ্যোতিপ্রসাদ রচিত অনেক কবিতার আবৃত্তি ও গান করেন। সুধাকর ভুপেন হাজারিকা আবৃত্তি করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখ্য মা, লাচিতের আহ্বান, চির-বিদ্রোহী, কাঞ্চনঙ্ঘার বুরঞ্জী, নতুন ইত্যাদি।

জ্যোতিপ্রসাদ ৩০০ এর অধিক গানে লিখে সুর দিয়েছেন, শুধু তাই নয় শিশু এবং বড়দের জন্য কবিতা ও ছড়া লিখেছেন,অভিনয়েও ছিলেন পারদর্শী। “জয়মতী” সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সেই সময়ের কিংবদন্তি শিল্পীরা। পরবর্তীতে তার প্রযোজিত “ইন্দুমালতী” সিনেমাটি করে আর্থিক ভাবে সফল ও দর্শক তাকে বিপুল ভাবে গ্রহণ করে। ভারত সরকার তার সৃজন কর্মকে শ্রদ্ধা জানাতে ২০০৪ সনের ১৭ জুন থেকে শিল্পী দিবস রুপে পালন করে আসছে।

  • আশুতোষ দাস বরাক উপত্যকার বিশিষ্ঠ কবি ও প্রাবন্ধিক।